Monday, 16 July, 2018 | ১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সংসার ভাঙছে

স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে শ্রাবন্তী। ছবি: সংগৃহীত

দৈনিকসিলেটডেস্ক: একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। ব্যক্তি জীবনে মনোযোগী হয়ে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বহুদিন আগেই। ঘর বেঁধেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলমের সঙ্গে। সম্প্রতি তাদের সংসার জীবনে বিষাদের সুর পাওয়া গেছে।

৩০ জুন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে শ্রাবন্তী জানান, তিনি সংসার জীবনে বিচ্ছেদ চান না। সুন্দর-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান।

শনিবার রাতে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘কেন এমন করছ? দাও না আমাদের মাফ করে। এক ঘর দরকার নাই, কিন্তু এক ছাদের নিচে থাকি আমরা। বাচ্চাদের প্রতি একটু দয়া করো।

তুমি তো প্রতিজ্ঞা করেছিলে, কখনো ছেড়ে যাবে না। এখন কেন ছেড়ে গেছ? আমাদের বাচ্চাদের ভাঙা পরিবারে বড় হতে দিও না। আমি তোমার কাছে হাতজোড় করে বলছি, আমাদের বাচ্চাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিও না।’

গত ৭ মে শ্রাবন্তীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন স্বামী খোরশেদ আলম। বগুড়া সদরের কালীতলার শিববাড়ি সড়কে শ্রাবন্তীর বাবার বাসার ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়। আর গত ২৫ জুন দেশে ফিরেছেন শ্রাবন্তী। এখন আছেন বগুড়ায়। ৪ জুলাই মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন।

এরই মধ্যে গত ২৬ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থানায় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আর যৌতুকের মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে ১ জুলাই রবিবার দুপুরে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি। এরপর মেসেজ পাঠানো হয়, তারও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিকেল চারটার দিকে এ অভিনেত্রীকে আবারও ফোন করা হয়, কিন্তু ফোনটি রিসিভ হয়নি।

তবে গণমাধ্যমে শ্রাবন্তীর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে স্বামী বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘২৫ জুন দেশে আসার পর আমি রামপুরা বনশ্রীতে আলমের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু আমাকে আর বাচ্চাদের বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাসা নেই। শেষে পরিচিতদের সহযোগিতায় এক মামাতো ভাইয়ের বাসায় যাই।’

ঢাকায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত আলম তার সঙ্গে দেখা করেনি জানিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, ‘এমনকি বাচ্চাদের সঙ্গেও দেখা করেনি। কোনো খোঁজ নেয়নি। গত এপ্রিল মাসে আলম যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ওই সময় আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেনি। আমার দুই বাচ্চা সেখানে সরকারের কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পায়। আলম আমাকে না জানিয়ে ব্যাংক থেকে সেই ছয় হাজার ডলার তুলে নিয়ে আসে।’

‘সেখানে বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে চলব, কী খাওয়াব, তা ভাবেনি। ও বাচ্চাদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। দেশে ফেরার পর আলমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হয়েছি’, বলেন শ্রাবন্তী।

এত দিন খোরশেদ আলম তাদের সবার সুন্দর একটি জীবনের কথা ভেবেই পারিবারিক টানাপোড়নের বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেনি বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে খোরশেদ বলেন, ‘সংসার জীবনে নানান ধরনের জটিলতা থাকবে এটা স্বাভাবিক। আমাদের দুটি বাচ্চা আছে, এ কারণে শ্রাবন্তীকে অনেক ছাড় দিয়েছি।’

এত কিছুর পরও শ্রাবন্তী তার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে দাবি করেন খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘এত দিন আমি ব্যাপারগুলো সামনে আনতে চাইনি, কারণ তা আমাদের কারও জন্যই ভালো হবে না। কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আর পারস্পরিক সম্মানবোধ ও বিশ্বাস নেই বললেই চলে। যা অবশিষ্ট আছে, তা শেষ হওয়ার আগেই আমি সরে এসেছি। আমি চাইনি আমাদের সম্পর্কের ক্ষতিকর প্রভাব বাচ্চাদের ওপর পড়ুক।’

আলম জানান, তিনি তাদের দাম্পত্য জীবনের সংকট নিয়ে শ্রাবন্তীর বোন আর তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে বসেছিলেন সমাধান করার জন্য। সেখানে সমঝোতার বিষয়ে অনেক কথা হয়, নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

শ্রাবন্তী তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আরেকটি মেয়ে চলে এসেছেন। সেই মেয়েটি মালয়েশিয়ায় থাকেন। আগে এনটিভিতে চাকরি করতেন। তিনিও বিবাহিত। এখন আলমের সঙ্গে প্রেম করছেন।’

২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শ্রাবন্তী ও আলম। শেষ ২০১০ সালে নূরুল আলম আতিকের ‘ডালিম কুমার’ নাটকে অভিনয় করেছেন শ্রাবন্তী। এরপর আর অভিনয় জগতে ফিরেননি তিনি। তার বড় মেয়ে রাবিয়াহ বয়স ৭ আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সাড়ে ৩ বছর।সূত্র:প্রিয়.কম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: