12

Sunday, 26 February, 2017 | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
মহাজনপট্টি থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০  » «   ফুলকলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য, ২০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   ‘আমার ফাঁসি হোক, ‘সুখী হও খাদিজা,  » «   সিলেটবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন বেঙ্গলের লিটু  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ১ মার্চ  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেছেন খাদিজা  » «   লিবিয়ায় নির্যাতন ইমোতে দেখিয়ে পণ দাবি  » «   লেবানন গিয়ে নবীগঞ্জের এক যুবতি নিখোঁজ: গ্রেফতার ২  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুকে সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান  » «   ড.মোমেনকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের অভিনন্দন  » «   প্রয়াত সুরঞ্জিতের আসনে জাসদের প্রার্থী আমিনুল  » «   চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ড. অাব্দুল মোমেন  » «   খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদীদের ইন্ধনদাতা : সিলেটে তথ্যমন্ত্রী  » «  





তালগাছ কাকে দেবেন রাষ্ট্রপতি?

w1মোস্তফা কামাল: তালগাছের বিচার-শালিসের ভার মহামান্যের হাতে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির দরবারে শুরুতেই দেনদরবার সেরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে একে একে গেছেন, যাচ্ছেন, যাবেন অন্যরা। বিএনপিকে বঙ্গভবনে পা রাখার আগেই আওয়ামী লীগ থেকে শাসিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে— কলব সাফসুতরা করে ‘তালগাছ আমার’ মানসিকতা ছেড়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে। সতর্কবার্তাটি দেওয়া হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে।

টানা কয়টা বছর ধুমছে চলেছে বাঁশময়তা। সরকার শুধু দিয়েছে। বিএনপি নিয়েছে। হজম করেছে। দলটির বাঁশ নেওয়ার মতো জায়গা এখন আর অবশিষ্ট নেই। ছালবাকলার পর নাড়ি-ভুঁড়ির দশাসই। দৈনিক আর কত বাঁশ নেবে এ সৈনিকরা। হাঁটা-চলার জন্যও তো একটু দম নেওয়া একেবারে ফরজ। নানা ঘটনার বাঁকে চান্সটি এসেছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুতে। প্রথমে কঠোর থাকলেও পরে সরকার কিছুটা দয়াবান হয়েছে বিএনপির প্রতি। বলটি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রপতির কোর্টে। বেগম জিয়াও ডাক পাওয়ার পর বঙ্গভবনে যেতে একরত্তিও দেরি করেননি। ১৩ দফা হাতে দ্রুত ছুটে গেছেন ওরা ১১ জনকে নিয়ে। তালগাছের শালিসে কে জিতবে? রাষ্ট্রপতি তালগাছটা কাকে দেবেন— সেটা পরের ব্যাপার। আলামত কিন্তু সরকারের পক্ষেই। কারণ বিষয়টা একেবারে সাংবিধানিক। এর নাড়িনক্ষত্র, শিরা-উপশিরা সরকারেরই অনুকূলে। সরকারকে ঠকিয়ে তালগাছ অন্য কাউকে দেওয়ার সামর্থ্য রাষ্ট্রপতির আছে কিনা তা বেয়াকুবেরাও জানে। এমন ভাগযোগে তালগাছ কে পায়, বিএনপিরও সেটা অজানা-অদেখা নয়। এরপরও কথা আছে। বাঁশে আর কত? তা নেওয়ার সঙ্গে দেওয়ার কষ্টও কি কম? প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই ৫ জানুয়ারির মতো বিতর্কিত আরেকটি নির্বাচন চাইতে পারেন না। আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন দল কেন এই কলঙ্কের ভার সইতে সইতে আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অলঙ্কারগুলো হারাবে? আবার বেগম জিয়ারও সময় বড় অকুলান। বয়স হয়েছে। অভিজ্ঞতাও কি হয়নি? এভাবে বিরতিহীন বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা সইবার তাকতও তো থাকতে হবে। সবমিলিয়ে মানুষও সাদেক-আজিজ-রকিবের মতো মোহতারামদের কাছে থেকে নাজাত চায়। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন ও কমিশন প্রশ্নে বাঁশের বদলে তালগাছ বড় প্রাসঙ্গিক। এ গাছটির দানের ক্ষমতা অনেক। একপায়ে দাঁড়ানো তালগাছ নিরপেক্ষতায় শুধু দেয়। কারও কাছে চায় না কিছুই। নির্বাচনের সময় আকাশপানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এই তালগাছের হিম্মত দেখে ভারতবাসী। তাদের নির্বাচন কমিশন বাঘ-মহিষকে একঘাটে পানি খাইয়ে বুঝিয়ে দেয় দক্ষতা-হিম্মত কাকে বলে। আমাদের মতো পাঁচ বছরান্তে এ নিয়ে আলাপ, সংলাপ, বিলাপ করতে হয় না তাদের। আমাদের শিল্প-সাহিত্যেও তালগাছ নিয়ে কথকতা! তাল এবং তালগাছ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকুমার রায়ের রয়েছে অনেক লেখনী। দৃষ্টিভঙ্গি উপমায় ভিন্নতা বা সময়ের বিস্তর ফাঁরাক থাকলেও কখনো কখনো মনে হয় তারা যেন একে অন্যের বিষয় মেরে দিয়েছেন। আবেদন, প্রয়োজন বা উপযোগিতা আছে বলেই তো এমন অঘটন। তালগাছে পরিশ্রম ও ঐক্যের প্রতীক বাবুই পাখির ঝুলন্ত মনোরম বাসা রাজনীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্রসহ কত কিছুর উপমা। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তালগাছের মাথায় বাস করা কানাবগির ছায়ের তুলনাও আমাদের যাপিত জীবনে কম নয়। ওই বগী পান্তা ভাত চায় না। পুঁটি মাছও খায় না। সেই ভরসায় রাষ্ট্রপতিকে মান্যগণ্যের সঙ্গে আমল দেওয়ার বিকল্প নেই। শির উঁচা করে সব গাছ ছাড়িয়ে আকাশে উঁকি দেওয়ার মতো একটা গাছ চাই।

ফল হিসেবে তাল এখন অন্তঃসারশূন্য ইতিহাস হলেও গাছটির আবেদন রাজনীতিতে বেশি মানানসই। রাজনীতিতে সময়ে-অসময়ে দীর্ঘজীবী তালগাছের ভাগাভাগির যুদ্ধে মানুষ বেশ বিনোদন পায়। ঐতিহ্যের মতো লালন করে। ভাগের পক্ষে-বিপক্ষে চেতনায় শান দেয় যার যার মতো। বাঙালি দর্শন ও সংস্কৃতিতে তালগাছের মতো ব্যবহার আর কোনো গাছের নেই। অথচ তালগাছ সচরাচর কেউ লাগাতে চান না। লাগালেও যত্ন-আত্তির কেউ থাকে না। তবে, ডাঙর হওয়ার পর গাছটা হয়ে যায় এজমালি সম্পদ। তখন তালের হকদার আশপাশের সবাই। মওকা মতো নিজের মনে করে চুপচাপে তালটা নিয়ে সোজা ঘরে চলে যায়। উল্টা বাস্তবতা হলো, পজিশনঅলা গিরস্থের তালগাছের আশপাশেও ঘেঁষার মুরদ হয় না কারও। এমনকি তার বাড়ির পাশে তাল পড়লে তা কুড়িয়ে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আস্থা হাসিলের প্রতিযোগিতায় নামে অপজিশনের বহু খাদেমও। গুচ্ছমূলী বৃহৎ এই বৃক্ষটি হায়াত পায় দেড়শ বছর পর্যন্ত। রোগ-বালাইও কম। বাড়েও বুঝেশুনে, ধীরে, শিনা টান করে। চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্যে কোনো গোলমাল নেই। কারও পক্ষে-বিপক্ষে যায় না। সাইকাস প্রজাতির শক্ত মেরুদণ্ডি এ উদ্ভিদটি হয় পুরুষ, নইলে স্ত্রী। মোটেই উভলিঙ্গ হয় না। ফুল-ফলেও একই ঘ্রাণ। তালকে কিলিয়ে পাকানো যায় না। যথানিয়মে পাকার পর আপনি ঝরে পড়ে যথাসময়েই। তালের আঁশ এবং ছালবাকলার ইউটিলিটিও অনেক। কষ্টসহিষ্ণু, কম যত্নে উৎপাদন গভীরমূলী ও শাখা-প্রশাখা না থাকায় আশপাশের জমির ফসলের ক্ষতি করে না। শক্ত মজবুত গভীরমূলী বলে ঝড়-তুফান, টর্নেডো, বাতাস প্রতিরোধ ও মাটি ক্ষয় রোধে তালের গাছের ভূমিকা অতুলনীয়। তাল কাঠ পোকায় খায় না। পোকা-মাকড়রা তালকাঠে বসারও সাহস পায় না।

মিঠামইনের মিঠামানুষ আবদুল হামিদ এ গাছটির কোনো হিল্লা করলেও করতে পারেন। গড়তে পারেন ইতিহাস। এত উপকারী একটি তালগাছ আমাদের খুব দরকার মহামান্য রাষ্ট্রপতি! আপনার অবশ্যই জানার কথা, অধিকাংশ মানুষ তালগাছ লাগিয়ে এর ফল খেয়ে যেতে পারেন না। তার ফল-সুফল নেয় পরবর্তী প্রজন্ম। আবার বেশির ভাগ মানুষ মধ্য কিংবা শেষ বয়সে এসে তালগাছ লাগাতে পছন্দ করেন। আবার জীবদ্দশায় তালগাছ মারা যায় এই দৃশ্য কেউ কোনো দিন দেখেননি।

লেখক : বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: