Thursday, 19 April, 2018 | ৬ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

সিলেটে যে অস্ত্রে কাবু রাজনীতিকরা

ওয়েছ খছরু:প্রযুক্তির অস্ত্রে ‘কাবু’ হচ্ছেন সিলেটের রাজনীতিবিদরা। পড়ছেন খ্যাতির বিড়ম্বনায়। বিতর্কও পিছু ছাড়ছে না তাদের। ছবি ভাইরাল হচ্ছে সামাজিক গণমাধ্যমে। আলোচনা চলছে তাদের নিয়েও। আর যতই দিন যাচ্ছে একেক করে প্রায় সব নেতার ছবিই প্রকাশ পাচ্ছে।
এই নিয়ে বিব্রত সিলেটের রাজনীতিবিদরা। শুরুটা হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে দিয়ে। এরপর থেকে কয়েক দিন পরপর একেক জনের ছবি ভাইরাল হচ্ছে। মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলার আইন কর্মকর্তাও। ফলে তাকে নিয়ে বিতর্ক হয় বেশি। গেলো মাসে তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পরিবারসহ বেড়াতে গিয়ে সুনামগঞ্জের হাওর দুর্নীতির মামলার আসামিকে পান। এবং সেখানেই আসামি আব্দুল হান্নান বেড়াতে যাওয়া মিসবাহ সিরাজের সঙ্গে ছবি তুলেন। সেই ছবি হান্নান তার নিজের ফেসবুক আইডিতে দিলে তোলপাড় শুরু হয়। আইন কর্মকর্তার সঙ্গে আসামির ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। তবে- মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেটে ফিরে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বলেছেন- এ ঘটনায় তিনি বিব্রত। তিনি যখন সিলেটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন- এমন আভাস দিয়েছেন এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে নানাভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে জানান। ভারত সফর শেষে ফেরার পর মিসবাহ সিরাজ সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। মিসবাহ সিরাজের পর সিলেট-৪ আসনের এমপি ইমরান আহমদও বিতর্কের মধ্যে পড়েন। তবে- জৈন্তাপুরে প্রবাসী হোসেন আহমদ খুনের ঘটনার পর থেকে সতর্ক রয়েছেন ইমরান আহমদ-এমনটি জানিয়েছেন এমপি ইমরানের ঘনিষ্ঠজনরা। কারণ- শ্রীপুর পাথর কোয়ারি দখল নিয়ে প্রবাসী খুনের ঘটনায় ৭৭ জনকে আসামি করা হয়। যারা আসামি হয়েছে তাদের অনেকেই হচ্ছে আওয়ামী লীগ দলীয় লোক। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে। এ ঘটনার পর ইমরান আহমদ এলাকা পরিদর্শন করলেও তার সঙ্গে চিহ্নিত কাউকে দেখা যায়নি। ইমরান আহমদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- যারা আসামি কিংবা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত তারা ইমরান আহমদের করুণা পাচ্ছে না। এ কারণে তারা কেউ-ই ইমরান আহমদের ধারে-কাছে পৌঁছতে পারছে না। এরপর সিলেটের ওসমানী নগরে আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে আসামির সঙ্গে মিছিল করেছিলেন সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। ওই মিছিলে অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ ছিলেন ওই মিছিলে। পরে আওয়ামী লীগের অন্য বলয়ের নেতারা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। শফিকুর রহমান চৌধুরী ওই সময় জানিয়েছিলেন- কে আসামি, কে আসামি নয় সেটি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার দেখার নয়। সেটি দেখবে পুলিশ। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রোগ্রাম করি। এখানে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই বলে জানান তিনি। এদিকে- সম্প্রতি আবারো আলোচনায় এসেছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। শেষ মুহূর্তে এই অভিযোগ থেকে বাদ যাননি সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সম্প্রতি তার অনুষ্ঠানের পেছনে জামায়াত নেতার ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। আর ওই ছবিটি ভাইরাল করে দেয়া হয় ফেসবুকে। এই ভাইরালের কারণে কামরানও বিব্রত। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে তাকে নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে করেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। কারণ- ওই দিন কামরান একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। এদিকে- কয়েক দিন আগে সিলেটে প্রবাস বাংলা অনলাইন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর এমন ঘটনাবলী নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন- প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের মান সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। যেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কখন কার ছবিতে কার মাথা যোগ হয় সেটি বলা যাবে না। এ কারণে প্রযুক্তির ভালো দিকটি গ্রহণ করতে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: