Thursday, 18 October, 2018 | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

ধর্ষণ চেষ্টার সময় চিৎকার করায় স্কুলছাত্রী হত্যা

দৈনিকসিলেটডেস্ক:ধর্ষণের চেষ্টার সময় চিৎকার করায় নাক-মুখ ও গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে স্কুলছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিন (১৩)কে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন যুবককে আটকের পর স্বীকারোক্তি মোতাবেক রোববার রাত ৯টায় স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়া এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে শুক্রবার নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী তুহিন। নিখোঁজের দু’দিন পর নিজেদের বাসভবনের চুতর্থ তলার ভাড়াটিয়ার ছেলে শাহনেওয়াজ মুন্নার সোফার নিচ থেকে তুহিনের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তুহিন সালাম ম্যানশন নামে পাঁচতলা ভবনের মালিক উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়বের মেয়ে ও হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

শাহানেওয়াজ মুন্না একই পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজানের পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে তারা সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো বলে জানান হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এসআই জসিম উদ্দিন।
এসআই জসিম উদ্দিন জানান, তুহিনের বাবা-মা হজ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন।
এ সময় ভবনের নিচ তলা থেকে ২য় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই সন্ধ্যায় থানায় তুহিন নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার মামা এরশাদ মাসুম।

এরশাদ মাসুম জানান, তুহিন নিখোঁজের পর থেকেই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ডা. শাহজাহানের ছেলে মাদকসেবী বখাটে মুন্না ও তার সহযোগীদের সন্দেহে আনা হয়। বিষয়টি অবহিত করার পর পুলিশ শুক্রবার রাতে মুন্নার রুমে তল্লাশি চালিয়ে ব্যর্থ হয়। কিন্তু রোববার মুন্নার রুম থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ মাদকসেবী বখাটে মুন্নাকে রোববার বিকালে আটক করে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে তুহিনকে হত্যা করে লাশ তার বাসায় সোফার নিচে লুকিয়ে রেখেছে বলে জানায়।

মুন্না জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, স্কুলছাত্রী তুহিন তার চাচাত খালাত বোন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় তুহিন আসলে তার লালসার জন্ম হয়। তাকে ধর্ষণের চেষ্টায় সপর্শ করলে সে চিৎকার দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তুহিনকে হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে সোফার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এ সময় মুন্নার বাবা-মা বাসায় ছিলেন না বলে পুলিশকে জানায় সে।

এরপর হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার রাত ৯টায় শাহজালাল পাড়া সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার ডা. শাহজাহানের ভাড়া বাসা থেকে স্কুলছাত্রী তুহিনের বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায়। ফলে দুই পার্বত্য এলাকা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ওই দুই মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম এ প্রসঙ্গে বলেন, স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সড়কে ব্যারিকেড দেয়। তবে, হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে আধঘণ্টা পর উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয়।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: