Wednesday, 19 December, 2018 | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

‘ভাটির মানুষকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে’

দৈনিকসিলেটডটকম:সিলেটে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে ‘অভিন্ন নদী, অভিন্ন সংস্কৃতি’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে সিলেটে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও কথাকলি, সিলেট-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় “অভিন্ন নদী, অভিন্ন সংস্কৃতি” শীর্ষক সাংস্কৃতিক সমাবেশ । এতে সুরমা-বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা নদীরক্ষা্র সংগ্রামে সংহতি প্রকাশ করবেন ।

কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা্র সাংস্কৃতিক সংগককেরা অংশ নেন । বাংলাদেশ এনভায়রমেন্ট নেটওয়ার্ক-এর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সংগঠক রানা ফেরদৌস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সাংস্কৃতিক সমাবেশের মূল বক্তব্য রাখেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম । অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের আসাম রাজ্য থেকে আসা সাংস্কৃতিক সংগঠক সুব্রত রায়, অলক পাল চৌধুরী ও ডঃ রাজিব কর, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনির, সারী বাঁচাও আন্দোলনের আব্দুল হাই আল হাদি, বাপার সংগঠক ডাঃ তায়েফ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কথাকলি সিলেটের শামসুল বাসিত শেরো ।

মূল বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসের প্রেক্ষাপট ও “অভিন্ন নদী, অভিন্ন সংস্কৃতি” শীর্ষক সাংস্কৃতিক সমাবেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস নদীর প্রতি জবাবদিহি করার দিন । দিবসটি মানুষকে নদী সম্পর্কে জানায় । প্রতি বছর নানান আয়োজনে বিশ্বের দেশে দেশে এই দিনে নদীরক্ষায় নতুন করে শপথ নেয় মানুষ । নদীর সাথে সংগঠিত অন্যায়ের প্রতিবাদ হয় । বাঁধ বা ব্যারেজ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক চলাচল বন্ধের বিরুদ্ধ্যে পরিবেশবাদীিরা নিরন্তর আন্দোলন করছেন । তাঁদের এ সংগ্রামের সহযোগী শক্তি সংস্কৃতিকর্মীরা । অভিন্ন নদী, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বরাক-সুরমা পাড়ের মানুষদের সৌহার্দ্যে নদীর পানির অধিকার নিয়ে যেন সৌহার্দ্য বিনষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক সংগঠকদের ঐক্যমত গড়ে তোলা প্রয়োজন ।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা-কুশিয়ারার উজানে টিপাইমুখ বাঁধের নির্মান সম্ভাবনায় এ অঞ্চলের এক কোটি মানুষের মনে ভীতি আছে । বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রায় ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে । এর মধ্যে ২১টি নদী বরাক-সুরমা অববাহিকা দিয়েই প্রবাহিত । সুরমা, কুশিয়ারা, লুভা, পিয়াইন, ডাউকি, সারি-গোয়াইন, ধলা, সোমেশ্বরী, ধামালিয়া, নয়াগাঙ, উমিয়াম,যাদুকাটা, সোনাই-বারদল, জুরি, মনু, ধলাই, লংলা, খোয়াই, করঙ্গি, সুতাং, সোনাই । এই আন্তঃদেশীয় নদীগুলোর উজানে ভারত একতরফা ভাবে একের পর এক বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মান করছে । সুরমা পাড়ের এক কোটি মানুষের
জীবন-জীবিকা রক্ষায় বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক সংগঠকদের জোরালো প্রতিবাদ প্রয়োজন ।
ভারতের শিলচরের সাংস্কৃতিক সংগঠক সুব্রত রায় বলেন, বরাক নদীতে বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনা অন্যায় অন্যায্য । রাষ্ট্রের কাঁটা তার বরাক-সুরমা পাড়ের মানুষের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতাকে পৃথক করতে পারেনি। বাঁধ দিয়ে ভাটির দেশের নদ-নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যে কোন আগ্রাসী চিন্তায় ভারতের সাংস্কৃতিককর্মীরা লড়বেন ।

শিলচরের প্রবীণ সাংস্কৃতিক সংগঠক অলক পাল চৌধুরী বলেন, ভাষায়-গানে-কবিতায়-নাটকে-আনন্দে-ভালোবাসায়-কান্নায় নদীপাড়ের মানুষ অভিন্ন । উজানের নদীতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লংঘন করে ভাটির মানুষকে বঞ্চনা দেয়ার চেস্টায় আমরা প্রতিবাদ জানাই ।
সভাপতির বক্তব্যে রানা ফেরদৌস বলেন, ভারতের বরাক নদীর দুই শাখা সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা-কুশিয়ারা । বরাক-সুরমা অববাহিকার মানুষের অভিন্ন ভাষা, অভিন্ন সংস্কৃতি । এ অঞ্চলের নদী ও নদীর জলধারা মানুষের মনে সুর ও ছন্দ জাগায় । একই আকাশ, একই বাতাস এক হৃদয়ের একই তো শ্বাস তবুও নদীর ব্যাবহার নিয়ে দুই বন্ধু রাস্ট্রের মধ্যে রয়েছে কিছু মন কষাকষি । রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা ভাটির দেশের স্বার্থহানী করতে পারে কিন্তু বরাক পাড়ের সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধ্যে অবস্থান নিলে আমাদের বেদনা কিছুটা উপশম হবে । আর সে জন্য সংস্কৃতিকর্মীরাই মুখ্য ভূমিকা নিতে পারবে ।
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া এ ঘন্টাব্যাপী এ সাংস্কৃতিক সমাবেশের শুরুতে নদী নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন ফাতেমা রশিদ সাবা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দেওয়ার লক্ষে এ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সমাবেশে একত্র হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা । তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, লেসোথো, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঐ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ১৪ মার্চকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।বাংলাদেশে নদীকৃত্য দিবস উদযাপন শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে । সিলেটে ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এই দিবস নিয়মিতভাবে উদযাপন করে যাচ্ছে ।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস-২০১৮ উপলক্ষে সিলেট বিভাগে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগের চার জেলা সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে একাধিক কর্মসুচী পালন করা হয়েছে । এছাড়া ঢাকা’সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসুচি পালন করেছে ।

বাপা ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর আয়োজনে আজ ১৫ই মার্চ বিকাল ৩ ঘটিকায় “হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা ফেরানো ও বাঁধের কাজে দূর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবীতে” সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে যাদুকাটা নদী তীরে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে । এছাড়া যাদুকাটা নদীতীরে রাতব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে রিভার ক্যাম্পিং। ১৬ই মার্চ বিকাল ৩টায় জৈন্তাপুর উপজেলার দামড়ি বাজারে সারী বাঁচাও আন্দোলন ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ক্ষ্যাপা নদীর তীরে ‘নদী জাগরন সমাবেশ’ আয়োজন করবে ।

 

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: