Thursday, 21 June, 2018 | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

পর পর তিন ভাইকে বিয়ে করতে হয় খাদিজার

প্রতীকী ছবি

দৈনিকসিলেটডেস্ক: প্রথমে খাদিজার বিয়ে হয় এক তালেবান জঙ্গির সঙ্গে। তখন খাদিজার বয়স ছিল ছয়। আর ওই তালেবান স্বামী তার থেকে ১৫ বছর বেশি বয়সী। তারপর বিয়ে হয় এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে। সেই স্বামীও তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়। তার তৃতীয় স্বামী দোভাষী পুলিশ সদস্য ছিলেন। এখন তার জীবনও বিপন্ন। কারণ তালেবানরা তাকে এবং তার শিশুপুত্রকে খুনের হুমকি দিচ্ছে।

খাদিজার তিন স্বামী আসলে তিন সহোদর। পাখতুন সমাজের নিয়ম, মৃত ভাইয়ের বউকে বিয়ে করতে হয় ভাইকে। ফলে এভাবেই তাকে পর পর তিনটি বিয়ে করতে হয়। বর্তমানে খাদিজার বয়স ১৮ বছর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে খাদিজা। জন্মের আগেই তার বাবা তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলেন। সেই মতো ছয় বছর বয়সে খাদিজার বিয়ে হয় তার থেকে ১৫ বছরের বড় জিয়া উল হকের সঙ্গে। সেই সময়ে তাদের বাসভূমি মারজা ছিল তালেবানদের স্বর্গ। মারজায় মার্কিন সেনার প্রভাব বাড়লে জিয়া উল হকের বাড়িতে আসা-যাওয়া কমে যায়। এক সময়ে এক এনকাউন্টারে সে নিহত হয়। খাদিজার বয়স তখন ১০।

জিয়ার পরের দুই ভাই পুলিশে চাকরি করত। পুলিশও এই সময়ে যুদ্ধে লিপ্ত। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ভাই আমিনুল্লাহর সঙ্গে খাদিজার আবার বিয়ে হয়। তখন আমিনুল্লাহর বয়স ২২ বছর। পরে ২০১৪ সালে আমিনুল্লাহও মারা যায়। খাদিজার গর্ভে তখন সন্তান। ১৪ বছর বয়সে তার এক কন্যাসন্তান জন্মায়। পবিত্র কোরআন নির্ধারিত চার মাস পরে বিধবা খাদিজার পুনরায় বিয়ে হয় পরের ভাই শামসুদ্দিনের সঙ্গে।

শামসুদ্দিন তার পরিবার নিয়ে হেলমন্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গড়ে চলে যায়। সেখানে সে প্রতিদিন ২৫ ডলারের বিনিময়ে মার্কিন সেনাদের দোভাষীর কাজ করতে থাকে। কিন্তু সেই চাকরিও চলে যায়। পরে রিকশা চালানো শুরু করে শামসুদ্দিন। ইতোমধ্যে শামসুদ্দিন ছাড়া তাদের পরিবারের বাকি পুরুষরা মারা গেছেন। কখনও তালেবান হামলায়, কখনও বা যুদ্ধে। শামসুদ্দিন একাই বেঁচে আছেন খাদিজা আর শিশুকন্যাটিকে নিয়ে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামসুদ্দিন জানায়, সে খাদিজাকে বিয়ে করতে চাননি। দেশের নিয়মের কারণেই তাকে বাধ্য করেছে বড় ভাইয়ের বিধবা বউকে বিয়ে করতে। সে চেয়েছিলেন, খাদিজা অন্য কাউকে বিয়ে করুক। কিন্তু তখন কিছুই করার ছিল না।

বর্তমানে খাদিজা ও শামসুদ্দিনের কোলে এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। তালেবানরা নিয়মিত ফোন করে সেই শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়। শামসুদ্দিনকেও নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এটা শুধু খাদিজার একার কাহিনী নয়, আফগান গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারেই এমন চিত্র রয়েছে।

সূত্র: এবেলা

সর্বশেষ সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: