Wednesday, 22 November, 2017 | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুরে গুলি, কার্তুজসহ ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার  » «   ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ সফলের লক্ষে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা  » «   নবীগঞ্জে ৩ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যা ॥ আহত ২  » «   আ’লীগ নেতা বিজিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা  » «   ‘তারেক রহমানের নাম’ আবারো ভুল করলেন মেয়র আরিফ!  » «   সুরমা নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনায় সিসিকের উচ্ছেদ অভিযান  » «   ‘স্প্রে পার্টি’ এখন সিলেটে, সাবধান…  » «   আজ জকিগঞ্জ শত্রু মুক্ত দিবস: রাষ্টীয় স্বীকৃতির দাবী  » «   ‘একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে’  » «   প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় শায়েস্তাগঞ্জে উৎসবের আমেজ  » «   এমপি সেলিম উদ্দিনের রোষানলে ট্রাফিক পুলিশ!(ভিডিও সহ)  » «   সিসিকের গাড়ি কেলেংকারী : আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন  » «   মৌলভীবাজারের ৫ আসামির রায় যেকোনো দিন  » «   নেতাকর্মীর ‘কদর’ বাড়ছে মেয়র পদপ্রার্থীর কাছে  » «   খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তীর জাল সনদ: তোলপাড়  » «  

 

Advertisement
Advertisement

টাংগুয়ার হাওরে চলছে গাছ কাটা ও মাছ শিকার

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে প্রতিদিনেই অবৈধ ভাবে প্রকাশে দিন দুপুরে বেড় জাল,কোনা জাল দিয়ে মাছ ধরছে স্থানীয় জেলেরা। আর হাওরের হিজল,করছ সহ বিভিন্ন গাছ কেটে নিচ্ছে স্থানীয় চোররা। যেন দেখার কেউ নেই।

অভিযোগ উঠেছে হাওর পাড়ের বাসীন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের কে গাছ কাটা, মাছ ও পাখি শিকার করার উৎসাহ প্রদান, ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযানের খবর অগ্রিম জানানো সহ সব ধরনের সহযোগীতা করছে কিছু সংখ্যাক কমিউনিটিগার্ড, আনসার সদস্য, এনজিও সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন অর্থের বিনিময়ে। তারা স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে প্রতি নৌকা ৩-৫শত টাকার বিনিময়ে প্রতি রাতে প্রায় ২শত থেকে ৩শত মাছ ধরার নৌকা হাওরে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়।

এছাড়াও দিনের বেলার কোনাজাল, বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য ১হাজার থেকে ২হাজার টাকা দিয়ে মাছ ধরছে প্রকাশ্যে। আর জেলেরা কারেন্ট জাল সহ মাছ ও পাখি শিকার করার অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়ে নিরাপদে দিনে ও রাত ভর মাছ ধরছে। হাওর থেকে ফিরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে চড়া দামে। এতে করে ধংশ হচ্ছে টাংগুয়ার হাওর।

জানা যায়, আর্ন্তজাতিক রামসার সাইট খ্যাত টাংগুয়ার হাওরের ১৮টি মৌজায় ৫২টি হাওরের সমন্বয়ে ৯৭২৭হেক্টর এলাকায় ৮৮টি গ্রামে ৬১হাজার মানুষের বসবাস। পাড়ের বসবাসকারী এই সব মানুষ শুষ্কমৌসুমে(৬মাস) এক ফসলী বোরো জমি চাষাবাদ,বর্ষা মৌসুম (৬মাস) আর প্রায় সারা বছর মাছ শিকার ও শীত মৌসুমে পাখি শিকার করে। পরে স্থানীয় বাজার ও এলাকার পাইকারদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। আর পাইকাররা জেলেদের কাছ থেকে ক্রয় করে মাছে বরফ দিয়ে ও পাখি বস্তায় ভড়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা সদর,ভৈরব ও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে করে প্রায় মাছ ও পাখি শুন্য হয়ে পড়েছে।

সূত্রমতে, টাংগুয়ার হাওর কে ১৯৯৯সালে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষনা করা হয়। পরে ২০০০সালের ২০জানুয়ারী রামসার সাইট হিসাবে ঘোষনা করা হয়। ২০০৩সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় হাওরের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্থবায়নের উদ্যোগ নেয়। এর পরও কোন প্রকার উন্নতি হয় নি। হাওর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,হাওরে প্রতিদিন কোনা জাল,বেড় জাল দিয়ে প্রকাশে মাছ ধরছে জেলেরা দায়িত্বে থাকা লোকজনের সাথে টাকার বিনিময়ে আতাত করে। টাংগুয়ার হাওরের রক্ষকরাই এখন বক্ষক তাহলে টাংগুয়ার হাওর ঠিকে থাকবে কি করে।

১৯৯৯সালে হাওরে ১৪১প্রজাতির মাছ, ২শত প্রজাতির উদ্ভিদ, দু-শত ১৯প্রজাতির পাখি, ৯৮প্রজাতির পরাযায়ী পাখি, ১২১প্রজাতির দেশিও পাখি, ২২প্রজাতির পরাযায়ী হাঁস, ১৯প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রানী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১১প্রজাতির উভচর প্রানী বিচরন করত ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালাও এসব এখন হুমকির মুখে। সাদেক আলী, রফিকুল ইসলাম সহ উপজেলার সচেতন হাওর বাসীরা মনে করেন-হাওর পাড়ের বাসীন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করলে ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার-প্রচারনা ব্যবস্থা করলে পর্যটন সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওর তার ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে। তা না হলে টাংগুয়ার হাওর দিন দিন মাছ,পাখি ও গাছ-পালা শূন্য হয়ে পড়ছে আরো শুন্য হয়ে পড়বে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, পর্যটন সমৃদ্ধ ঐতিয্যবাহী টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি শিকার, গাছকাটা বন্ধ করে রক্ষা করার জন্য আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত আছে। হাওর পাড়ের প্রতিটি গ্রামে সচেতনতার সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা, সমাবেশ করতে হবে। টাংগুয়ার হাওরের ঐতিয্য রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ঐ এলাকার জনসাধারনের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করাও এখন গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

টাংগুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, টাংগুয়ার হাওরে অবৈধ ভাবে মাছ ও পাখি শিকারের খবর পেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তা প্রতিহত করা হয় তা অব্যাহত থাকবে। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: