Tuesday, 12 December, 2017 | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
মহীয়ষী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী  » «   হবিগঞ্জ থেকে ৫ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার  » «   মানবাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: মেয়র  » «   ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড  » «   সিলেটে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাহাত তরফদারের মামলা  » «   সিসিক নির্বাচনে কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন  » «   বিয়ানীবাজার জুড়ে চলছে ‘তীর খেলা’ পুলিশের লোক দেখানো অভিযান  » «   লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাঈম ৬ দিন থেকে নিখোঁজ  » «   হবিগঞ্জে বৃষ্টিতে ইটভাটায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি  » «   শাল্লায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আম্বরখানায় সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করেছে দুবৃত্তরা  » «   টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব  » «   মঙ্গলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ওপেন কনসার্ট  » «   নবীগঞ্জে সরকারী জায়গায় ইলেকট্রনিক্স ইটভাটা নির্মাণ  » «   জকিগঞ্জে সুপারির বাম্পার ফলন  » «  

Advertisement

‘অনেকেই তাদের নির্যাতনে মারা যায়’

দৈনিকসিলেটডেস্ক: বিদেশের মাটিতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। এ জন্য আটক ব্যক্তির ওপর চালানো হয় নির্যাতন। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মুক্তিপণ দিলেই কেবল মুক্তি মেলে বন্দিদের। এরপর নির্যাতনের ক্ষত নিয়েই দেশে ফিরে আসে তারা। তবে কেউ কেউ সেই নির্যাতনে মারাও যান। এমন ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য জুলফিকার আলী সাজু (২৮)। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এসব তথ্য দেয়। রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় থেকে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরো দুই সদস্য মোকসেদুল হাসান সোহাগ (৩৭) ও আবদুল বাতেন (৩৪) কে। তবে চক্রের মূলহোতা মো. তাজুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদিকে এই তিন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারের পর মালয়েশিয়ায় মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক বাংলদেশিকে ছেড়ে দিয়েছে বিদেশী দালালরা।
এর আগে গত ৩০শে জুলাই মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার পূর্ব বাকুম গ্রামের জাহাঙ্গীর (২৫) কে মালয়শিয়া পাঠায় চক্রটি। পরে তাকে বিদেশী দালালের মাধ্যমে মালয়শিয়ায় আটক রেখে তার পিতা সজ্জব আলীর কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই টাকা তারা রাজধানীর দক্ষিনখান এলাকায় নিয়ে আসতে বলে। সজ্জব আলী বিষয়টি র‌্যাব-১ এ মৌখিক জানিয়ে ছেলেকে উদ্ধারে সহযোগিতা চান। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে দক্ষিণখান এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা বৃহস্পতিবার মুক্তিপণের টাকা নিতে একসঙ্গে হয়েছেন। এ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মো. জুলফিকার আলী সাজু, মো. মোকসেদুল হাসান সোহাগ এবং মো. আবদুল বাতেন (৩৪) দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশী করে ৬টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মালয়শিয়ায় আটক জাহাঙ্গীর মানবপাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের নিকট আটক রয়েছে। ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা না দিলে তাকে মুক্ত করা যাবে না। তবে মালয়েশিয়ার বিভিন্নস্থানে ওই দালালদের জিম্মায় জাহাঙ্গীরসহ আর কতজন রয়েছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। গ্রেপ্তারকৃত জুলফিকার আলী সাজুর বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানিয়েছে, তারা এভাবে ভিকটিমদের আটক করে অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায়। ইতিপূর্বে এই নির্যাতনে অনেকে গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে মারাও গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব আরো জানতে পারে, তারা নৌ-পথে ট্রলার ও ছোট ছোট নৌ-যানে মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল লোকদেরকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে লোক সংগ্রহ করে বিদেশ পাঠাতো। পরে বিদেশী দালালদের মাধ্যমে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে নির্যাতন করতো। জুলফিকার আলী সাজু  আরো জানিয়েছে, মানবপাচারকারী দলের মূল হোতা পলাতক আসামী মো. তাজুল ইসলাম (৩৫) এর মাধ্যমে তারা বিদেশে লোক পাঠায়। এদিকে চক্রের এই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর দেশে অবস্থানরত সংঘবদ্ধ চক্রটি ভীত হয়ে পড়ে। এরপর তারা জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে কোন মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছে। ওইদিন রাত ১১টার দিকে র‌্যাবকে এ কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরের পিতা সজ্জব আলী। বর্তমানে জাহাঙ্গীর মালয়শিয়ায় অবস্থানরত তার চাচাতো ভাই মো. রাজীব হোসেনের কাছে নিরাপদে অবস্থান করছেন।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: