Monday, 10 December, 2018 | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

জাতিসংঘে বাংলাদেশী দুই ছাত্রী

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : তাসমিয়া কায়েনাত আশা ও রায়ান আফরিন জাতিসংঘে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ং লিডার্স এ্যাসেম্বলী’র ‘গ্লোবাল সামিট’-এ অংশগ্রহন করে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই সামিটে ওরা দুজনই ছিলো সর্বকনিষ্ঠ অংশগ্রহনকারী। এজন্যে অনেকের কৌতুহলী দৃষ্টি প্রসারিত হয় ওদের প্রতি। আশা তার বক্তব্যে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকেই উদ্ভাসিত করে।
আশা ঢাকার উদ্দীপন বিদ্যালয় থেকে ৫ম (২০১০), ৮ম (২০১৩) ও এসএসসি (২০১৬) তে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সে ঢাকা সিটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ (২০১৮) এর এইচএসসি পরীক্ষার্থী অবস্থায় গত বছর ১৫ ডিসেম্বর পরিবারের সাথে ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় নিউইয়র্কে এসেছে। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথমে তাকে নবম গ্রেডে ভর্তি করতে চেয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আশার মা-বাবার অনুরোধে তার জন্যে বিশেষ একটি পরীক্ষার আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। চমৎকার রেজাল্ট প্রদর্শনে সক্ষম হওয়ায় তাকে একাদশ গ্রেডে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে আশা নিউইয়র্ক সিটিতে উইলিয়াম কুলেন ব্রায়ান্ট হাই স্কুলের নিয়মিত ছাত্রী ছাড়াও পিএস-৯২তে সহকারি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে। তার মা ফারহানা পারভীন (সান্তনা ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন উপদেষ্টা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার ছিলেন। বর্তমানে তিনি ম্যানহাটানে চেট্রি এ্যান্ড এসোসিয়েট্্স ল’ ফার্মে কাজ করছেন। আশার বাবা ঢাকার রায়েরবাজারের সন্তান আহ্সানুজ্জামান ঠাকুর (স্বপন ) চেষ্টা করছেন নিউইয়র্কে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথ সুগম রাখতে। প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম ঠাকুর ওরফে মুরাদ ঠাকুর হচ্ছেন আশার দাদা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে তার নামে একটি সড়কের নাম করণ ‘বীর মুক্তিযাদ্ধা মুরাদ ঠাকুর সড়ক’ অনুমোদিত হয়ে উম্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছে ।
জাতিসংঘের এ সামিটে অংশ নেয়া অপর বাংলাদেশী রায়ান আফরিনের বাবা মারুফুল ইসলাম, মা সাবিনা ইয়াসমিন। তারাও ২০১৫ সালে ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় নিউইয়র্কে এসেছেন। রায়ান বাংলাদেশে এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়তো। বত’মানে আশা ও রায়ান একই স্কুলে একই শ্রেনীতে অধ্যয়নরত । রায়ান সব সময়ই স্কুলে প্রথম হত । এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি । এছাড়াও সে বিভিন্ন অর্গানাইজেশনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। রায়ানের মা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ছিলেন, বাবাও বাংলাদেশে মার্কিন এ্যাম্বাসীতে কাজ করতেন। রায়ান নিউইয়র্কের শিক্ষা সহায়ক প্রতিষ্ঠান ‘ববি তারিক’ এ কর্মরত।
আশা আর রায়ান বিশ্বসভায় প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী প্রজন্মে উদ্দীপনা জাগিয়েছে। তাদের এই ভ’মিকা শিক্ষা জীবনেই শুধু নয়, কর্মজীবনেও সাফল্য বয়ে আনবে বলে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা মনে করছে।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: