Wednesday, 26 September, 2018 | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

পরকালের প্রস্তুতিই প্রকৃত প্রস্তুতি

মো: আনিসুর রহমান: মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর সৃষ্টি জগতের মধ্যে তিনি মানুষকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। মানুষকে সঠিক পথে চলার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। রাসূলদের ওপর আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। মানুষ আল্লাহর প্রেরিত কুরআনে নির্দেশিত বিধিমোতাবেক জীবনযাপন করলে তার জন্য রয়েছে জাগতিক ও পারলৌকিক পুরস্কার। পারলৌকিক পুরস্কার হিসেবে একজন মুমিন মুসলমান বেহেশত বা জান্নাত লাভ করবেন।পার্থিব জীবনে আমরা অনেকেই কষ্ট করি। অনেকে বিপদে থাকি। আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার পরও আমরা শান্তি পাই না। এসবের কারণ কী হতে পারে? আমাদের ইবাদত বন্দেগি সঠিক ও শুদ্ধ হয় না বলেই হয়তো এমন হয়।
পার্থিব জগতে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এগুলো থেকে আমরা বের হতে পারছি না। আমরা নিবিষ্টচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি না। নিবিষ্টচিত্তে ইবাদত করা ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া সম্ভব নয়। অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর বিধান সঠিকভাবে মেনে চলে না বলে জাগতিক সুখ-শান্তি না পেয়ে হতাশ, দুঃখ ও দুর্দশায় পতিত হয়। নির্ভাবনায় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে না। মানুষ প্রতিনিয়ত আল্লাহকে ডাকলেও আল্লাহ সেই ডাকে ঠিকমতো সাড়া দেন না। ফলে সে জাগতিক সুখ-শান্তি থেকে বঞ্চিত তো হচ্ছেই উপরন্তু মনের ভেতর থেকে বিভিন্ন চাপ যন্ত্রণা নিয়ে সে আল্লাহকেও খোলা মনে ডাকতে পারছে না।
সব ইবাদতের মধ্যে নামাজ সর্বোত্তম ইবাদত। কিন্তু এই নামাজে দাঁড়িয়ে আমরা দুনিয়াবি চিন্তায় আচ্ছন্ন্ হই। একাগ্রতা বা নিবিষ্টচিত্তে আমরা নামাজ পড়তে পারি না।
মানুষ ইবাদত করে দু’টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। একটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অপরটি নিজের সার্বিক কল্যাণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করার মাধ্যে নিহিত রয়েছে আল্লাহর সাথে মানুষের প্রেমের সম্পর্ক। আর এ সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়া সম্ভব শুধু আল্লাহর পরিচয় লাভের মাধ্যমে।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আ’লা-এর আয়াত ১৪ ও ১৫-তে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘সে সফলতা লাভ করেছে’, যে আত্মশুদ্ধি লাভ করেছে ও প্রভুর স্মরণ করে অতঃপর নামাজ কায়েম করে। পবিত্র কুরআনে আরো এরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে, সে সাফল্য লাভ করেছে। আর যে ব্যক্তি নিজেকে পাপাচারে কলুষিত করছে সে ব্যর্থ হয়ে গেছে।’
সারা বিশ্বে মুসলমানরা বিধর্মীদের হাতে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা তথা কুরআন-হাদিসের মূল নির্দেশ আমরা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি বললেই চলে।
সূরা মুমিন, আয়াত ৪০-এ আল্লাহ বলেছেন, ‘আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ। যে মন্দকর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিজিক দেয়া হবে।’ (সূরা তুর : ১৭-২০)। ওই আয়াত দ্বারা এটাই সুস্পষ্ট যে, মুমিন মুসলমান মাত্রই (নারী বা পুরুষ উভয়েই) অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন এবং সেখানে অফুরন্ত রিজিক পাবেন।
পৃথিবী ও পরকালে বেহেশত পেতে হলে আল্লাহ আমাদেরকে যে নিয়ম মেনে পৃথিবীতে চলতে বলেছেন সেভাবেই চলতে হবে। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহি শুদ্ধভাবে অজু করার মাধ্যমে আদায় করতে হবে। নামাজের পর হালাল রিজিকের জন্য কাজে নেমে পড়তে হবে। কারণ হালাল রিজিক ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। কিন্তু বর্তমান জামানায় অধিকাংশ মুসলমান আল্লাহর ভয়ে নয় বরং সামাজিক রেওয়াজের মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরই পার্থিব জগতের বিভিন্ন মায়া, মোহ তথা রিপুতে আসক্ত হয়ে পড়েন। গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, পরের ক্ষতিসাধন প্রভৃতি নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
সুতরাং মৃত্যুর পর আমরা যেখানে ফিরে যাব সেটা যেন কখনোই দোজখ বা জাহান্নাম না হয় তার জন্য আমাদের পৃথিবীতেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
লেখক : সাংবাদিক




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: