Friday, 22 June, 2018 | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভারতের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিকসিলেটডেস্ক:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতী প্রাঙ্গনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। মানবিকতার কারণেই তাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তবে আমরা চাই দ্রুত রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক। আর তাদের প্রত্যাবাসনে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মোদির সঙ্গে আলোচনাতেও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিষয়টি আবার তিনি উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার ঠিক দুপুরে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনের নাম ফলকের উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের আলোচনা নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু ভারতের নয়, তিনি আমাদেরও। রবীন্দ্রনাথ তার অধিকাংশ কবিতা বাংলাদেশে বসেই লিখেছিলেন। তাছাড়া ভারতের মত বাংলাদেশেরও জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথেরই লেখা। একই কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশ ভবনের অনুষ্ঠানে মোদি বলেছেন, শান্তিনিকেতন যতটা ভারতের, ঠিক ততটাই বাংলাদেশের। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জণগনের অর্থে নির্মিত বাংলাদেশ ভবন সাংস্কৃতিক বন্ধনেরই প্রতীক। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার প্রশংসা করে মোদী বলেছেন, দুই দেশের লক্ষ্য এক, লক্ষ্যপূরণের পথও এক। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের বন্ধনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। সহযোগিতাকে নতুন নতুন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করার কথা বলেছেন মোদী।
সেইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বংলাদেশের মানুষ যতটা গর্ব অনুভব করেন, ভারতের মানুষও ততটাই গর্ব অনুভব করেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ ও প্রকৃতির মেল বন্ধন ঘটেছে এই শান্তিনিকেতনে। আর তাই এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ভবন। এই ভবনের ডিজাইনের মধ্যে তা সুষ্পষ্ট। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের হাসি-কান্নার সঙ্গে মিশে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ। নোবেল জয়ের অর্থে শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ কৃষকদের ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশকে এক হয়ে চলতে হবে। দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো দৃঢ় হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশ ভবনটি অপূর্ব হয়েছে। আমরা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে একটি বঙ্গবন্ধু ভবনও করতে চাই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। মমতা আরো বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক অবিচল রয়েছে। চিরকালের এই ভাল সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ২৫ কোটি রুপিতে দ্বিতল এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই ভবনের পরিচালনার জন্য আরো ১০ কোটি রুপি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বিশ্বভারতীর সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হবে। এদিন সকালে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে ভাষণ দিতে গিয়ে আচার্য নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি আলাদা দেশ হলেও সহযোগিতা এই দুই দেশকে জুড়ে দিয়েছে। আর তারই উদাহরণ হল বাংলাদেশ ভবন। ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। এটি একটি দুর্লভ ঘটনা যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। আমি অতিথি হিসেবে এখানে আসিনি। আমি এসেছি আচার্য হিসেবে। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এসে গর্ববোধ করছি। গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ বন্দিত। তিনিই প্রথম বিশ্বনাগরিক। এখনও তিনি বিশ্বনাগরিক হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। মোদী তার দীর্ঘ ভাষণে বলেন, রবীন্দ্রনাথ গোটা বিশ্বকে আপন করে নিয়েছিলেন। আর তার সেই বিশ্বভাবনার ফসল হল বিশ্বভারতী। মোদি তার ভাষহœ শুরু করেছিলেন বাংলায়। সমাবর্তন উৎসবও ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। মোদির ভাষায়, এই আ¤্রকুঞ্জ অতীতে বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে। এদিনও বিশ্বভারতীর সমাবর্তন ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাক্ষী থেকেছে। একই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম বিশ্বভারতীর কোন সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত থাকলেন কোনও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ৪২ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন দর্শক আসনে। এছাড়াও এদিন মঞ্চে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি এবং বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন। প্রচন্ড গরম সত্ত্বেও প্রায় দশ হাজার ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় মানুষ এদিনের সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন শেষে মমতাকে সঙ্গে নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন। এদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দুদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট কলকাতার দমদম সুভাষ বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে পৌঁছান। হেলিপ্যাড থেকে শেখ হাসিনা রবীন্দ্রভবনে পৌঁছালে মোদী তাকে স্বাগত জানান। এই সময় হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহেনা। সেখানে পুষ্পার্ঘ দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা। । এরপর দুজনই সেখানে রাখা স্মারক মন্তব্য বইতে তাদের মতামত লিপিবব্ধ করেন। সেখান থেকে বিশ্বভারতীর প্রথা অনুযায়ী দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদী, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী লাল ত্রিপাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়সহ সকলেই হেঁটে আম্রকুঞ্জের মূল অনুষ্ঠানস্থলে আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদির পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। প্রথানুযায়ী আচার্য মোদী উপাচার্যের হাতে একটি ছাতিম পাতা তুলে দেয়ার মাধ্যমে সমাবর্তন সূচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে সমাবর্তনের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাগত বক্তৃতা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন। এর পরেই বক্তৃতা দেন অতিথি হিসেবে উপস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের এক সন্ন্যাসী। সেই ভাষণ শেষে মোদী আচার্য হিসেবে তার ভাষণ দিয়েছেন।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: