Monday, 23 July, 2018 | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক ৫ কর্মকর্তার ৬৮ বছর সাজা

দৈনিকসিলেটডেস্ক : ভুয়া ঋণ জালিয়াতির অর্থ আত্মসাতের পৃথক চার মামলায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে ৬৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মঙ্গলবার এই রায় দেন।
পাঁচ আসামি হলেন- ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. হারুন, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবুল কাশেম মাহমুদুল্লাহ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম ও অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুর রহমান। তাদের প্রত্যেককে চার মামলায় মোট ৬৮ বছরের সাজা দেন আদালত। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিগত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়ে তৎকালীন ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। পরে ২০০৯ সালে মালিকানা হাতবদলে ব্যাংকটির নতুন নাম হয় আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। বর্তমানে এ নামেই ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছে।

চার মামলার মধ্যে একটিতে দুই ব্যবসায়ী মেসার্স আফাজ উদ্দিন ট্রেডার্সের মালিক মো. সালাহ উদ্দিন ও মেসার্স নুর অ্যান্ড সন্সের মালিক তরিকুল ইসলামকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক কর্মকর্তা ইমামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় চার মামলাতেই তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৫-০৬ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে আনুমানিক ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন থানায় মোট ৩৪টি মামলা দায়ের করে। মতিঝিল থানায় দায়ের করা চার মামলার রায় মঙ্গলবার ঘোষণা হলো। দুদকের করা তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে এসব মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলা চারটির দু’টিতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপর দু’টি মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৬ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও জরিমানা অনাদায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাম সর্বস্ব ভুয়া ৪টি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ারা ইলেকট্টনিক্স, মেসার্স ইভান টেল, মেসার্স আফাজ উদ্দিন ট্রেডার্স ও মেসার্স নূর অ্যান্ড সন্সের নামে এক কোটি টাকা করে ৪ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে তা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স আফাজ উদ্দিন ট্রেডার্সের মালিক হিসেবে মো. সালাহ উদ্দিন ও মেসার্স নূর অ্যান্ড সন্সের মালিক হিসাবে তরিকুল ইসলামকে পাওয়া গেলেও আনোয়ারা ইলেকট্টনিক্স ও মেসার্স ইভান টেলের কোনো অস্তিত্ব ও তার কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: