Saturday, 24 June, 2017 | ১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
ঈদে নিরাপত্তায় মেট্রোপলিটন পুলিশের আহবান…  » «   কানাইঘাটে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে যুবক খুন: মামলা দায়ের  » «   অর্থমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা, সিলেটবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ  » «   গ্যাস সিলিন্ডার: বিস্ফোরনের ঘটনা বাড়ছে, ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী  » «   খোয়াই নদীর কূল ধ্বসে দোকান-পাঠ নদীতে বিলীন হচ্ছে  » «   যে কারণে মাধবকুন্ডে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা  » «   দক্ষিণ সুরমায় ৪ জুয়াড়ি আটক  » «   গোলাপগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা  » «   সিলেটে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে জেলা প্রশাসকের র‌্যালী ও আলোচনা  » «   সিলেটে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন  » «   সিলেটের ডাক বন্ধে অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্বেগ  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ  » «   গৌরবের ৬৯ বছরে আওয়ামী লীগ  » «   মানে নয়, নামেই গলা কাটছে আড়ং  » «   রথযাত্রা উপলক্ষে সিসিকের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান  » «  
Advertisement
Advertisement

৭১ হাজার ভোল্টের শক নিয়েও সুস্থ

দৈনিকসিলেটডেস্ক: ইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ, প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাইনামিক ও স্ট্যাটিক এই দু’ভাগে ভাগ করা হয়। সাধারণত আমরা চারপাশে বিদ্যুতের যে হাজারও ব্যবহার দেখি তা সবই ডাইনামিক বিদ্যুৎ।

ডাইনামিক বিদ্যুৎ যে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক। সামান্য ভোল্টের ডাইনামিক বিদ্যুতে প্রাণীর শরীর বিদ্যুতায়িত হয় এবং এই ভোল্ট বেশি হলে মানুষসহ যেকোনো প্রাণী মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে।

এই তুলনায় স্ট্যাটিক বিদ্যুৎ প্রাণীর শরীরের জন্য কম ক্ষতিকর। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষ তার শরীরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ভোল্টের স্ট্যাটিক বিদ্যুতের শক নিতে পারে। তবে তার বেশি নয়। কারণ ৫০ হাজার ভোল্টের স্ট্যাটিক বিদ্যুতের শক একজন মানুষের শরীরে দেয়া হলে সে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

তবে এবার চীনের এক বিজ্ঞানী স্ট্যাটিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে মানব শরীরে ৫০ হাজার ভোল্টের যে সহনশীল মাত্রা তার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। তিনি নিজের শরীরে ৭১ হাজার ভোল্টের শক নিয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন।

বেইজিংয়ের চায়না অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক এই বিজ্ঞানীর নাম লিউ শাংসে। পিএলএ ডেইলির বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শাংসে খুবই বিখ্যাত। গত পঞ্চাশ বছর ধরে তিনি বিদ্যুতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা তিনি নিজের শরীরের ওপর প্রয়োগ করেন। এতে করে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবণতি হয়েছে এবং রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তবুও দমে যাবার পাত্র তিনি নন।

১৯৮৩ সাল থেকে স্ট্যাটিক বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছেন শাংসে। তিনি দেখতে চান মানুষের শরীর সর্বোচ্চ কত ভোল্টের স্ট্যাটিক বিদ্যুতের শক নিতে পারে।

বিতর্কিত এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাটি শাংসে এবং তার সহকারী দুজন মিলে করেছেন। চায়না মিডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাংসের সহকারী বলেন, ‘পরীক্ষাটি আমরা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করেছি। প্রথমে ২০ হাজার ভোল্ট থেকে শুরু করেছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে ভোল্টেজ বাড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিবার যখন শাংসের শরীর থেকে বিদ্যুৎ ডিসচার্জ করছিলাম তখন তার মাথার চুল সহ গায়ের সব পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল।’

শাংসের এই পরীক্ষা স্ট্যাটিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে মানুষের সর্বোচ্চ সহ্য ক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। পাশাপাশি এটি এমন কিছু যন্ত্র বানানোর কাজে ব্যবহার করা হবে যা দ্বারা মানুষের শরীরের কোষে কি পরিমাণ স্ট্যাটিক বিদ্যুৎ থাকে তা পরিমাপ করা যাবে। ফলে আগের তুলনায় বিদ্যুতের শক জনিত দুর্ঘটনার মাত্রা কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Developed by: