Tuesday, 17 October, 2017 | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
মেয়রের নির্দেশে নামাজের সময় দোকানপাট বন্ধ  » «   ভূটানের রাষ্ট্রদূতের সাথে সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত  » «   টিলাগড়ে ছাত্রলীগকর্মী খুন  » «   নগরীর ফুটপাত দখলদারের তালিকা আদালতে জমা দিলেন মেয়র  » «   গোয়াইনঘাটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৪  » «   বড়লেখায় এক রশিতে প্রেমিক-প্রেমিকার ঝুলন্ত মরদেহ  » «   ‘মেহেদী কাবুল একজন দক্ষ সংগঠক’  » «   আম্বরখানায় ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা  » «   জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন: সিইসি  » «   বিরল রোগে আক্রান্ত নবীগঞ্জের তাহমিনা বাঁচতে চায়  » «   দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদেরকে নিরাপদে পথ চলার ব্যবস্থা করতে হবে:জেলা প্রশাসক  » «   নগরীর মধুশহিদ এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ  » «   রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে এ কি বললেন মিয়ানমারের মন্ত্রী!  » «   এক জেলায় ৮ নারী ইউএনও  » «   ইসলামের পথে পাকিস্তানি অভিনেত্রী  » «  
Advertisement
Advertisement

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক হুমকির মুখে

এম. এ. আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ থেকে:  সারা দিন মুষলধারে বৃষ্টির কারনে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। নবীগঞ্জের পূর্ব সীমান্তে কুশিয়ারা নদীর তীরে শেরপুর থেকে আজমেরীগঞ্জের মার্কুলি পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক পূর্ণ নির্মাণের অভাবে নবীগঞ্জের সার্বিক কৃষি ব্যবস্থার মুখ থুবড়ে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কুশিয়ারা ডাইকের শেরপুর থেকে এনায়েতগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার এলাকা। প্রতি বছর নবীগঞ্জের পাহাড়পুর ও হোসেনপুরের নিকট কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে অকাল বন্যা দেখা দেয় নবীগঞ্জ সহ ভাটি অঞ্চলে। শেরপুর থেকে আজমেরীগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণ করা হলে, ভাটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে নবীগঞ্জ, আজমেরীগঞ্জ ও বানিয়াচংগের লক্ষাধিক মানুষ। কুশিয়ারা ডাইকের জন্য অকাল বন্যা, অনাবৃষ্টিতে প্রতি বছরই ভাটি অঞ্চলের কৃষকরা মাঠের সম্পুর্ণ ফসল ঘরে তুলতে পারে না। অথচ পরিকল্পনা মাফিক আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে এ অঞ্চলের উৎপাদিত শস্য বৃহত্তর সিলেটের খাদ্য চাহিদা পূরনের অনেকাংশ সক্ষম হত বলে সচেতন মহল মনে করেন।

কৃষি প্রবাসে শ্রম বিক্রয়লদ্ধ অর্থে নবীগঞ্জ হাওয়ার কথা ছিল একটি উজ্জ্বল ও সম্বাবনাময় উপজেলা, কিন্তু তা হয়নি। ১৭০ বর্গমাইলের এ নবীগঞ্জ, প্রায় ৩৭০ টি গ্রাম  ও ৩ লক্ষাধিকেরও বেশী জনমানুষের বসবাস। উপজেলার মোট চাষের জমি ৯৫ হাজার ৪শ ১৫একর। এর মধ্যে আমন ৩৪ হাজার ১৫০ একর, বোরো ৩৩ হাজার ৯শ ৩৮ একর, দুফসলী জমি ১৮ হাজার ১৬০ একর। অবশিষ্ট ভূমিতে নানা রকম ফসল হয়ে থাকে। প্রতি বছরই বন্যা, খরা, অতি বৃষ্টি, অনা বৃষ্টিতে যে কোন মৌসুমে পুরো জমির ফসল অসহায় কৃষকরা গোলায় তুলতে পারেন না। বিভিন্ন হাওর এলাকায় কোথাও পানির অকাল, কোথাও পানির সামান্য বৃষ্টিতে বন্যা আবার কোথাও জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার একর বোরো জমি অনাবাদি থেকে যায়। উপজেলার হুসেনপুর গাং নামের খ্যাত পিলি নদী ভরাট হলে এবং এর ওপর হোসেনপুর ও আশপাশের গ্রামের কিছু মানুষ অবৈধ দখল করে ঘর বাড়ী নির্মাণ, পুকুর কেটে পানি নিস্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় বরার হাওর, রৌয়া গাং সহ উজানে আরো অনেক কয়েক এলাকার ২/৩ হাজার একর বোরো জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। একই কারণে সামান্য বৃষ্টিতে অকাল বণ্যায় আরো কয়েক হাজার পাকা ও আধা পাকা বোরো আর নীচু এলাকার আমন ফসল পানিতে তলিয়ে সয়লাভ হয়ে যায়। এ অনাকাঙ্খিত চোবলে শিকার হচ্ছে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন সহ মৌলভিবাজার বাজার জেলার কিছু অংশ। এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন যাবত এ সংস্কারের দাবী করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না।

অনুরূপভাবে পানি নিস্কাশনের অভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুশিয়ারার সংযোগ খাল মৌলভিবাজার সদর থানার খামারখালি ও সরকার বাজারের নিককট শাখা বরাক নদী দিয়ে বানের পানি প্রবেশ করে পরে পূবের হাওর খ্যাত অন্য একটি সশ্য ভান্ডারের তলিয়ে যায়। প্রায় অর্ধেক ভূমির মালিক নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ও গজনাইপুর ইউনিয়নের মানুষ সেই হাওরের পাকা ইরি ধান, বোরো আউশ ধান ও আমন প্রতি বছর বিনষ্ট হলেও এর কোন প্রতিকার হচ্ছে না। চলতি বর্ষা মৌসুমে শুরু হওয়ার পর থেকে পাহাড়পুর ও বদরপুর হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কি.মি কুশিয়ারার ডাইক নির্মান করা হলে শুধু বন্যার সমস্যাই সমাধান হতো না, স্থল যোগাযোগ ক্ষেত্রেও এক অভাবনীয় সাফল্য আসত। অতি সহজে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতাভূক্ত হতো ভাটি অঞ্চলের মানুষ। ১৯৯০ সাল থেকে কোন প্রকার সংস্কার ছাড়াই কুশিয়ারা ডাইকের উপর দিয়ে শেরপুর থেকে কশবা পর্যন্ত বিভিন্ন যান-বাহন চলাচল করায় ডাইকের ব্যপাক ক্ষতি হয়েছে। ১৯৯৩ সালের জুনের মাঝা মাঝি সময়ে কুশিয়ারার বড়া বানে পানিতে আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকূলের কাছে হঠাৎ করে কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে পরে। এভাবে প্রতি বছর কুশিয়ারার ডাইক ভেঙ্গে দীঘলবাক ও আউশকান্দি ইউনিয়নের ২০ হাজার একর ফসলী জমির ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে “মরার উপর খরার ঘা” এর মতো নবীগঞ্জের অর্ধেকেরও বেশী অংশে আঘাত হানার ক্ষমতা নিয়ে পূর্ব উত্তর সীমানা দিয়ে খারা হয়ে সমুদ্রের মতো সর্বনাশা কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন। এত সু-পরিকল্পিত ব্যবস্থায় কুশিয়ারার পানি ব্যবহার করে নবীগঞ্জের সার্বিক কৃষি ব্যবস্থাকে পাল্টে দেওয়া যেত। কিন্তু কার কোন উদ্বেগ বা পরিকল্পনা নেই। উল্লেখ্য কুশিয়ারা নদীর অভ্যাহত ভাঙ্গনে নবীগঞ্জ উপজেলার ২০ টি গ্রামের শত শত একর ফসলী জমি, ঘর-বাড়ী প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে শতাধিক পরিবার। কুশিয়ারার ভাঙ্গন এখনও অব্যাহত রয়েছে। এর শেষ পরিণতি কেউ বলতে পারে না। বিগত ১৯৯০ সালে শেরপুর থেকে আজমিরীগঞ্জের মার্কুলী পর্যন্ত ৩৫ কি.মি স্থান জুড়ে নরবের কুশিয়ারা ডাইকের উন্নয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়িত্বভার নেয়। কিন্তু আমলা তান্ত্রিক মার প্যাঁেচ তা আজ পর্যন্ত পূর্বাবস্থায় রয়ে গেছে। এদিকে পলিমাটি জমে নদীর গভীরতা অনেক কমে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি পানি এলে উপচে উঠে কুশিয়ারার দুই পাড়ের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয় এবং পশ্চিম তীরে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ডি-৩৪১-৮৩/৬৩৮তাং ০৭/০৭/৮৩ইং স্মারকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নির্দেশে ১৯৮৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২/৩১২২নং স্মারকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সিলেট সার্কেল বরাবরে ভাঙ্গন রোধে কুশিয়ারার গতিপথ পরিবর্তনের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকার একটি সুপারিশ করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। শেরপুর থেকে মার্কুলী পর্যন্ত ৩৫ কি.মি কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণ করা হলে এবং স্থানে স্থানে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা থাকলে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার সার্বিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার মনে করেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক পূর্ণ নির্মাণ করা হলে নবীগঞ্জ সহ ভাটি অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় পরির্বতন আসবে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে সৃষ্টি হবে নতুন ইতিহাস।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

উপদেষ্টা: ড.এ কে আব্দুল মোমেন
সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: