Tuesday, 21 August, 2018 | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

Advertisement

ফুটবল ম্যাচের মাধ্যমে যেভাবে ইসলামকে খোঁজে পেল ফরাসি যুবক

দৈনিকসিলেটডেস্ক: আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম ম্যাথিউ। আমার বয়স ২২ এবং আমার জন্ম বেলজিয়ামের নিকটবর্তী ফ্রান্সের উত্তরপূর্বাঞ্চলে।

১৩ বছর বয়সে আমি দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে চলে আসি এবং এখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমি ব্যবসা প্রশাসনের ওপর মার্স্টাস করছি। আমি একই সঙ্গে ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির পড়াশোনার সঙ্গেও জড়িত আছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিউজিল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এব্যাপারে একটি চুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমার বাবা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। আমার মা একজন ক্যথলিক কিন্তু তিনিও প্রতিদিন চার্চে যান না। একারণে আমি শুরুতে ধর্ম সম্পর্কে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি নাই।

যেভাবে ইসলাম সম্পর্কে জেনেছি
ধর্মীয় শিক্ষা হিসেবে আমি শুরুতে ইসলামি শিক্ষা পাই। এজন্য আমি আমার বন্ধু, পরিবার এবং মরোক্কো, তুরস্ক, আলজেরিয়া এবং তিউনিসিয়ার আমার পরিচিতদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সৌভাগ্যবশত, আমি যেখানে বাস করছিলাম সেখানে অনেক অভিবাসীর বাস ছিল। তারা সবাই আমার বন্ধু ছিল এবং তাদের মধ্যে আমিই ছিলাম একমাত্র ফরাসি। আমরা একসঙ্গে অনেক খেলা করেছি।

ওই দিনগুলোতে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করি। আমরা যখন ফুটবল খেলছিলাম তখন তাবলিগের লোকজন মাঠে আসত। ওই সময় আমরা খেলা বন্ধ রাখতাম এবং তারা ইসলাম সম্পর্কে বলতে থাকত।

তারা ইসলাম সম্পর্কে কথা বলার সময় শুরুতে আমি গ্রুপের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপর তাবলিগের লোকেরা আমাকে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে বলে এবং তারপর ধর্ম সম্পর্কে জানতে তারা আমাকে মসজিদে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের আমন্ত্রণে আমি মসজিদে যাই এবং এভাবেই আমি ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠি।

তারপর আমি ইসলামের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং ইসলাম সম্পর্কে অনেক লোককে জিজ্ঞেস করি এবং এভাবেই আমি এই ধর্মের সঙ্গে আরো জড়িত হয়ে যাই।

আমি বলব যে আমি খুব আগ্রহী ছিলাম, কারণ আমি কিছুই জানতাম না। রোজার মাসে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার বিষয়টি আমার খুব ভাল লাগত।

মুসলিমরা এটি কিভাবে করতে পারে, তা ভেবে আমি আশ্চর্য হতাম। রমজানের পরে ঈদের মতো ইসলামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপন আশ্চর্যজনক ছিল। অবশেষে আমি এই ধর্ম সম্পর্কে শিখার সিদ্ধান্ত নেই।

পরিবার এবং বন্ধু
আমি খুবই ইয়াং ছিলাম এবং আমার বাবা-মা আমার ইসলামে ধর্মান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছেন, তা শুনে বন্ধু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল। তারা আমাকে তাদের সন্তানের মতোই মনে করত কারণ তারা আমাকে অনেক সাহায্য করতে চেয়েছে। তারা আমাকে তাদের পরিবারের অংশ হিসেবে দেখেছিল। সুতরাং এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল।

অন্য যারা ইসলামে ধর্মান্তরের চেষ্টা করছিল, এ নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত আমার বাবা-মা খুব কঠিন ছিল না। আমি যা করতে চেয়েছি, তা বেছে নিতে তারা আমাকে বাধা দেয় নি।

একই সময়ে তারা চাইত আমি নিরাপদ অবস্থানে থাকি এবং মসজিদকে তারা নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করত কারণ আমি রাস্তায় কাউকে অপমান করতাম না, কারো কিছু চুরি করা কিংবা কারো সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হতাম না। তাই রাস্তায় থাকার চেয়ে তারা আমার মসজিদে থাকাকে পছন্দ করত।

ইসলাম যে অফার করতে পারে
আমি মনে করি ইসলাম আমার জন্য একটি ভাল জিনিস ছিল। এটা আমাকে মানুষকে শ্রদ্ধা করতে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এটি ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি অধ্যয়ন ও জ্ঞান অর্জনের জন্য উত্সাহ দেয়।

দুভার্গ্যজনকভাবে আমার কয়েকজন বন্ধু, যারা ইসলামের প্রতি আগ্রহী হওয়ার চেষ্টা করেনি, তারা অবশেষে মাদকাসক্ত হতে শুরু করে এবং মদ পান থেকে শুরু করে বিয়ে করার আগেই অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

সৌভাগ্যবশত আমি ইসলাম গ্রহণ করতে পেরেছি এবং এটি আমার প্রতিদিনের জীবনে আমাকে সাহায্য করেছে। আমি মনে করি, ইসলাম হল দরিদ্র মানুষের জন্য এক ধরনের প্রতিকার। উদাহরণস্বরূপ, কারাগারে থাকা যেসব মানুষ ইসলাম আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন, তারা এর কল্যানে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: