Monday, 24 June, 2019 | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

সিলেটে সরকারী স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে একটি মহল সক্রিয়

মুহিত চৌধুরী: সিলেটে সরকারী স্বাস্থ্য সেবা যাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হতে না পারে এবং বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক এর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারে সেজন্য একটি মহল সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।
সরকার সিলেট অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে পতিত আবুসিনা ছাত্রাবাস ভেঙ্গে ২৫০ শয্যা সিলেট জেলা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
ইতোমধ্যে দেশের চতুর্থ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের কার্যক্রম। এখানেও একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ইতোমধ্যে বলেছেন, সিলেটে আরো হাসপাতালের প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সিলেট নগরীর চৌহাট্টা থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত এলাকাকে ‘মেডিকেল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সিলেটের কোটি মানুষের ভরসাস্থল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাই নেই। ৫০০ শয্যা থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করার পরও ওয়ার্ডের মেঝেতে এবং বারেন্দায় রোগীকে শোয়ে থাকতে দেখা যায়।
১৯৩৬ সালে মেডিকেল ইনস্টিটিউট হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতাল। ২০০ শয্যার মেডিকেল স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৪৮ সালে। ১৯৬২ সালে উন্নীত হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১৯৮৬ সালে এমএজি ওসমানীর নামে নামকরণ করা হয় এই হাসপাতালের। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
২০১৭ সালে জরুরী সেবায় সেরা হাসপাতালের মর্যাদা পায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
বর্তমানে এই হাসপাতালের সেবার মান অনেক নিচে নেমে এসেছে। একটি সূত্র মতে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থান ১৪ তে নেমে এসেছে।
সরকার এই হাসপাতালের সেবার মান আরো উন্নত করার লক্ষে ইতোমধ্যে আধুনিক এনজিওগ্রাম মেশিন, এবং ওপেন হার্ট সার্জারিতে ব্যবহৃত ‘হার্ট লান’ মেশিন, এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন সরবরাহ করেছেন। গত ১৮ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন হাসপাতালে নতুন এই এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনের উদ্বোধন করেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, চিকিৎসকদের একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে ‘হার্ট লান’ মেশিন ঢাকায় ফিরে যাচ্ছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন- ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্ডিয়াক ভাসকুলার সার্জন এবং টিম না থাকায় মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাবে।

এখানে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সিলেটের মানুষের কি ওপেন হার্ট সার্জারি করার কোন প্রয়োজন নেই? সরকার কি না বুঝে ভুল করে এই মেশিনটি সিলেটে পাঠিয়েছেন?
কর্তৃপক্ষ ‘কার্ডিয়াক ভাসকুলার সার্জন এবং টিম’ কীভাবে নিয়োগ দেয়া যায় সে দেন দরবারে যাননি।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ বলছেন ভিন্ন কথা তারা জানান, ব্যক্তিগত লাভের জন্যই ‘হার্ট লান’ মেশিনটি ঢাকায় পাঠাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিলেটে একটি প্রাইভেট বিশেষায়িত হাসপাতালে ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ করার জন্য দ্রুত যন্ত্রপাতি সেটাপের কাজ চলছে। এই হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডারদের অনেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তারা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ‘হার্ট লান’ মেশিনটি ঢাকায় পাঠাবার ব্যবস্থা করেছেন।

একই অবস্থা সিলেট জেলা হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে। সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ পরিত্যক্ত, জরাজীর্ণ আবু সিনা ছাত্রাবাসকে ভেঙ্গে এখানে হাসপাতাল নির্মাণ হলে- আসে-পাশে গড়ে উঠা ক্লিনিক, হাসপাতাল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ব্যবসায়িক লোকসান হবে। আর সেজন্য তারা ঐতিহ্য রক্ষার ইস্যুকে সামনে এনে এই হাসপাতালের বিরোধিতা করছেন।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যার ‘সিলেট জেলা হাসপাতাল’ ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলনকারীরা তখন কোথায় ছিলেন?
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, সরকারী চাকুরীতে থেকে কারা বেসরকারী হাসপাতাল ব্যবসায় যুক্ত হয়ে সিলেটে সরকারী স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এদের খুজে বের  করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

তা না হলে এই চক্রটি তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে সিলেটের মানুষের সরকারী স্বাস্থ্যসেবাকে অচল করে তোলবে।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
দৈনিক সিলেট ডট কম
২০১১

সম্পাদক: মুহিত চৌধুরী
অফিস: ২৬-২৭ হক সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজার সিলেট
মোবাইল : ০১৭১ ২২ ৪৭ ৯০০,  Email: dainiksylhet@gmail.com

Developed by: