Wednesday, 12 December, 2018 | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

চ্যালেঞ্জের মুখে এরদোগান

আঙ্কারা: তুরস্কের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সামান্য কিছু ভোটের ব্যবধানের জন্য প্রথম রাউন্ডে বিজয়ী হতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার ‘গেজেসি’র প্রকাশিত সর্বশেষ এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায় যে, এক সপ্তাহের মধ্যে এরদোগানের সমর্থন ১.৬ শতাংশ কমেছে।

জরিপের ফলাফলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ২৪ জুনের ভোটে এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি পার্লামেন্টে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে।

গত ২-৩ জুন পর্যন্ত গেজেসি এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে মোট উত্তরদাতা ছিল ২,৮১৪ জন। গেজেসির জরিপে দেখা যায়, প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে এরদোগান ৪৭.১ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন।

এক সপ্তাহ আগে গেজেসির অনুরুপ একটি জরিপে দেখা গিয়েছিল এরদোগান ৪৮.৭ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন। সূত্র: রয়টার্স

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট এরদোগান নির্ধারিত সময়ের এক বছরেরও বেশি আগে নির্বাচন আহ্বান করেন। অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য তুরস্কের একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্রেসিডেন্সির প্রয়োজনের কথা বলে এরদোগান আগাম নির্বাচন দেন।

গত গেজেসির জরিপের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে এরদোগান ৪৮.৭ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী প্রার্থী মুহররেম ইন্স পাচ্ছেন ২৫.৮ শতাংশ ভোট।

এরদোগান এবং ইন্সের পরেই অবস্থান করছিলেন মেরাল আকসেনার। তিনি ভোট পাচ্ছেন ১৪.৪ শতাংশ। দেশটির সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাশনালিস্ট মোভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর গত বছর ‘আইয়ি’ বা ‘গুড’ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। তার সাবেক দল এমএইচপি বর্তমানে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ফলাফলে আরো দেখা গিয়েছিল, কারাগারে আটক থাকা কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) প্রার্থী সেলাহাত্তিন ডেমিরতাজ ১০.১ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন।

তুরস্কের অন্যতম পরিচিত রাজনীতিবিদ ডেমিরতাজ যদিও তিনি কারারুদ্ধ অবস্থায় প্রচারণা চালাচ্ছেন, তারপরেও সংসদে প্রবেশের জন্য ১০ শতাংশ ভোটের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটি অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পার্লামেন্ট নিয়ে যুদ্ধ
এরদোগানকে বলা হচ্ছে তুরস্কের সবচেয়ে সফল নেতা। একই সঙ্গে কেউ কেউ তাকে সবচেয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবেও ডেকে থাকেন। তার একে পার্টি গত বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির শাসন ক্ষমতায় এবং বর্তমানে পার্লামেন্ট তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

যাইহোক, গেজেসির জরিপে দেখানো হয়েছিল, একে পার্টি ও এমএইচপি মিত্র জোট ৬০০ আসনের পার্লামেন্টে সামান্য কিছু ভোটের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না। নির্বাচনে তাদের জোট ৪৮.৭ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি), আইয়ি পার্টি এবং সাদাত পার্টি মিলে ৩৮.৯ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সেলাহাত্তিন ডেমিরতাজের এইচডিপি ১১.৫ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন।

পার্লামেন্ট নির্বাচনে এইচডিপি’র কর্মক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দলটির কোনো জোট বা অংশীদার নেই। যদি এটি ১০ শতাংশ ভোটের বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার আসনগুলি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলের পক্ষে চলে যাবে।

এতে সম্ভবত এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি বেশি লাভবান হবে। কারণ দেশটির পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণপূর্বের কুর্দিশ অঞ্চলে একে পার্টি বেশ শক্তিশালী। সূত্র: হারেৎজ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: