Thursday, 19 January, 2017 | ৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
কলেজছাত্রী ঝুমাকে ছুরিকাঘাতকারী জকিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার  » «   মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   ‘বাংলাদেশে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে’  » «   বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্ট সেমিনার  » «   দিরাইয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, নিহতদের দাফন সম্পন্ন  » «   পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধ নির্মূল করা সহজ হবে: পুলিশ কমিশনার  » «   সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন আরিফ  » «   ‘অনলাইন প্রেসক্লাবই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব উদাহরণ’  » «   বাহুবলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ,আহত অর্ধশতাধিক  » «   ‘সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে লুৎফুর নিরলস ভাবে কাজ করবেন’  » «   প্রমাণ করুন মানুষ মানুষের জন্য…  » «   দিরাইয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩  » «   মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার  » «   জালালাবাদে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক  » «   ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু বুধবার  » «  





ইসলামে কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণা

islamমোজাফফর হোসেন: গোত্রভিত্তিক আরব পৌত্তলিক ও আরব ইহুদি সমাজে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যে সিদ্ধান্তগুলো হজরত মুহাম্মদ সা: গ্রহণ করেছিলেন; তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। প্রতিহিংসাপরায়ণ আরব জাহেলি সমাজে গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে সেখানে এক সার্বজনীন ইনসাফ-ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা তৈরির জন্য তিনি শান্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তৎকালীন জাহেলি আরবে গোত্রীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভে যে সহিংসতার বিস্তার ঘটেছিল, তা নিরসনের জন্য মুহাম্মদ সা: যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা ছিল সমাজ পরিবর্তনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং সময়োপযোগী অতিব সাহসী পদক্ষেপ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিভ্রান্তিকর মতবাদে বিশ্বাসী আরব জনজীবনে যুদ্ধবিগ্রহ ও সহিংসতা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। অশান্তির দাবানলে দগ্ধ নৈরাশ্যবাদী সমাজপতিরা মিথ্যা অহমিকাকে সম্বল করে, ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতাকে আরো প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে নৈরাজ্যকে বেছে নিয়েছিল হাতিয়ার হিসেবে। গান-বাজনা, হৈ-হুল্লোড়, নাচা-কোঁদা, মদ-জুয়া, ব্যভিচার-বেহায়াপনাকে শান্তির সোপান ভেবে সেগুলোকে করেছিল আরাধ্য বস্তু। কিন্তু আরব জনগণের শান্তি ছিল সুদূরপরাহত। এমনই এক ক্রান্তিলগ্নে আগমন করেন মুহাম্মদ সা:। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই মহামানব ৪০ বছর ধরে ভাবলেন, কিভাবে পৃথিবীর সব মানুষকে একই কাতারে এনে অনাবিল শান্তির সুশীতল ছায়াতলে সন্নিবেশিত করা যায়। ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্ত হলেন তিনি। ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত সমগ্র আরব জাহানের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি পেরেছিলেন সদা-সর্বদা বিবাদ-বিসম্বাদে লিপ্ত মরুর বালুকণায় শান্তির নহর প্রবাহিত করতে। যা ছিল তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
যদি ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের অধীনে শান্তি অবশ্যম্ভাবী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার প্রমাণ মেলে হজরত মুহাম্মদ সা: কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্রে। এক চরম গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিল প্রাচীনকালের মদিনা রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনসাধারণ। এ রাষ্ট্রে কোনো দিন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর এ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অধিকর্তা ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব হজরত মুহাম্মদ সা:।
হজরত মুহাম্মদ সা: সিরিয়া থেকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের পর দেখলেন, মক্কার কুরাইশ গোত্রের মধ্যে ওকাজ মেলায় জুয়া খেলা, ঘোড়দৌড় ও কাব্য প্রতিযোগিতা নিয়ে সংঘটিত হরবুল ফুজ্জার বা অন্যায় যুদ্ধের বীভৎসতা ও নিষ্ঠুরতা। এসব দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে এ আত্মঘাতী যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে একটি শান্তি কমিটি গঠন করেন। মুহাম্মদ সা: কর্তৃক গঠিত এ শান্তি কমিটির নাম ছিল ‘হিলফুল ফুজুল’। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তিনি এ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেন। এ কমিটির সদস্যরা ছিলেন নিঃস্বার্থ, উদারপন্থী ও উৎসাহী। কমিটির সবাই আরব দেশ থেকে সর্বপ্রকার অনাচার, অত্যাচার ও অবিচার দূরীভূত করার শপথ গ্রহণ করেন। এ সঙ্ঘের কর্মসূচি ছিলÑ ১. দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ঠিক রাখা। ২. বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অন্যায় ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করা। ৩. অত্যাচারিতকে অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করা। ৪. দুর্বল, অসহায় ও এতিমদের সাহায্য করা। ৫. সর্বপ্রকার অন্যায় ও অবিচার অবসানের চেষ্টা করা এবং ৬. বিদেশী বণিকদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানের প্রচেষ্টা চালানো।
মুহাম্মদ সা:-এর উদ্যোগে গঠিত এই শান্তিসঙ্ঘ পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বহিঃপ্রকাশ, যা আরব সমাজকে গণতান্ত্রিক ধারায় এক হতে শিখিয়েছিল।
হজরত মুহাম্মদ সা:-এর গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্বের আরো পরিচয় পাওয়া যায় যখন পবিত্র মক্কা নগরীর হাজরে আসওয়াদকে স্থানান্তরিত করা হয়। ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ। মুহাম্মদ সা:-এর বয়স তখন ৩৫ বছর। নানা কারণে দীর্ঘ দিন ধরে মক্কার কুরাইশ, আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত চলে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে হজরত ইব্রাহিম আ: থেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়ে আসা কাবাঘরের সংস্কার করতে গিয়ে হাজরে আসওয়াদ (পবিত্র কালো পাথর) যে স্থানে ছিল, সেখান থেকে বর্তমান অবস্থানে রাখার প্রয়োজন পড়লে, কে হাজরে আসওয়াদকে প্রতিস্থাপিত করবেন, এই নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে বিরাট সহিংসতার আশঙ্কা ঘনীভূত হতে থাকে। কারণ হাজরে আসওয়াদ একটি সম্মানিত পাথর। পুণ্য লাভের আশায় কেউই এ কাজ থেকে বঞ্চিত হতে রাজি নন। এই সম্মানিত হাজরে আসওয়াদকে প্রতিস্থাপন করতে পারাও অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের কাজ ছিল আরব সমাজে। সে জন্য এই সম্মানিত কাজটি কোন গোত্রের লোকজন দ্বারা সম্পন্ন করা হবে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল অচলাবস্থা। এই সঙ্কট ক্রমান্বয়ে জটিল হয়ে উঠলে সব গোত্র একত্র হয়ে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, আগামীকাল প্রত্যুষে যে সবার আগে কাবাঘরের কাছে উপস্থিত হবেন, তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিরোধের নিষ্পত্তি হবে। পরদিন প্রত্যুষে সবার আগে কাবাঘরের কাছে উপস্থিত হলেন মুহাম্মদ সা:। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুহাম্মদ সা:-এর ওপর হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের দায়িত্ব বর্তায়। তিনি একটি চাদরের ওপর পাথরটিকে রাখলেন। অতঃপর বিবদমান গোত্রের নেতাদের নিয়ে চাদরের কোনা ধরে পাথরটিকে যথাস্থানে নিয়ে গেলেন এবং মুহাম্মদ সা: নির্দিষ্ট জায়গায় পাথরটিকে পুনঃস্থাপন করলেন। ফলে সুনিশ্চিত যুদ্ধের হাত থেকে আরব জাতিকে রক্ষা করলেন তিনি। এমন নজিরবিহীন রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তায় সেদিন বিস্মিত না হয়ে পারেনি আরব সমাজ।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর মুহাম্মদ সা:-এর প্রধান কর্তব্য ছিল কলহ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে একটি ভ্রাতৃসঙ্ঘ গঠন করে হিংসা, বিদ্বেষ, সহিংসতা ও যুদ্ধবিগ্রহ চিরতরে বন্ধ করা। সে সময় ‘বুয়াস’-এর যুদ্ধে আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয় জড়িয়ে পড়ে। এ যুদ্ধে বনু কুরাইজা ও বনু নাজির আউস পক্ষ এবং বনু কাইনুকা খাজরাজের পক্ষ সমর্থন করে। এর ফলে মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও শোচনীয় হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুহূর্ত মদিনাবাসী সংশয়, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করতে থাকে। ধর্মীয় অধঃপতন, হতাশা, সামাজিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একজন ত্রাণকর্তার অপেক্ষা করছিলেন মদিনাবাসী। সে সময় মুহাম্মদ সা: ছিলেন তাদের কাক্সিত মহানায়ক। তিনি মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা করার মানসে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্কল্প করেন। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের ‘সিরাত’ গ্রন্থ অনুসারে মুহাম্মদ সা:-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বত্র শান্তি স্থাপনের উদ্দেশে ৫২টি শর্ত বা ধারা সংবলিত একটি সনদ বা মদিনা সনদ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রণয়ন করা হয়। এ সনদটিই নৈরাজ্যে নিমজ্জিত মদিনাবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক পি কে হিট্টি বলেন, ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীকালে ইসলামি সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল স্থাপন করে।’ এটিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র। ‘ম্যাগনাকার্টা’ এর অনেক পরে প্রণিত হয়। এতে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য শর্ত বা ধারা ছিলÑ ১. সনদে স্বাক্ষরকারী সব সম্প্রদায় সমান অধিকার ভোগ করবে এবং একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে। ২. নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের সভাপতি এবং প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন মুহাম্মদ সা:। ৩. সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে এবং এতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ৪. ইহুদিদের মিত্ররাও সমান স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। ৫. মুহাম্মদ সা:-এর অনুমতি ছাড়া মদিনাবাসী কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। ৬. বহিঃশত্রু কর্তৃক মদিনা আক্রান্ত হলে সবাই একযোগে বাধা দেবে। যুদ্ধকালীন ব্যয় নিজ নিজ সম্প্রদায় বহন করবে। ৭. মদিনাবাসীর অভ্যন্তরীণ বিরোধের মীমাংসা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। ৮. অপরাধী সবাইকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। ৯. দুর্বল ও অসহায়কে রক্ষা করতে হবে। ১০. মদিনা শহরকে পবিত্র ঘোষণা করা হলো। রক্তপাত, হত্যা ও অন্যায়-অত্যাচার নিষিদ্ধ করা হলো।
এই শাসনতন্ত্র ছিল মুহাম্মদ সা:-এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচায়ক, এক অনবদ্য সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জ্বলন্ত দলিল। এতে কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সমাজ সংস্কারের পরিচয় পাওয়া যায়।
পৃথিবী থেকে অশান্তিকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলার নিমিত্তে মুহাম্মদ সা: আরেকটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, যার নাম হুদায়বিয়ার সন্ধি। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হুদায়বিয়া নামক স্থানে এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মুহাম্মদ সা: নিজের জন্মভূমি মক্কা পরিদর্শন ও পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে মক্কা আগমন করতে চাইলে তিনি মক্কার কুরাইশ সম্প্রদায় কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন। কুরাইশদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য মুহাম্মদ সা: উসমানকে সেখানে পাঠান। কুরাইশরা উসমানকে আটকে রেখে মুহাম্মদ সা:-এর কাছে উসমান হত্যার মিথ্যা খবর পাঠান। এতে মুহাম্মদ সা:সহ ১৪০০ সঙ্গী-সাথী নিয়ে মক্কা আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে কুরাইশরা একটি সন্ধির প্রস্তাব করেন। মুহাম্মদ সা: সেই সন্ধির সব শর্তে রাজি হয়ে যান। এ সন্ধিকেই পবিত্র কুরআনে ‘ফাতহুম মুবিন’ বা মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক জে বি বারি বলেন, ‘এ সন্ধির ফলে মুহাম্মদ সা: ইসলামের প্রসারকে সুসংগঠিত করার জন্য রোম, পারস্য, মিসর প্রভৃতি দেশে দূত প্রেরণ করতে সক্ষম হন। এ সন্ধির সব শর্ত মুসলমানদের প্রতিকূলে চলে যায়। মুহাম্মদ সা: ছাড়া তাঁর সঙ্গী-সাথীর কেউই এ সন্ধিতে রাজি না হলেও তিনি একাই এ সন্ধির সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আপাতদৃষ্টিতে সন্ধিটি মুহাম্মদ সা:-এর জন্য অপমানকর হলেও অদূর ভবিষ্যতে তার সুফল আসতে থাকে। এ চুক্তিতে মুহাম্মদ সা:-এর সুদূরপ্রসারী চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়। এখান থেকেই মুসলমানেরা সার্বভৌম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শুধু তা-ই নয়, এ সন্ধির জন্য মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীকালে মক্কা বিজয়ের পথ ত্বরান্বিত হয়।
ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ সা: একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অধিকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মন্টোগোমারি ওয়াট হুদায়বিয়ার সন্ধিকে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার একটি দলিল হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীর জন্য রহমত বলে আখ্যায়িত করেছেন। বর্তমান পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প পথ আছে বলে মনে হয় না।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: