Monday, 23 July, 2018 | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

মহীয়সী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী

মুহিত চৌধুরী: ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ প্রথম দেখা মহীয়ষী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর সাথে। তারিখটা স্পস্ট মনে থাকার কারণ এই দিন সকালে আমি প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে স্থায়ীভাবে চলে এসেছিলাম।
ঐদিন বিকেলে জিন্দাবাজার গিয়েছিলাম আমার পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখতে। হঠাৎ দেখি একজন মধ্যবয়সী নারী জীপ থেকে নেমে লতিফ সেন্টারের দিকে ঢুকছেন। তার পরনে হালকা বাদামী রঙের সুতি শাড়ি। দামী জীপ, সুতি শাড়ি, কেমন যেন বেমানান লাগছে। আমি অনেকটা অবাক হয়ে চেয়ে আছি। এসময় পাশের একজন দোকানদার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কি এই নারীকে চিনি। জবাবে না বলায় তিনি বললেন, উনি হলেন দানবীর ড. রাগীব আলীর স্ত্রী।
দানবীর ড. রাগীব আলীর স্ত্রী? এটি জেনে সত্যি আমার বিম্ময়ের অন্ত নেই।
এতো অর্থশালী-বিত্তশালী মানুষের স্ত্রীর এমন সাধারণ বেস ভুসা?
পরে তাঁর সর্ম্পকে খোজ নিয়ে জানতে পারি তিনি খুব সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতেন। তাঁর মধ্যে ছিল না কোন অহংকার। তিনি সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চিন্তা সবসময় করতেন।
সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গরীব দুঃখী মানুষের উন্নয়নে রাবেয়া খাতুন ছিলেন দানশীলতার অনন্য উদাহরণ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. সৈয়দ রাগীর আলী প্রতিটি সুকর্মে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর উৎসাহ উদ্দিপনা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।
দেশ মাটি ও মানুষের কল্যাণে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীর প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাগীব রাবেয়া ফাউন্ডেশন’ যা মধুবন সুপার মার্কেটে অবস্থিত। এই ফাউন্ডেশন থেকে মানব কল্যাণে যে সব কার্যক্রম চালানো হয় বা হয়েছে তা এই উপমহাদেশে আর কেউ করেছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ড. রাগীব আলী ও মহীয়ষী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের বলিষ্ট অবদান রাখার জন্য মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করি। সিলেট কিংবা দেশে অনেক বিত্তশালী রয়েছেন কিন্তুু তারা কয় জন এমন কাজ করেছেন। সিলেট শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের গুণি মানুষের করা । মুসলমানদের মধ্যে ড. সৈয়দ রাগীব আলী সবচেয়ে বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটসহ সারা দেশে করেছেন।
‘রাগীব রাবেয়া ফাউন্ডেশন’ থেকে যে সব কর্মকান্ড পরিচালনা হয় তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিলে বিষয়টি আরো স্পস্ট হবে।
গরিব অসহায়দের মধ্যে আর্থিক সাহায্য প্রদান, বিয়ের খরচ, গৃহনির্মাণ ব্যয়, মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা,মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বৃত্তি কার্যক্রম, বিনা-বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দান, প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুদান, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ ফাউন্ডেশন থেকে সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে অনুদান প্রদান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

মহীয়ষী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী উৎসাহে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
লিডিং ইউনিভার্সিটি, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সিলেট, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজ সিলেট, রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মধুবন, রাবেয়া বানু জেনারেল হাসপাতাল রাগীবনগর, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল সোনাসার, জকিগঞ্জ, রাবেয়া খাতুন মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র রাগীবনগর,

রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রী কলেজ রাগীবনগর, রাগীব-রাবেয়া হাইস্কুল ও কলেজ পানিউমদা, নবীগঞ্জ, রাগীব-রাবেয়া হাইস্কুল ও কলেজ লামাকাজী, বিশ্বনাথ, রাগীব-হাসান টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কুমারখালি, কুষ্টিয়া, বরকল রাগীব-রাবেয়া কলেজ বরকল, রাগীব-রাবেয়া কাচালং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, লংগদু, রাঙ্গামাটি, হাজী রাশীদ আলী হাইস্কুল দক্ষিণ সুরমা, সিলেট, রাগীব-মজিব হাইস্কুল নারায়নডহর, পূর্বধলা, নেত্রকোনা, রাগীব-রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বালিউড়াবাজার, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ, রাগীব আলী রেজিঃ প্রাইমারী স্কুল,রঘুপুর, বিশ্বনাথ, রাগীব-রাবেয়া ফুলকুঁড়ি প্রাইমারী স্কুল, রাঙ্গামাটি সদর, রাগীব-রাবেয়া বিদ্যানিকেতন, হাওলদারপাড়া, শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউট, শাহী ঈদগাহ, জামেয়া ইসলামিয়া রাগীবিয়া, পাঠানটুলা, রাগীব-রাবেয়া জামেয়া ইসলামিয়া, সিদাইরগুল, সাহেববাজার।

মসজিদ:
রাগীব-রাবেয়া জামে মসজিদ, আহমদনগর, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাগীব-রাবেয়া জামে মসজিদ, উত্তরপাড়া, হাজীপুর, মাগুরা , রাগীব-রাবেয়া জামে মসজিদ, ইব্রাহিমপুর, তারুপাশা, রাজনগর, মৌলভীবাজার।

শিক্ষা ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান:
রাগীব-রাবেয়া রিসার্চ সেন্টার, মাজবন, জকিগঞ্জ।

প্রেসক্লাব: দানবীর ড. রাগীর আলী শিক্ষা এবং সাংবাদিকতায় সিলেটকে এগিয়ে নিতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সিলেট প্রেসক্লাবের বর্তমান ভবন নির্মাণের আগে তিনি একতলা ভবনটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে দানবীর ড. রাগীর আলী মধুবনস্থ সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিসটি দান করেন। তাঁর এই মহান কাজের জন্য সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ইতিহাসে তিনি কিংবদন্তি হয়ে বেচেঁ থাকবেন।

প্রায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ গরীব দু:খি মানুষের বন্ধু, শিক্ষা-দীক্ষায় আলোকিত বাংলাদেশ গঠনের প্রাণ পুরুষ দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে একটি মহল নানাভাবে বির্তকিত করতে চেষ্টা শুরু করেছে। যা কোন অবস্থায় দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবেনা।
বাংলাদেশে যেখানে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সেখানে রাগীব আলী বিদেশ থেকে টাকা এনে দেশে বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনোয়োগের ক্ষেত্রে যে কোন ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। একজন এনআরবি হিসেবে এটাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁর বিনোয়োগ শুধু অর্থ উপার্জন করা নয় সমাজ ও দেশের কল্যাণ করা একটি অন্যতম লক্ষ। যার প্রমাণ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। যেখানে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।
দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর পক্ষে এতো সব জনহিতমুলক কাজ করা সম্ভব হয়েছে মহীয়ষী নারী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী তাঁর পাশে থাকার জন্য।
বরেণ্য শিক্ষানুরাগী এই মহীয়ষী নারীর ইন্তেকালে সিলেটের সকল ক্ষেত্রে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পুরণ হওয়ার নয়। তিনি মানুষের মনে চির দিন বেঁচে থাকবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন মানবতার কল্যাণে তাঁর সকল অবদানকে কবুল করেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কবি সভাপতি সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: