Thursday, 20 September, 2018 | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

স্কুলছাত্র ইমন হত্যা মামলায় দুইজনের সাক্ষ্য প্রদান

দৈনিকসিলেটডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবার শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিহতের মা শামীমা বেগমসহ দুইজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসানের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদানকালে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, ইতিমধ্যে বাদীর মানিত সাক্ষী ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। যারাই ইতিমধ্যে সাক্ষী দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই প্রমাণ করতে পেরেছেন কারা শিশু ইমনকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, ইমনের মা ছাড়াও মঙ্গলবার আত্মীয় আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি সাক্ষী দেন।

সাক্ষী প্রদানকালে ইমনের মা শামীমা বেগম উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ ইমন বাড়ির সামনে খেলছিল। তার পিতা তাকে খেলার মাঠ থেকে আনতে গেলে তাকে পাননি। ওই দিন আসরের নামাজের পর গ্রামের কালা মিয়ার মোবাইল ফোনে বলা হয় ২ লাখ টাকা নিয়ে দোয়ারাবাজার গেলে ইমনকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ৮ এপ্রিল সিলেটের কদমতলী থেকে মসজিদের ইমাম শুয়াইবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বাতিরকান্দি শাহজালাল জামে মসজিদের সামনে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় শুয়াইবুর রহমান জানায়, আসামি রফিক, জাহেদ ও ছালেহ আহমদ মিলে ইমনকে হত্যা করেছে।

শামীমা আরও উল্লেখ করেন, মসজিদের সামনের লিন্টারের নিচ থেকে বিষের বোতল, ছুরি ও রক্তমাখা তোয়ালে উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে ঠেঙ্গারগাওয়ের মতিন হাজির জমিন থেকে ইমনের মাথার খুলি, হাড়গোড় ও চোয়ালের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি ট্রাইব্যুনালে ওঠে। মামলার কার্যক্রম দ্রুতই এগিয়ে চলছিল। আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় মধ্যখানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ ছিল। প্রায় এক বছর পর ২ আগস্ট থেকে আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত।

সর্বশেষ সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: