Saturday, 24 June, 2017 | ১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
ঈদে নিরাপত্তায় মেট্রোপলিটন পুলিশের আহবান…  » «   কানাইঘাটে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে যুবক খুন: মামলা দায়ের  » «   অর্থমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা, সিলেটবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ  » «   গ্যাস সিলিন্ডার: বিস্ফোরনের ঘটনা বাড়ছে, ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী  » «   খোয়াই নদীর কূল ধ্বসে দোকান-পাঠ নদীতে বিলীন হচ্ছে  » «   যে কারণে মাধবকুন্ডে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা  » «   দক্ষিণ সুরমায় ৪ জুয়াড়ি আটক  » «   গোলাপগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা  » «   সিলেটে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে জেলা প্রশাসকের র‌্যালী ও আলোচনা  » «   সিলেটে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন  » «   সিলেটের ডাক বন্ধে অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্বেগ  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ  » «   গৌরবের ৬৯ বছরে আওয়ামী লীগ  » «   মানে নয়, নামেই গলা কাটছে আড়ং  » «   রথযাত্রা উপলক্ষে সিসিকের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান  » «  
Advertisement
Advertisement

কানাইঘাটে সুরমার রাক্ষুসী থাবায় বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

কানাইঘাট সংবাদদাতা: কানাইঘাটের রাজপুর ও চলিতাবাড়ী গ্রাম দুটি নদী ভাঙ্গনে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। এখানে রাক্ষুসে সুরমা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বাড়ী ঘর,ফসলী জমি ও জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বিলীন হতে চলেছে।

ইতিমধ্যে এখানকার ৮টি পরিবার ও প্রায় ১০ একর ফসলী জমি নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় জনসাধারনের মনে দারুণ ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, রাজপুর ও চলিতাবাড়ী গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ঘর মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জনসাধারনের সড়ক পথে চলাচলের জন্য সুরমা ডাইক ব্যবহার করতে হয়। রাজপুর ও চলিতাবাড়ী  গ্রাম দুটি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আরো ৭টি গ্রাম থেকে সুরমা ডাইক দিয়ে প্রতিদিন লোকজন গাছবাড়ী বাজার হয়ে উপজেলা সদর,বিভাগীয় নগরী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন।
জনসাধারনের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হওয়ায় উপক্রম হয়েছে। কমে যাচ্ছে কৃষকের ফসলি জমি। রাজপুর গ্রামের অধিবাসী শ্যামল চন্দ্র চন্দ জানান, ইতি পূর্বে এ গ্রাম দুটির অন্তত ৮টি বাড়ী সম্পুন ভাবে সুরমার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বিলুপ্ত বাড়ীগুলোর মালিকগণ হচ্ছেন রাম চরণ নাথ,কালা নাথ,ইন্দ্রো নাথ,পাখি নাথ প্রমূখ। এছাড়া দশই পাটনি, ভরতী পাটনি ও বিশন পাটনি নামের ৩ জনের বসতঘর নদী ভাঙ্গনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে সেখানকার প্রায় ২০ টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসতঘর হারিয়ে অন্যত্র ঠিকানা তৈরী করেছেন। চলিতাবাড়ী  গ্রামের পূর্ব পার্শে¦ একটি প্রাচীন মন্দির এবং রাজপুর গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে ও দুটি হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। রাজপুর গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান বলেন ছোটবেলায় গ্রামের পূর্ব পার্শ্বের জমিতে গোল্লাছুট খেলা খেলতেন। যেখানে তারা দলবদ্ধ ভাবে খেলাধুলা করতেন সেখানে এখন নদীর অথৈ জল। বর্তমান ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান  জানান,এখানকার  প্রায় ১০ একর ফসলি জমি সুরমার অতল থলে হারিয়ে গেছে। দেখতে দেখতে নদীর তীরবর্তী অবশিষ্ট ফসলি জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

মাটির টুকরো পড়ার দৃশ্যটি দেখলে গা শিউরে উঠে। চলিতাবাড়ী গ্রামের অধিবাসী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদ হোসেন জানান, এখানকার জনসাধারনের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সুরমা ডাইক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিপুল স্খ্যংক মানুষ। এতে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সহ জনসাধারনের চলাচলের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুর রহমান জানান, বিগত বছরের ডাইকের সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু মাটি ভরাট কাজ করে কোন লাভ হয়নি। এখানকার ভাঙ্গন রোধ করতে কম পক্ষে ১শ মিটার অংশ ডাইকে ব্লক নির্মাণ অথবা পাথর ফেলা হলে সুফল পাওয়া যেতো। একই ভাবে অভিমত দিলেন চলিতাবাড়ী  গ্রামের আব্দুর রব। তিনি বলেন সারা বছরই এখানকার মানুষ নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে দিবারাত্রি যাপন করেছেন। বর্তমানে রাজপুর গ্রামে ডাইকের সন্নিকটে মাষ্টার রসময় ও চিত্ত রঞ্জনের বাড়ী গ্রাস করেছে।

এ পর্যন্ত তাদের বাড়ীর আংশিক ও অস্খ্যং গাছপালা সুরমা নদীতে বিলিন হয়েছে । এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এ দুটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীঘর বিলুপ্তি হওয়ায় আশংকা করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে জরুরী ভিত্তিতে রাজপুর ও চলিতাবাড়ী  গ্রামে সুরমা নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

Developed by: