Tuesday, 21 May, 2019 | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

অবিশ্বাস্য মেসিতে ফাইনালের দরজা দেখছে বার্সেলোনা

দৈনিকসিলেটডেস্ক: ম্যাচ শুরুর আগে লিভারপুলের জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছিলেন, ন্যু-ক্যাম্প তাদের জন্য মন্দির! রূপক অর্থে কথাটা বলে তিনি আসলে বার্সেলোনাকে ছোটখাটো একটা হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে দলটিতে লিওনেল মেসি আছেন, তারা কি কারো হুমকিতে ভয় পেতে পারে! মেসি বরং আর একবার প্রমাণ করলেন ন্যু-ক্যাম্প বার্সেলোনারই নিশ্ছিদ্র দুর্গ। এবং তিনি সেই দুর্গের রাজা। অন্য কারো রাজত্ব সেখানে চলে না!

মেসিকে থামানোর সব রকম পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। কিন্তু কোনো পরিকল্পনাই কাজ হয়নি। মেসিকে তারা থামাতে পারেনি। অনুপম মোহনীয়তায় ২ গোল করে মেসি বরং বার্সেলোনাকে নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের দরজায়।

নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয়। সত্যিকার অর্থেই ফাইনালে এক পা দিয়ে ফেলল বার্সেলোনা। অন্য গোলটি করেছেন লুইস সুয়ারেজ।

ন্যু-ক্যাম্প জয় করার স্বপ্নে লিভারপুল দুর্দান্তই লড়াই করেছে। বল দখলের লড়াইয়ে সমানে সমানেই ছিল বার্সেলোনার। প্রতি আক্রমণেও ইংলিশ ক্লাবটি ছিল দুর্দান্ত। খামতি ছিল শুধু এতটুকু, তাদের একজন মেসি ছিল না। মেসি যাদের ছিল, জয়টা তাদেরই হয়েছে।

অবশ্য মেসি নন, বুধবার রাতে ঘরের মাঠে সেমি ফাইনালের প্রথম লেগটিতে বার্সেলোনাকে প্রথম এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। সমানে সমানে লড়াই করা লিভারপুলের উইঙ্গার নবী কেইতা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ২৪ মিনিটে।

তার এই মাঠ ছাড়াটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় লিভারপুলের জন্য। দুই মিনিট পরই বার্সেলোনা পেয়ে যায় গোল। লিগে প্রতিনিয়ত গোল করলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ হলেই যে কি হয়ে যায় সুয়ারেজের। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কালকের আগ পর্যন্ত একটিও গোল পাননি উরুইগুয়ান তারকা।

অবশেষে সেই আক্ষেপ মেটালেন নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে। জর্পি আলবার পাস থেকে দর্শনীয় এক গোল করে বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ২৬ মিনিটে। দ্বিতয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে লিভারপুল। কিন্তু মোহামেদ সালাহরা উল্টো ৭৫ মিনিটে আবারও গোল হজম করে বসে। সুয়ারেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বাউন্সের বলটি বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দর্শনীয়ভাবে জালে জড়িয়ে দেন মেসি। লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে জল ঢেলে বার্সা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

এরপর ৮২ মিনিটে মেসির ফ্রি কিক জাদু। ৩০ গজ দূরে ফ্রি কিক পায় বার্সেলোনা। মেসির বাঁ-পায়ের বাঁকানো শট বাতাসে নাচতে নাচতে ঢুকে যায় জালে। লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসনের করার কিছুই ছিল না!

এই গোলটির মাধ্যমে অনন্য একটা কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ছুঁয়েছেন ৬০০ গোলের মাইলফলক। হ্যাঁ, ফ্রি কিক থেকে করা গোলটা বার্সেলোনার হয়ে তার ৬০০তম অফিসিয়াল গোল। যে কীর্তি কদিন আগে গড়েছেন জুভেন্টাসের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও।

আগামী মঙ্গলবার সেমি ফাইনালের দ্বিতীয় লেগটি লিভারপুলের ঘরের মাঠে। ফলে অলরেডদের সম্ভাবনা তাই একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে ৩ গোলের ঘাটতি পূরণ করে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনালে যাওয়াটা তাদের জন্য কঠিনই হবে। খুব খুব কঠিন।

সর্বশেষ সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: