Monday, 23 July, 2018 | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

জেরুজালেমকে রাজধানী পাওয়ার অধিকার কেবল ফিলিস্তিনিদের: সৌদি

আঙ্কারা: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে সৌদি আরবের বাদশা সালমান বলেছেন, জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে পাওয়ার একমাত্র অধিকার ফিলিস্তিনের। অন্য কোনো দেশ এর দাবিদার নয়।

বুধবার দুপুরে দেশটির গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এর আগে জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয় সৌদি। আমেরিকার পক্ষ থেকে জেরুজালেম আল-কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অধিবাসীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি বাদশাহ সালমানের ছবিতে আগুন দেয়।

 

অবিলম্বে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিন
আঙ্কারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত অবিলম্বে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির এক জরুরি সভায় তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল জেরুজালেমকে জোরপূর্বক রাজধানী ঘোষণা করেছে। আর স্রেফ শূণ্যের উপর নির্ভর করে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা কখনোই মেনে নেবে না মুসলিম বিশ্ব।

তিনি ওআইসিভূক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেরুজালেম নিয়ে এভাবে বিক্ষোভ-নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমাদেরকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা নেবার জন্য অকৃতকার্য হয়েছে ইসরাইল। শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা আমরা গ্রহণ করবো না। ইসরাইলের পক্ষে তারা কাজ করছে এটা প্রমাণিত।’

জেরুজালেম মূলত ইহুদি, ইসলাম এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত পূর্ব জেরুজালেম। ইসরাইল ওই অংশ দখল করার আগে জর্ডানের দখলে ছিল। কিন্তু ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পরে জেরুজালেম শহরটি মূলত অবিভাজ্য অবস্থানে চলে যায়। আর সেই থেকেই ইসরাইল একচ্ছত্র ভাবে জেরুজালেমকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার। যদিও এখন পর্যন্ত ইসরাইলের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সিদ্ধান্তে অনড়, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেবে না ইইউ
ব্রাসেলস: আমেরিকার মতোই ইউরোপও জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করলেও, ইইউ পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান বলেছেন, তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

নেতানিয়াহু এখন ব্রাসেলস সফরে এসে ইইউ নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন। গত ২০ বছরে এই প্রথম কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলস সফর করলেন। খবর বিবিসির।

তিনি বলেন, তিনি আশা করেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে ইউরোপও জেরুজালেমকে তার দেশের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরোপের দেশগুলো একে একে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে নিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জেরুজালেম ২ হাজার বছর ধরে ইহুদি জনগণের রাজধানী ছিল।

কিন্তু ইইউ পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয় নি, এবং এ ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকেই অনুসরণ করবে।

‘আমরা বিশ্বাস করি যে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান হচ্ছে দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান যার দুটিরই রাজধানী হবে জেরুজালেম’-বলেন তিনি। মিজ মোগারিনি দুনিয়ার সর্বত্র ‘ইহুদিদের ওপর সব ধরণেরও আক্রমণেরও নিন্দা করেন।’

ইসরাইল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে মনে করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী বলে মনে করে- যা ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে দখল করে নেয় ।

জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের দাবি কখনোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। ইসরাইলে সব দূতাবাসগুলোই অবস্থিত তেল আবিবে।

জেরুজালেমে ইহুদি, খ্রিস্ট্রান ও ইসলাম- এই তিন ধর্মেরই পবিত্র স্থান আছে।

ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পর ব্যাপক ফিলিস্তিনি ও বিভিন্ন দেশ ক্ষোভ ও নিন্দা জানায়। একে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়- যাতে এ পর্যন্ত চার জন নিহত হয়েছে।

 

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: