Wednesday, 22 November, 2017 | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুরে গুলি, কার্তুজসহ ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার  » «   ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ সফলের লক্ষে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা  » «   নবীগঞ্জে ৩ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যা ॥ আহত ২  » «   আ’লীগ নেতা বিজিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা  » «   ‘তারেক রহমানের নাম’ আবারো ভুল করলেন মেয়র আরিফ!  » «   সুরমা নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনায় সিসিকের উচ্ছেদ অভিযান  » «   ‘স্প্রে পার্টি’ এখন সিলেটে, সাবধান…  » «   আজ জকিগঞ্জ শত্রু মুক্ত দিবস: রাষ্টীয় স্বীকৃতির দাবী  » «   ‘একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে’  » «   প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় শায়েস্তাগঞ্জে উৎসবের আমেজ  » «   এমপি সেলিম উদ্দিনের রোষানলে ট্রাফিক পুলিশ!(ভিডিও সহ)  » «   সিসিকের গাড়ি কেলেংকারী : আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন  » «   মৌলভীবাজারের ৫ আসামির রায় যেকোনো দিন  » «   নেতাকর্মীর ‘কদর’ বাড়ছে মেয়র পদপ্রার্থীর কাছে  » «   খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তীর জাল সনদ: তোলপাড়  » «  

 

Advertisement
Advertisement

সালমান কী নতুন করে সৌদি আরবের ইতিহাস লিখছেন?

বাসের নাফি: সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান দেশটিকে ‘মধ্যপন্থী’ ইসলামের দিকে পরিচালিত করতে তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি সম্প্রতি গার্ডিয়ানকে দেয়া একটি সাক্ষাত্কারে নিশ্চিত করেছেন।

প্রিন্স অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানান, সৌদির রক্ষণশীল, চরমপন্থার প্রবণতাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা এবং দেশটি মাত্রই ৩০ বছর আগে ফিরে গিয়েছিল। তিনি যোগ করেন যে, ইরানী বিপ্লব দ্বারা সৃষ্ট আবহাওয়ার বাইরে থেকে এটি জন্ম নিয়েছে।

রাজ্যের সাবেক নেতারা এসব ঘটনা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন- তা বলতেও বিন সালমান কোনো দ্বিধা করেননি এবং তিনি এই অবস্থার ইতি টানতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ- তা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন।

 

তিনি বলেন, ‘গত ৩০ বছরে যা ঘটেছে তা সৌদি আরবের নয়। এই অঞ্চলে যা কিছু ঘটেছে তা মধ্য প্রাচ্যের নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছিল; যারা অন্যান্য দেশে ওই মডেলটি কপি করতে চেয়েছিলেন। সৌদি আরবও ছিল ওই সব দেশের একটি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমনকি এটিকে কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় তা আমরা জানতাম না এবং সমগ্র বিশ্ব জুড়ে সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়ে। এখন সময় এসেছে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার।’

বিন সালমান আরো বলেন, ‘আমরা কেবল সেখানে ফিরে যাচ্ছি; যা আমরা অনুসরণ করছিলাম আর সেটি হচ্ছে মধ্যপন্থী ইসলাম। বিশ্ব ও অন্যান্য ধর্মের জন্য ইসলাম উন্মুক্ত। চরমপন্থীদের মোকাবেলায় আমরা আমাদের জীবনের আরো ত্রিশটি বছর হারাতে চাই না। আমরা এই চরমপন্থাকে এখনই এবং অবিলম্ব ধ্বংস করব।’

সৌদি ইতিহাসের বিন সালমান সংস্করণ
গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বিন সালমান যা বলেছিলেন- এই হচ্ছে তার সারমর্ম। তার এই পরিকল্পনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

যাইহোক, গত ২৬ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে বিন সালমান ছিলেন আরো বেশি স্পষ্ট। তিনি শাওয়া আন্দোলনকে (ওহাবি আন্দোলন) সব ধরনের খারাপের মূল বলে চিহ্নিত করেন।

উভয় ক্ষেত্রেই মোহাম্মদ বিন সালমানের বক্তব্য শুধু রাজনীতি নয়, একটি ইতিহাসও বটে। যাইহোক, বিন সালমানকে এখন দেশটির চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তিনি কিছু নীতি ঘোষণা করেছেন এবং দেশটির তিন দশকের ইতিহাসে তার নিজস্ব সংস্করণের মাধ্যমে এসব নীতির ন্যায্যতা প্রমাণ করার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তবে, রাজ্যের পরিচিত ইতিহাসের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের নিজস্ব সংস্করণ কতটুকু একমত?

প্রথম সৌদি স্টেট যেটি ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে ১৯ শতকের দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। শেখ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল-ওয়াহাব এবং দারিয়ার আমির মোহাম্মদ বিন সৌদের মধ্যে সৃষ্ট একটি জোটের মাধ্যমে এর জন্ম হয়।

কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে আবদুল-ওয়াহাবের শিক্ষাগুলো নাজদ অঞ্চল ও এর বাইরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, যেটিকে ইসলামি অন্যান্য মুসলিম উলেমারা সুন্নি ঐতিহ্যের একটি বিচ্যুতি হিসেবে দেখেছে।

শেখ ওয়াহাবের শিক্ষাগুলো কেবল নাজদের অধিকাংশ উলামা কর্তৃকই বিরোধিতার সম্মুখীন হয়নি, বরং তিনি তার নিজের বাবা ও ভাইয়ের দ্বারাও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তার পরেও তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি খুব শিগগিরই নাজদের অনেক মুসলিম তরুণ ছাত্রদেরকে আকৃষ্ট করে। তারা শেখের দৃঢ়তা এবং তার ধারণার আধ্যাত্মিকতার প্রকৃতিকে সাধুবাদ জানায়।

সৌদি-ওয়াহাবি জোট
মৌলবাদী ধারণা এবং দমনমূলক শক্তির মধ্যকার এই চরিত্রগত সংঘ শুরু থেকেই সৌদি-ওয়াহাবি জোটে অঙ্কিত হয়েছিল।

১৯ শতকের দ্বিতীয় দশকে মিশরের তৎকালীন অটোমান গভর্নর মোহাম্মদ আলীর সেনাবাহিনী প্রথম সৌদি রাষ্ট্রকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে সক্ষম হন। এর কয়েক বছর পরে এবং মিশরীয়-অটোমান সম্পর্কে ফাটলের কারণে সৌদিরা নাজদে তাদের রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণ করেছিল। দ্বিতীয় রাষ্ট্রটি ১৮৯০-এর দশক পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। ওই সময় হাইল প্রদেশের শাসক আল-রশিদের সঙ্গে যুদ্ধে রাষ্ট্রটি ধ্বংস হয়ে যায়।

যদিও প্রথম রাষ্ট্রটি চরিত্রগতভাবে মৌলবাদী ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উনিশ শতকের ওয়াহাবি পণ্ডিতদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের লেখাগুলো আরো বেশি মৌলবাদী ছিল। মুহম্মদ আলীর সৈন্যবাহিনী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর পণ্ডিতদের নানা দুর্ভোগ সহ্য এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রের ক্ষমতার জন্য দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রাম তাদের আরো বেশি মৌলবাদী হতে প্রভাবিত করেছিল।

১৯০৩ সালে তরুণ আবদ আল-আজিজ আল-সউদ রিয়াদে আল-রশিদের শাসনের অবসান ঘটাতে সক্ষম হন এবং তৃতীয় রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান রাষ্ট্রের কাছে পরাজয়ের আগ পর্যন্ত যদিও আবদ আল আজিজ তার রাষ্ট্রকে আরব উপদ্বীপের মধ্য বিস্তার ঘটাতে সক্ষম হননি।

১৯৩২ সালে বেশ কয়েকটি অভিযানের পর তিনি সমগ্র নাজদ, ইশা, হিজাজ ও আসিরের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে সক্ষম হন। এরপর আবদ আল আজিজ দখলকৃত সকল রাজ্যগুলোকে নিয়ে সৌদি কিংডম ঘোষণা করেন; যেটি আজকের সৌদি আরব হিসেবে আমরা দেখছি।

আব্দুল আজিজের তৃতীয় রাষ্ট্র বাস্তবায়নে সহায়তাকারী পণ্ডিতদের অধিকাংশ উনবিংশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ওয়াহাবি মৌলবাদ এবং বহির্মুখী প্রান্ত দ্বারা রাষ্ট্রটির আকৃতি দেয়া হয়। আব্দুল আজিজের সেনা বাহিনী, তার বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মরুভূমির জনগোষ্ঠীর থেকে অনেক বেশি তরুণ যোদ্ধা ছিল। তারা তাদের বিশ্বাসে কঠোর নীতিপরায়ণ এবং ওয়াহাবি শিক্ষার জন্য আরো বেশি উৎসর্গীকৃত ছিলেন।

যাইহোক, নতুন রাষ্ট্রটি বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের চেয়ে একটি ভিন্ন ছায়ায় স্থাপিত হয়েছিল; যার ভিত্তি ছিল জাতি-রাষ্ট্র এবং তার সার্বভৌমত্ব ছিল। এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের যুগ। এর ফলস্বরূপ, তৃতীয় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ এবং তার অনুসারী ও রাষ্ট্রের পণ্ডিতদের একটি বড় অংশের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য ছিল।

১৯২৪ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে হিজাজের শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর আবদ আল আজিজ তার অনুসারীদের নির্দয়তা এবং ধর্ম ও ইসলামিক সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে তাদের নিজস্ব ধারণা আরোপের চেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।

ভাল কাজকে অন্তর্ভূক্ত এবং মন্দ কাজকে নিষিদ্ধ করার জন্য আজিজ একটি সরকারি ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল্যবোধ প্রয়োগের দায়িত্ব আবদ আল-আজিজ রাষ্ট্রকে দিয়েছিলেন, কোনো স্বতন্ত্র নাগরিককে নয়।

তার অনুসারীরা তৎকালীন ব্রিটিশ ও ফরাসি নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরাক, জর্ডান ও সিরিয়ার সীমান্তকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে আবদ আল-আজিজ ১৯২০-এর দশকের শেষের দিকে তার বাহিনীর প্রধান ওয়াহাবি ইখওয়ানের বিরুদ্ধে তিক্ততাপূর্ণ যুদ্ধ শুরু করেন।

তারপর থেকে নতুন সৌদি রাষ্ট্রের মধ্যে দুটি প্রধান ঐতিহ্য জন্মলাভ করে। প্রথম ঐতিহ্যটি ১৯ শতকের দুঃখজনক ঘটনাগুলোকে ভুলে যেতে পারত না। ওই সময়ে রাষ্ট্রটির ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়, তার নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং তার পণ্ডিতদের নির্বাসন দেয়া হয়েছিল এবং শাসকের প্রতি আনুগত্যের বিশ্বাস এবং শাসন ও স্থিতিশীলতাকে অন্য সবকিছুর উপরে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল।

দ্বিতীয় ঐতিহ্যটি ওয়াহাবি শিক্ষা ও মূল মূল্যবোধের প্রতি অনুগত ছিল। সাংস্কৃতিকভাবে যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য ছিল না এবং তাদের গ্রন্থগুলোর মধ্যেও খুব বেশি অসঙ্গতি ছিল না। কেননা তারা উভয়েই ছিল ওয়াহাবি।

নতুন রাষ্ট্রের আলোকে তাদের মধ্য পার্থক্যগুলো ছিল রাজনৈতিক অভিব্যক্তি সম্পর্কিত। যেহেতু উভয় স্রোতের মূল এক এবং অভিন্ন। সে কারণে সেখানে সবসময় একটি ধূসর এলাকা থাকত যেখানে তাদের প্রত্যেকের সীমানা আলাদা করা কঠিন ছিল।

এই দুটি স্রোত তার আধুনিক ইতিহাসে প্রায় এক শতাব্দী ধরে রাজ্যের ইসলামি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করেছিল। একদিকে ছিল ওয়াহাবি উলেমাদের আজ্ঞাবহ এবং বিশ্বস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, সেখানে ওয়াহাবি বিরোধিতাও ছিল। যেটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশ করত। তারা যোগাযোগের নতুন মাধ্যম চালু করার বিরুদ্ধে, রেডিও ও টেলিভিশনের বিরুদ্ধে, মেয়েদের জন্য স্কুল তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

এছাড়াও, তার দেশজুড়ে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ছিল। ১৯৭৯ সালে এই বাহিনী রাষ্ট্রের প্রতি অবাধ্যতাস্বরূপ মক্কার হারাম শরীফ দখল করে নেয়।

শার্কফোরাম ডট ওআরজি অবলম্বনে

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: