Monday, 18 June, 2018 | ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

এটাই শেষযাত্রা, কে জানত…

দৈনিকসিলেটডেস্ক:  মাত্র এক সপ্তাহের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার কথা জানিয়ে গেলেও ডা. শাওনের স্ত্রী শসীর সেই ছুটি আর কখনও শেষ হবে না।
সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৫১জনের মৃত্যু হয়।

ওই উড়োজাহাজেই ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রিজওয়ানুল হক শাওন ও তার স্ত্রী তাহিরা তানভীর শসী। দুর্ঘটনায় মারা যান শসী।
গুরুত্বর আহত অবস্থায় শাওন কাঠমান্ডুর ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের বেশিরভাগ পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শাওনকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ডা. শাওনের ঘনিষ্ট বন্ধু ডা. কামরুল হুদা আপেল এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নেপালে ডা. শাওনের আত্মীয়স্বজন এবং আমাদের নেপালি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বন্ধুর খোঁজ খবর রাখছি আমরা।
ডা. কামরুল হুদা বলেন, ৬-৭ বছর আগে ডা. শাওন বিয়ে করেন তাহিরা তানভীর শসীকে। শসী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করতেন। তবে বেশিরভাগ সময় রংপুরে স্বামীর সাথে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।

তিনি জানান, তাদের দুইজনের স্বপ্ন ছিল আইন পাশ করার পর শসী ঢাকায় প্যাকটিস করবে এবং শাওন ডাক্তারি করবে। দুইজনই ঢাকায় থাকবে। এসব কথা নেপাল যাওয়ার আগে এক সন্ধ্যায় চা চক্রের আড্ডায় ডা. শাওন ও তার স্ত্রী শসী জানান। তারা আরো জানান- শাওন ১২ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। দুইজন নেপাল যাওয়ার আগে বলেছিলেন- দোয়া করবেন যেন ভালভাবে ফিরে আসতে পারি। এসেই আবার কফি পার্টি হবে। কিন্তু সে কফি পার্টি আর হবে না। বিমান দুর্ঘটনায় সবাইকে ছেড়ে চলে গেল তাহিরা তানভীর শসী। এটা মেনে নিতে পারছি না। ওই দুর্ঘটনায় বন্ধু ডা. রিজওয়ানুল হক শাওনও চিকিৎসাধীন নেপালের ওম হাসপাতালে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের ডাক্তার মোস্তাফিজার রহমান পাভেল বলেন, আমার জুনিয়র হলেও ডা. রিজওয়ানুল হক শাওন আমার সাথে বন্ধুর মতই মিশতো। সে সব কিছুই আমার সাথে সব বিষয়ে শেয়ার করতো। নেপাল যাবার আগে বলেছিল ভাই আমি শসীকে নিয়ে নেপাল যাচ্ছি, দোয়া করবেন যেন ভালভাবে ফিরে আসতে পারি। কিন্তু এ যাওয়াই যে তাদের জন্য কাল হবে সেটা কে জানত!

তিনি বলেন, নম্র, ভদ্র স্বভাবের ডা. শাওন কাজ পাগল ছিল। হাসপাতালে যতক্ষণ ডিউটি ততক্ষণ সে তার দায়িত্ব পালন করবে। ডা. শাওন সব সময় একটা কথা বলত, ‘আমার চাকুরি হচ্ছে মানবসেবা করা। মানবসেবা করেই আমি সারা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।’

ডা. পাভেল বলেন, সোমবার যখন নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় ডা. শাওনের আহত হবার খবর শুনি তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। শাওনের আত্মীয়স্বজন নেপালে গেছেন। তারা শাওনের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাবার চিন্তাভাবনা করছেন। ডা. শাওনের শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেলে বলে সেখানকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

এব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহী ফারজানা তাসমিন বলেন, ডা. রিজওয়ানুল হক শাওন আমার ছাত্র। লেখাপড়ায় মেধাবি শিক্ষার্থী ছিল। ২০১১ সালে শাওন বিয়ে করে শসীকে। লেখাপড়া করার কারণে তারা কোন সন্তান নেয়নি। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় শসীর মৃত্যু এবং শাওন গুরুত্বর আহত হওয়ার খবর শুনে রাতে ঘুমাতে পারিনি। এমন একটা ভাল মেয়ে এতো অল্প বয়সে চলে গেল ভাবতে পারছি না।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, হাসপাতালে কর্মরত ছিল ডা. রিজওয়ানুল হক শাওন । স্ত্রীকে নিয়ে নেপালে যাবার জন্য ছুটিও নিয়েছিল। বিমান দুর্ঘটনায় তাদের খবর শুনে মর্মাহত হয়েছি। আমি ডা. শাওনের আরোগ্য কামনা করছি।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: