Sunday, 19 November, 2017 | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
কান থেকে ডিভাইস পড়ে ধরা খেলেন শাবিতে ভর্তিচ্ছু দুই শিক্ষার্থী!  » «   শাহজালালের মাজারের কুপের পানিকে জমজমের পানি বলে প্রতারণা: তদন্তের নির্দেশ আদালতের  » «   মৌলভীবাজারে অবাধে চলছে পাহাড় কাটা  » «   কিংবদন্তি নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী  » «   নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে:জেলা প্রশাসক  » «   আম্বরখানায় ছাত্রলীগ ও অটোরিক্সা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, অবরোধ  » «   সম্মানিত হয়েছে ইউনেস্কো : ড. জাফর ইকবাল  » «   সিলেট মহানগর বিএনপির আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   খাদিমপাড়ায় টিলাকাটার অভিযোগে একজনকে দুইলক্ষ টাকা জরিমানা  » «   জৈন্তাপুরে বেকারদের জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস চালু  » «   এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন: ২৯ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জড়িত  » «   ওসমানী মেডিকেলের ইর্মাজেন্সী গেইটে অটোরিক্সা ভাংচুর  » «   যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে  » «   সিলেটে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ  » «   সিলেটে শতকোটি টাকা ব্যয়ে ইসকন মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  » «  

 

Advertisement
Advertisement

এক জেলায় ৮ নারী ইউএনও

দৈনিকসিলেটডেস্ক:ওরা আটজন, সবাই নারী। সব বাধা পেরিয়ে উন্নয়ন-অগ্রগতির মিছিলের সামনে তারা। হাতে উড়ছে বিজয়ের পতাকা। কণ্ঠে জাগরণের গান। কিশোরগঞ্জের আট উপজেলায় সূর্য রচনা করে চলেছেন এই স্বপ্ন-কন্যারা। হাওরবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের কাছে প্রশাসন ছিল অনেকটাই ভোগান্তি আর আতঙ্কের নাম। পারতপক্ষে কেউ এর দ্বারস্থ হতে ইচ্ছুক ছিল না। সেই জনপদ আজ সিক্ত নারীর মমতায়। প্রশাসন আজ একেবারে জনমানুষের কাছাকাছি। মানুষ প্রশাসনকে ভাবছে নির্ভরতার আশ্রয়স্থল হিসেবে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসে থাকা নারী কর্মকর্তার কল্যাণে।

কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলা প্রশাসনের আটটিতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই নারীরা ইউএনওগিরি না করেও সবাইকে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তবে একেকজন একেক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন— কেউ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কেউবা নারীর উন্নয়ন, কারো অগ্রাধিকার মাদক নির্মূল ও কর্মসংস্থান। কেউ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে।

এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক এনায়েত করিম অমি বলেন, ‘এটা কিশোরগঞ্জের জন্য গর্বের বিষয়। নারী ইউএনওদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে এখানকার বেশির ভাগ উপজেলা। এটা নারী অগ্রগতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা।’

জেলা প্রশাসন জানায়, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মাহমুদা, তাড়াইলে সুলতানা আক্তার, পাকুন্দিয়ায় অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কটিয়াদীতে ইসরাত জাহান কেয়া, মিঠামইনে তাসলিমা আহমেদ পলি, বাজিতপুরে সোহানা নাসরীন, কুলিয়ার চরে ড. ঊর্মি বিনতে সালাম ও ভৈরবে দিলরুবা আহমেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কুলিয়ার চরের ইউএনও ড. ঊর্মি বিনতে সালাম সারা বিশ্বে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক ক্লাসের আয়োজন করে সুনাম কুড়িয়েছেন। তা ছাড়া শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় শিক্ষা পদক। শুধু তিনি নন, নারী ইউএনওদের সবাই নিজ নিজ উপজেলায় উন্নয়ন-অগ্রগতির কর্মযজ্ঞে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

হাওরাঞ্চলের প্রথম নারী ইউএনও তাসলিমা আহমেদ পলি প্রত্যন্ত হাওর মিঠামইনের দায়িত্বে রয়েছেন। এই উপজেলা প্রশাসনে একমাত্র নারী কর্মকর্তা তিনি। দুর্গম এলাকা বলে এখানে পুরুষ কর্মকর্তারাও থাকতে চান না। অথচ একজন নারী হয়ে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছেন তিনি।

তাসলিমা আহমেদ পলি বলেন, ‘হাওর এলাকায় কাজ করি বলে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। বরং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি—এটাই আমাকে আনন্দ দেয়।’

অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার লোকজন কখনো নারী ইউএনও দেখেনি। তাই মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বিশেষ করে মেয়েদের কৌতূহল বেশি। আমাকে দেখে যদি তারা অনুপ্রাণিত হয় নিজেকে ধন্য মনে করবো।’

করিমগঞ্জের ইউএনও মাহমুদা এ বছরের ২১ মার্চ আগের ইউএনও আছমা আরা বেগমের স্থলাভিষিক্ত হন। এখানে দায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তিনি জানালেন, সবার সহযোগিতা পাচ্ছেন। উপজেলার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে চান তিনি। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই তার প্রথম অগ্রাধিকার।

‘লেডি অফিসার বলে কোনো কথা নেই। আমাদের দায়িত্ব ২৪ ঘণ্টার। আমরা ওইভাবে পরিবারকে ম্যানেজ করে কাজ করি। যখনই ডাক পড়বে তখনই ছুটতে হবে—এটা সব সময় মাথায় থাকে আমার। এসব কারণে পরিবার কিছুটা বঞ্চিত হয়। আমার কর্মকৌশল হচ্ছে সবাইকে নিয়ে কাজ করার। নারী হওয়ায় স্বভাবতই নারীদের ব্যাপারে আমার বিশেষ দৃষ্টি থাকে।’ নিজের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে কথাগুলো বলেন তাড়াইলের ইউএনও সুলতানা আক্তার।

করিমগঞ্জ ও তাড়াইলের সংসদ সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমার দুই উপজেলাতেই প্রশাসনের দায়িত্বে আছেন দুজন নারী কর্মকর্তা। তারা খুবই দায়িত্বশীল ও কর্মঠ। সরকারের রুটিন কাজকর্ম থেকে উন্নয়ন—সবই তারা নিপুণ হাতে দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।’

কুলিয়ার চরের ইউএনও ড. ঊর্মি বিনতে সালাম জানালেন, তিনি কুলিয়ার চরের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে দেখতে চান। এজন্য ৩০০ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও ঝরে পড়া রোধে দিনরাত কাজ করছেন। এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আরো সেবামুখী করার চেষ্টা করছেন। এসব কাজে স্থানীয় জনমানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন তাকে অনুপ্রাণিত করছে।

ভৈরবের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে একটা বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালাতে গিয়েও কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি আমাকে।’

পাকুন্দিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধ থাকলেও অন্নপূর্ণা দেবনাথ ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর তা অনেকটাই কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আর নারীরা সমন্বয় করে কাজ করতে পছন্দ করে, আমিও তাই করি। স্বামী-সংসারও একই গতিতে চলছে। ইউএনও হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা নারী অগ্রযাত্রা ও জাগরণেরই ফসল। বাংলাদেশের নারীরা আরো অনেকদূর যাবে।’

কটিয়াদীর ইউএনও ইসরাত জাহান কেয়া ও বাজিতপুরের ইউএনও সোহানা নাসরিন উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে সম্প্রতি কর্মস্থলে এসেছেন। কেয়া এর আগে ঢাকায় পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর হোসেনপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছিলেন সোহানা। দায়িত্ব পালনের শুরুতেই তারা স্থানীয় রাজনীতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। দুই কর্মকর্তার বক্তব্য প্রায় একই-মানুষকে সেবা দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে কাজ করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার ১৩ উপজেলার আটটিতেই নারীরা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি অনন্য এক উদাহরণ। সফল এসব নারী নিজেদের যোগ্যতায় এই অবস্থানে এসেছেন। যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে উপজেলাগুলোর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সামাল দিচ্ছেন। এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। আমি তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতায় সন্তুষ্ট।’

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: