Monday, 23 January, 2017 | ১০ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
কোম্পানীগঞ্জে টিলা ধসে নিহত ২  » «   আরিফের বাসায় আসাদ: রাজনৈতিক সৌহার্দ না অন্য কিছু  » «   একটি সাঁকো, আট গ্রামবাসীরদুর্ভোগ!  » «   বাসা দখল করতে গিয়ে আটক ছাত্রলীগ নেতা আলীকে বহিষ্কার  » «   সাংবাদিক নাজমুলের মুক্তি দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন  » «   মেয়র হীন সিলেট সিটি করপোরেশন আর কত দিন  » «   জকিগঞ্জ সীমান্তে ১৭ বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে  » «   আখেরি মোনাজাতে মানুষের ঢল  » «   চুনারুঘাটে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০  » «   সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সিলেটের দ্বিবার্ষিকী সম্মেলন সম্পন্ন  » «   ছাত্রলীগ নেতা আলী গ্রেফতার  » «   নগরীর ‘খামখা ওভার ব্রিজ’ জলে গেল দেড় কোটি টাকা  » «   নদী যখন মেঠোপথ!  » «   জকিগঞ্জে প্রবাসীর ছেলেকে কুপিয়ে জখম  » «   দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্কাউট সমাবেশের সম্পন্ন  » «  





‘রিজার্ভের দেড় কোটি ডলার দু-একদিনের মধ্যে ফেরত পাচ্ছি’

fmদৈনিকসিলেটডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার (১২০ কোটি টাকা) দু-একদিনের মধ্যে ফেরত পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্থ সম্ভবত আমরা পেয়ে গেছি অথবা আগামী দু-একদিনের মধ্যে পেয়ে যাব। এখন নিশ্চিত করে বলা যায়, চুরি যাওয়া অর্থের একটি অংশ আমরা পাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ যেসব দেশে আছে, তা যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে আমরা তা সহজেই পাব।’

চুরি হওয়া অর্থের কতটুকু ব্যাংকিং চ্যানেলে আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া যে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ফেরত দিতে গত সোমবার নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের একটি আদালত। এই অঙ্কের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডলার (১২০ কোটি টাকা)। গত ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে নেওয়া হয়।

এই অর্থের অধিকাংশ জুয়ার টেবিলে চলে গেলেও তার মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করেছে। ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে সোমবার ফিলিপাইনের আদালত নির্দেশ দিয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এই খবর আসার পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে লোপাট হওয়া অর্থের পুরোটা পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোকাম্মেল হক বলেন, ‘ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট শুনানি শেষে ইতিপূর্বে বাজেয়াপ্ত ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ৪৬৩ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৪৮৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো (সব মিলিয়ে দেড় কোটি ডলার) বাংলাদেশের অনুকূলে অবমুক্ত করার আদেশ জারি করেছেন।’

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ সরানো হয়েছিল ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশনে (আরসিবিসি)। ওই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হলে ফিলিপাইন সরকার তৎপর হয়। দেড় কোটি ডলারের সন্ধান মেলার পর তা জব্দ করে তারা। তা রাখা হয় ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অর্থের মালিকানা দাবি করে ফিলিপাইনের আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালত থেকে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল ন ফিলিপিনাসকে (বিসিপি) এই অর্থ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এই অর্থ এখন বিসিপির ভল্টে আছে।

গত মে মাসে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির তদন্তের সময় এক ‘ক্যাসিনো জাংকেট’এই দেড় কোটি ডলার ফেরত দেন। যদিও তার জুয়ার আখড়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভের সাড়ে ৩ কোটি ডলার গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তার হদিস এখনো মেলেনি।

ফিলিপাইন সরকার জুয়ার আখড়ার আরো আড়াই কোটি ডলার জব্দ করেছে, ওই অর্থের দাবি বাংলাদেশ করলেও তার সুরাহা এখনো হয়নি।

অবশিষ্ট অর্থ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে, এ কথা জানিয়ে মোকাম্মেল হক বলেন, ‘আশা করা যায়, চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ অচিরেই বাংলাদেশ আদায় করতে সমর্থ হবে।’

ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: