Thursday, 15 November, 2018 | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক বিস্ময় পুরুষ আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

দৈনিকসিলেটডেস্ক:বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক বিস্ময় পুরুষ আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…..রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মগবজারের নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন। এরপর দ্রুত তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে এ দেশীয় ব্যান্ড সংগীত অনন্য মাত্রা পেয়েছে। সেই আশির দশক থেকে আজ অবধি গানের সুরে ও কথায় তিনি মন জয় করে নিয়েছেন বাঙালি হৃদয়। জনপ্রিয় হয়ে উঠেন দেশে বিদেশে। ‘ফেরারি মন’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’,‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। তিনি একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। এলআরবি ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু দেশের ব্যান্ড জগতের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

এলআরবির সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইয়ুব বাচ্চু বাসাতেই মারা গেছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। বুধবার রংপুরে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন এলআরবি ব্যান্ডের জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী। সংগীত জীবনের দীর্ঘ চার দশকে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীতজগতে প্রবেশ করেন আইয়ুব বাচ্চু। শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি নামেও পরিচিত তিনি। তার ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান ও লোকগীতি দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ময়নার মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন । এই ব্যান্ডের সঙ্গে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এলআরবি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। সুখ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রূপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ উল্লেখযোগ্য গান।
‘চলো বদলে যাই’ সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয় এই অ্যালবামকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান।

এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।
২০০৯ সালে তার অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশ হয়। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প ২০১৫ সালে বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয়ও করেন।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: