Monday, 24 June, 2019 | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

ভিসা ইস্যুতে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা

দৈনিকসিলেটডেস্ক: ভিসা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রায় চার মাস ধরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। সম্পর্ক এতটাই তলানীতে ঠেকেছিল যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভিসা সেকশনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রদূতদের তলব বা ডাকাডাকি তো ছিলই। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এত কিছুর পরও দুই পক্ষের আলোচনা চলছিল, যার ফল এসেছে গতকাল। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ভিসা অফিসার ইকবাল হোসেন এবং তার মেয়ের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি তার ভিসা ও পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন।

ঢাকায় ৩ বার প্রত্যাখ্যাত ইকবাল হোসেনের স্ত্রী এবং ছেলের ভিসা দেয়ার বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার ইকবাল হোসেনের পরিবারসহ ঢাকায় ৯ বাংলাদেশীর ভিসা আবেদন ঝুলে আছে।

উল্টো দিকে বাংলাদেশে অ্যাসাইনমেন্টে আসার জন্য আবেদনকারী ৯ পাকিস্তানী নাগরিকের ভিসা ইস্যুর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ঢাকা। ইসলামাবাদ ও করাচি মিশনে ওই ৯ পাকিস্তানি ভিসা আবেদন করেছেন, যা এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েনের আপাতত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির পরই উভয় পক্ষ ঝুলে থাকা ৯:৯ ভিসা ইস্যু করতে যাচ্ছে।

এ নিয়ে উভয় দিকেই অভ্যন্তরীণ ফাইল চালাচালি এবং অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের নভেম্বরে ভিসা কর্মকর্তার পদ শূন্য হওয়া প্রেস কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওই দায়িত্ব দেয়া হয়। আগামী ২৯ শে জুন অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা ইকবাল হোসেনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। ভিসা সেকশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ায় জানুয়ারিতে তিনি ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। কিন্তু সেটি ঝুলি রাখা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ও ছেলের ভিসা আবেদনও ঢাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে তারাও পাকিস্তান ফিরতে পারছিলেন না। জটিলতা জট পাকতে শুরু করে তখন থেকেই। বিরক্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যখন তাদের ভিসার জন্য ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে যেতে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং ভিসা না দিয়ে পরবর্তীতে যেতে বলা হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এমন ঘটনা তাদের সাথে তিনবার করা হয়। এ অবস্থায় গত ৩০ শে মার্চ ইকবালের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইকবাল মিশনের ভিসা সেকশনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেন। ফলে ওই সেকশনই বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ইসলামাবাদের এমন আচারণের প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তনের নাগরিকদের বাংলাদেশের ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন দাবি করেন, ভিসা বন্ধ করে দেয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি, কিন্ত জনবল সংকটসহ নানামুখি জটিলতায় ভিসা ইস্যু করা যাচ্ছে না। তিনি খোলাসা না করলেও এটা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ভিসা কর্মকর্তার ভিসা না থাকায়ই এ জটিলতার সৃষ্টি, পাকিস্তান চাইলে এর সমাধান সম্ভব।-মানবজমিন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: