Thursday, 19 January, 2017 | ৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
কলেজছাত্রী ঝুমাকে ছুরিকাঘাতকারী জকিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার  » «   মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   ‘বাংলাদেশে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে’  » «   বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্ট সেমিনার  » «   দিরাইয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, নিহতদের দাফন সম্পন্ন  » «   পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধ নির্মূল করা সহজ হবে: পুলিশ কমিশনার  » «   সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন আরিফ  » «   ‘অনলাইন প্রেসক্লাবই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব উদাহরণ’  » «   বাহুবলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ,আহত অর্ধশতাধিক  » «   ‘সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে লুৎফুর নিরলস ভাবে কাজ করবেন’  » «   প্রমাণ করুন মানুষ মানুষের জন্য…  » «   দিরাইয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩  » «   মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার  » «   জালালাবাদে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক  » «   ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু বুধবার  » «  





ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে সিরিয়ার আলেপ্পো

w3রায়হান আহমেদ তপাদার: সিরিয়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নগরী আলেপ্পোতে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ও বিদ্রোহীরা সেখানে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।বড় ধরনের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি হিসেবে আলেপ্পোর বিদ্রোহীরা গোলাবারুদের মজুদ,চিকিৎসা সরবরাহ বাড়াচ্ছে। আর হামা এবং তুরস্ক সীমান্তবর্তী ইদলিব প্রদেশ থেকে আলেপ্পোর দিকে যাচ্ছে সারি সারি সরকারি ট্যাংক ও সেনা।এদিকে সিরিয়ার আরো দুই সিনিয়র কূটনীতিক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষ ত্যাগ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।আমেরিকার মতে, নতুন করে পক্ষত্যাগের এ ঘটনায় আসাদের ‘দিন ঘনিয়ে আসছে’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।তথ্যসূত্র:এএফপি,রয়টার্স,বিবিসি পশ্চিমা বার্তা সংস্থাগুলো বলছে,আলেপ্পোর কেন্দ্রস্থল আল-জামালিয়ায় ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ের কাছে বুধবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।নগরীর দক্ষিণে কালাসে এলাকায় বিদ্রোহীরা একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বহু পুলিশকে আটক করে তারা। তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, বলে স্থানীয় জনগণ বলছে।

আলেপ্পোয় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাস্তায় রাস্তায় সংঘর্ষ চলছে। বিদ্রোহীরা তাদের দখল করা এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। দলে আরো বেশি যোদ্ধা, গোলাবারুদ বাড়িয়ে অবস্থান আরো শক্তিশালী করছে তারা।কিন্তু তাদের দমনে সরকারি বাহিনীর অভিযানও থেমে নেই।অবিরাম চলছে গোলা, মর্টার ও হেলিকপ্টার হামলা।তারপরও নগরীর অর্ধেকের বেশি এলাকার দখল এখনো বিদ্রোহীদের হাতে বলে জানিয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলনকর্মীরা।তবে এ দাবি নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি।আলেপ্পোতে বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সামরিক পরিষদের মুখপাত্র কর্নেল আবদেল জার আল-ওকাইদি বলেন,ইদলিব প্রদেশের জাবাল আল-জাবিয়াহ থেকে বিপুলসংখ্যাক সরকারি সেনা আলেপ্পোতে মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারের কাছে ইদলিবের চেয়ে এ নগরীর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।ওকাইদি বলেন,’আলেপ্পোতে এখন তুমুল যুদ্ধ চলছে।সরকারি বাহিনীর অনেক সেনা পালাচ্ছে এবং বেশ কিছু সেনা পক্ষ ত্যাগ করেছে।তারপরও আরো হাজার হাজার সরকারি সেনা আলেপ্পোয় পেঁৗছে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করলে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।ফলে আলেপ্পোর লড়াই শেষ পর্যন্ত দামেস্কের লড়াইয়ের পরিণতি ডেকে আনতে পারে। দামেস্কে বিদ্রোহীরা বিশাল এলাকা দখল করে নিলেও সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।বৃহস্পতিবার সেনারা রাস্তা দিয়ে গুলিবর্ষণ করতে করতে এগোচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেনাদের গোলাগুলির মুখে বিদ্রোহীদের পিছুহটার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে তারা এটাও বলছেন,
সরকারি সেনাদের সর্বাত্মক অভিযান শুরু হলে বিদ্রোহীরা গেরিলা হামলার আশ্রয় নিয়ে লড়ে যেতে পারে।কারণ এরই মধ্যে বহু বিদ্রোহী স্নাইপার (মূলত বিদেশি) আলেপ্পোয় ঢুকে পড়েছে।তারা দূর থেকে সেনাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কিনা, এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে আছেন বিদ্রোহী নেতারা।

এদিকে সহিংসতা জোরদারের পাশাপাশি দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসাদের পক্ষ ত্যাগের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসে নিযুক্ত সিরিয়ার দুই কূটনীতিক আসাদের পক্ষ ত্যাগ করেছেন বলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি বলেন, ‘আসাদ তার নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নারকীয় কর্মকা- চালানোর কারণে তার চারপাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ছেড়ে যাচ্ছেন। আর এতেই বোঝা যাচ্ছে তার দিন ঘনিয়ে আসছে।অন্যদিকে চীন, রাশিয়া ও ইরানের কারণে আমেরিকা এবং তার মিত্রসহ জাতিংসঘের অন্য সদস্য দেশগুলো সিরিয়া সঙ্কটের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেই দূষছে।এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ার ‘গণহত্যা’বন্ধে এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন।তবে চীন-রাশিয়ার আপত্তির কারণে নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি নিয়ে এখনো অচলাবস্থা কাটছে না।রাশিয়া বলছে, সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধীপক্ষ যতদিন বাইরের সাহায্য পাবে, ততদিন মানবতাবাদী কার্যকলাপের কথা তোলা যায় না।

এমন নারকীয় পরিস্থিতিতেও পশ্চিমা শক্তিগুলো চুপ মেরে আছে বলে অভিযোগ করছেন সেখানকার মানবাধিকার কর্মীরা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র বলেন, ধীরে ধীরে নরকে প্রবেশ করছে আলেপ্পো। চিকিৎসক আবদুল জানান, সেখানকার চিকিৎসা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে।মঙ্গলবার রাতে যারা বোমা হামলায় পড়ে নিহত হয়েছেন, তাদের লাশ এখন দিনের আলোতেও পথেঘাটে পড়ে রয়েছে।আর সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দিনরাত মৃত্যু আতঙ্কের পাশাপাশি সরকারের গোপন পুলিশের নজরদারি ও নির্যাতনের আতঙ্কও তাড়া করছে।সেনা ও পুলিশ বাহিনী তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকা থেকে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে আগ্রহী আড়াই লাখ অসহায় মানুষ আটকা পড়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: