Wednesday, 13 December, 2017 | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
সোনালী ব্যাংকের নামফলকে এখনো ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’  » «   ‘এদেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই’  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ  » «   সিলেটে যে অস্ত্রে কাবু রাজনীতিকরা  » «   শিবির তাড়িয়ে ওসমানী মেডিকেলে ছাত্রাবাসের কক্ষ দখলে নিল ছাত্রলীগ  » «   আমেরিকায় বন্ধ হচ্ছে পারিবারিক চেইন ভিসা!  » «   বিদ্যুতের খুটি পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   ঢাকাকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রংপুর  » «   ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রান্সফর্মারে আগুনে ক্ষতি ৩০ কোটি টাকা, তদন্ত কমিটি  » «   রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  » «   হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   মহীয়সী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী  » «   হবিগঞ্জ থেকে ৫ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার  » «   মানবাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: মেয়র  » «   ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড  » «  

Advertisement

সিলেটে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদদের সম্মাননা প্রদান

দৈনিকসিলেটডটকম: নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী বলেছেন, সিলেটের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিকতাসহ সকল ক্ষেত্রে আসাম অঞ্চলের মানুষের সাথে অভূতপূর্ব সাদৃশ্য বিদ্যমান। দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এমন সাদৃশ্য আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এমনকি করিমগঞ্জ, আসাম, শিলচর কিংবা শিলং-এর মানুষের সিলেট অঞ্চলের প্রতি আন্তরিকতা অসম্প্রদায়িকতার ভীতকে আরো মজবুত করে। সাহিত্য-সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এমন আবেগ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমাদের এই আবেগকে দৃঢ় করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে।
পান্ডুলিপি প্রকাশন ও কাকন ফকির ফাউন্ডেশন, সিলেট-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বরেণ্য শিক্ষাবিদদের সম্মাননা প্রদান এবং সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘পাণ্ডুলিপি’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পান্ডুলিপি প্রকাশন, সিলেট-এর চেয়ারম্যান লেখক-সংগঠক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সলের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দরগাহ গেইটস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী, প্রফেসর ড. বেলা দাশ, ড. দেবার্শিস ভট্টাচার্য, ড. প্রিয়কান্ত নাথ, ড. বরুণজ্যোতি চৌধুরী, ড. রামী চক্রবর্তী, ড. রমাকান্ত দাশ, নিলামবাজার কলেজ, করিমগঞ্জ-এর বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সর্বজিৎ দাশ এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজ, সিলেট-এর উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর মোহাম্মদ আজিজুর রহমান লস্কর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-গবেষক প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, কবি লাভলী চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, লেখক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী, কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী, আল ইসলাহ-এর সম্পাদক কবি আবদুল মুকিত অপি এডভোকেট, দৈনিক শুভ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক কবি খালেদ-উদ-দীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মীম হোসাইন এবং কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফরহাদ হোসেন, শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কাকন ফকির ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী লেখক দিলওয়ার হোসেন দিলওয়ার। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং উপহার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘পাণ্ডুলিপি’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সিলেটের কবি, সাংবাদিক এবং সাহিত্যিকগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ পরিদর্শন করেন এবং সাহিত্য ক্ষেত্রে এর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, সিলেট এবং আসামের মানুষের সবকিছুতে এমন সাদৃশ্যকে মজবুত করে মনুষ্যতে¦র প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে কাজ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীতে নতুন প্রদীপ জ্বালাতে সকল সম্প্রদায়িকতাকে দূরে বাঙ্গালী হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। আজকে এখানে এসে যে সম্মানের অধিকারী হলাম, তা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এমন আবেগ সেতুবন্ধনকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রফেসর ড. বেলা দাস বলেন, আমাদের মধ্যে আঞ্চলিক বিভাজন হলেও মনন এবং চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে বিভাজন হয় নি। দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য মানবিকতার চেতনায় উজ্জ্বীবিত করে। সিলেটের মানুষের এমন আন্তরিকতায় সত্যিই মুগ্ধ যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যের ধারায় রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে ধারণ করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রফেসর মোহাম্মদ আজিজুর রহমান লস্কর বলেন, বিশ্বে মানুষ হিসেবে আমরা একই। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং মমত্ববোধ মনুষ্যত্বকে প্রকাশ করে। সিলেট অঞ্চলের মানুষের সাথে আসামের মানুর্ষে এমন সম্পর্ক হৃদয়কে প্রফুল্ল করে। আজকের এই অনুষ্ঠান আমার হৃদয়ে চির জাগ্রত থাকবে।

ড. দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা ভালোবাসাকে আটকিয়ে রাখা যায় না। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল আজকের এই আয়োজন। সিলেট অঞ্চলের মানুষের চিন্তা-চেতনা এবং আসামের মানুষের চিন্তা এক ও অভিন্ন। আমাদের আবেগ ভালোবাসাময়, হৃদ্যতার।

প্রফেসর নন্দলাল শর্মা বলেন, দুটি দেশের মধ্যে ভাষার বন্ধন একই। আমাদের যেমন ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের রক্তগাথা আছে, ঠিক তেমনি আসামের মানুষের ও সংগ্রামমুখর ইতিহাস আছে। তাই সিলেট ও আসাম একই সূত্রে গাঁথা।
ড. প্রিয়কান্ত নাথ বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে সকলের আশীর্বাদ নিচ্ছি। সীমান্তের কাঁটাতার আমাদের সম্পর্ককে দূর্বল করতে পারবে না। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিকতা, ভালোবাসা সত্যিকার মানুষ হিসেকে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ড. বরুণজ্যোতি চৌধুরী বলেন, বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল ভাইয়ের এমন আয়োজনে সত্যিই আমরা অভিভূত। যা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। চিন্তা-চেতনা, ভাষা-সংস্কৃতি এবং রুচিশীলতা সবকিছু মিলিয়ে আমরা এক ও অভিন্ন। মানবিকতার বন্ধনে চির আবদ্ধ আমরা।

কবি লাভলী চৌধুরী বলেন, আসামের মানুষ আমাদের আত্নার আত্নীয়। আমাদের মধ্যে এই আত্নীয়তা চিরদিন বজায় থাকবে এটাই প্রত্যাশা করি।

ড. রামী চক্রবর্তী বলেন, আমাদের দুটি দেশের মানুষের সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন । এমন আয়োজনের মাধ্যমে আজকে আপনারা আমাদেরকে যা দিলেন তা আমাদের উৎসাহকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সত্যিই আবেগাপ্লুত আমরা। আপনাদের এই ঋণ নিয়ে দেশে ফিরবো এবং আমাদের সম্পর্ককে আরো বৃদ্ধি করে মানুষের কল্যাণে কাজ করবো।

ড. রমাকান্ত দাস বলেন, কোনো ভালোবাসার সম্পর্ককে রাজনৈতিক সীমারেখা দ্বারা নির্ণয় করা যায় না। আজকের এই আয়োজন তার বাস্তব প্রমাণ। আমাদের দুটি দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান হৃদ্যতার সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাক এটাই কামনা করি।

নিলামবাজার কলেজ, করিমগঞ্জ-এর বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সর্বজিৎ দাস বলেন, ভৌগোলিক মানচিত্রে আমরা ভিন্ন হলেও ভাষা এবং সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আমরা একই। আমাদের মিলকে কাজে লাগিয়ে সর্ম্পক কে বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমাদেরকে এই সম্মানে ভূষিত করার জন্য লেখক বায়েজীদ ভাইয়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

সভাপতির বক্তব্যে লেখক-সংগঠক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল বলেন, আমাদের আত্নার আত্নীয় বরেণ্যজনদের সম্মাননা দিতে পেরে নিজেরা গর্ববোধ করছি। কোনো শক্তিই আমাদের মধ্যে বিদ্যমান ভালোবাসাকে আলাদা করতে পারবে না। মানুষ এবং মানবতার কল্যাণে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক চেতনায় বলিয়ান হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: