Wednesday, 26 September, 2018 | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

মাহরামকে চুম্বন দেয়া যাবে কি?

দৈনিকসিলেটডেস্ক:আলহাদুলিল্লাহ, মাহরাম অর্থ যাদের সাথে বিবাহ-শাদি হারাম, তাদেরকে সালাম দেয়া পুরুষের জন্য জায়েজ। নারীও তার মাহরামকে সালাম দিতে পারবে, মুসাফাহা চুম্বন করতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

আর মহরাম কারা, এর বর্ণনা পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নুরের ৩২ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে-স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে। মামা ও চাচাও মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লিখিত ব্যক্তিরা হল মাহরাম। অর্থাৎ নারীর ক্ষেত্রে তার পিতা, দাদা, মায়ের পিতা (নানা) মায়ের পিতার পিতা, নিজের ছেলে, নিজের ছেলের ছেলে, নিজের মেয়ের ছেলে, নিজের ভাই, ভাইয়ের ছেলে এরা সবাই মাহরাম। অনুরূপভাবে মামা এবং চাচাও মাহরাম।নিজের পিতা (শ্বশুর) স্বামীর দাদা, স্বামীর ছেলে, স্বামীর ছেলের ছেলে, স্বামীর মেয়ের ছেলে, এরা সবাই মাহরাম।

পুরুষ তার মাহরাম আত্মীয়াকে চুম্বন করতে পারবে, যেমন চাচী, খালা, মা, বোন এদেরকে চুম্বন করায় কোনো অসুবিধা নেই, তবে মস্তকে চুম্বন করাই উত্তম যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়।

নাক অথবা গন্ডদেশের চুম্বন করা যায়। তবে অধিকাংশ উলামা কেরাম বলেছেন, ঠোঁটে চুম্বন করা যাবেনা। ঠোঁটে চুম্বন কেবল স্বামী-স্ত্রীর মাঝেই হতে পারে, মাহরামদের মাঝে নয়।

আমাদের সমাজে মাহরামদের বাইরে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারী একে অন্যকে চুম্বন করতে দেখা যায় । বিশেষ করে বিদেশ যাবার সময় কিংবা বাসায় বেড়াতে আসার পর অথবা দীর্ঘ দিন পর কারো সাথে দেখা হলে।

বয়সে ছোট কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক চাচাত বোন, খালাত বোন, মামাত বোন, মামাত ভাই,চাচাত ভাই, খালাত ভাই, তালত ভাই-বোন, আপন চাচা-মামার বাইরে সর্ম্পকে মামা, খালা, খালু, চাচা এদের সামনে বের হওয়া যেখানে উচিৎ নয় সেখানে চুম্বন করা প্রশ্নই আসেনা।

এই কাজ অত্যন্ত গোনাহের কাজ। এধরনের চুম্বন যিনা করার সমান।

যে ব্যক্তি মাহরামদের বাইরে প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে কিংবা পুরুষকে চুম্বন করলো সে স্পস্টভাবে ব্যভিচারী হিসেবে গণ্য হবে। তার মনে খারাপ উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক।

যিনা বা ব্যভিচার বহু প্রকার এবং অনেক ভাবে যিনা হয়। প্রথমে দেখি নারীদের ব্যাপারে রাসূল ﷺ কি বলেছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “নারীদের পুরোটাই হচ্ছে “আওরাহ” বা সতর (শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক)। যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে চোখ তুলে দেখে। নারী ঘরের মধ্যে অবস্থানকালেই আল্লাহর বেশি নৈকট্য প্রাপ্ত থাকে।” সুনানে আত-তিরমিজি ও ইবনে হিব্বান। এই যদি হয় রাসূল ﷺ বাণী তা হলেতো বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মেয়েরা বের্পদা ভাবে চলা চল করে এবং কি খোলা মেলা চলা ফেরা করতে পছন্দ করে। এবার দেখি অন্য হাদীসে কি বলে যিনার ব্যাপার…

যিনার শাস্তি হাদিস শরিফ থেকেঃ রাসুল ﷺ বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ। সহীহ আল-বুখারী।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”। সহীহ আল-বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম,সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী।

যিনা হারামঃ আল্লাহ তাআ’লা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ “তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ”। সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
“জাহান্নামে একটা হ্রদ আছে। এতে বহু সংখ্যক সাপের বসবাস। প্রতিটি সাপ উটের ঘাড়ের সমান মোটা। সে সাপগুলো নামায তরককারীদেরকে দংশন করবে। একবারের দংশনেই তার দেহে সত্তর বছর পর্যন্ত বিষক্রিয়া থাকবে। এরপর তার গোশত ঝরে পড়বে। এছাড়া জাহান্নামে আরো একটা হ্রদ রয়েছে ,যাকে ‘দুঃখের হ্রদ’ বলা হয়। এতেও বহু সাপ ও বিচ্ছুর বসবাস। প্রতিটা বিচ্ছু এক একটা খচ্চরের সমান। এর সত্তরটি হুল রয়েছে । প্রত্যেকটি হুল বিষে পরিপূর্ণ। সে বিচ্ছু ব্যভিচারীকে দংশন করে সমস্ত বিষ তার দেহে ঢেলে দিবে। এতে সে এক হাজার বছর পর্যন্ত বিষের যন্ত্রণা ভোগ করবে। এরপর তার গোশত খসে পড়ে তার জননেন্দ্রীয় থেকে পুঁজ, নোংরা তরল পদার্থ নির্গত হবে”।

হাদীসে আরো উল্লেখ রয়েছে,
যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে কুমতলবের ইচ্ছা নিয়ে স্পর্শ করবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে যে তার হাত তার ঘাড়ের সাথে যুক্ত থাকবে। সে যদি এ নারীকে চুমু দিয়ে থাকে, তাহলে তার ঠোঁট দুটিকে আগুনের কাঁচি দিয়ে কেঁটে ফেলা হবে। আর যদি তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তাহলে তার দুই উরু সাক্ষী দিবে, আমি অবৈধ কাজের জন্য আরোহণ করেছিলাম। তখন আল্লাহ তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবেন এবং এতে সে অপমান বোধ করে গোয়ার্তুমি করে বলবে ; আমি এ কাজ করিনি। তখন তার জিহ্বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে বলবে, ‘আমি অবৈধ বিষয়ে কথা বলেছিলাম’। তার হাত সাক্ষী দিবে, ‘আমি অবৈধ বস্তু ধরেছিলাম’। এরপর চক্ষু বলবে, ‘ আমি অবৈধ বস্তুর দিকে তাকাতাম’। তার দুখানা পা বলবে, ‘ আমি ব্যভিচার করেছি’। প্রহরী ফেরেশতারা বলবে, ‘ আমি শুনেছি’। অন্য ফেরেশতা বলবে, ‘আর আমি লিখে রেখেছি’। আর আল্লাহ বলবেন, ‘আমি জেনেছি এবং লুকিয়ে রেখেছি’। এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘হে ফেরেশতাগণ! একে পাকড়াও করে আমার আযাব ভোগ করাও। কেননা যে ব্যক্তির লজ্জা কমে যায় তার উপর আমার ক্রোধের অন্ত নাই’।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: