Sunday, 30 April, 2017 | ১৭ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
Advertisement

ট্রাম্পের বহিষ্কার ঠেকাতে লাখো অভিবাসীর নিরাপদ আশ্রয় আমেরিকার চার্চ

w1এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের শিকার হতে পারেন-এমন অবৈধ অভিবাসীদের সর্বাত্মক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। থাকা, খাওয়া এবং স্কুলগামী সন্তানদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে যা করা দরকার সবকিছু করা হবে বলেও জানিয়েছেন মানবতার জয়গানে উজ্জীবিতরা। আরিজোনা রাজ্যের টাকসনে অবস্থিত ‘সাউথ সাইড প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চ’র প্যাস্টর এলিসন হেরিংটন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিভিন্ন সিটিতে অবস্থিত ৪৫০টি চার্চ প্রস্তুত রয়েছে বিপদগ্রস্ত অবৈধ অভিবাসীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে। দিনাতিপাতের জন্যে নগদ অর্থ প্রদান করাও হবে। বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াতের সুবন্দোবস্থও রয়েছে। একইসাথে গুরুতর কোন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন না-এমন অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন ঠেকাতে আইনগত সহায়তাও দেয়া হবে।
বস্টন সিটির কাছে ব্রকটন সিটিতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চের প্যাস্টর আব্রাহাম ওয়াইয়া বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার যদি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়েজন হয়, নির্ভয়ে এই ভবনে প্রবেশ করুন। কেউ কিছু করতে পারবে না। এই চার্চে শতাধিক ইমিগ্র্যান্টের থাকা ও খাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে।’ যতদিন খুশী-ততদিনই থাকা যাবে।
ইউএস ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর মুখপাত্র গত সপ্তাহে বলেছেন, ২০১১ সালে তৈরী একটি নীতি মেনে চলছেন তারা। সে অনুযায়ী, ধর্মীয় কোন প্রতিষ্ঠানে তারা অভিযান চালাবেন না। স্কুলেও কাউকে ধরতে যাবেন না। হাসপাতালও তাদের অভিযানের বাইরে থাকে। আইসের মতে, ধর্মীয় অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা হাসপাতালে তারা অভিযান চালান শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের ধরার জন্যে। অভিবাসন আইন লংঘনকারিদের কখনোই গুরুতর অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
লসএঞ্জেলেস সিটির ১৪০টি চার্চের পক্ষ থেকে সংঘবদ্ধ একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার জন্যে। এসব চার্চকেও ডিপোর্টেশনের আতংকে থাকা অবৈধ অভিবাসীরা নিরাপদ আশ্রয় ভাবতে পারেন।
ফিলাডেলফিয়া সিটির ১৭টি চার্চ এবং দুটি সিনোগজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পরই তাদের ভলান্টিয়াররা অবৈধদের আশ্রয় প্রদানের কাজ শুরু করবেন। এজন্যে ৬৫ জন থাকবেন সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্যে। আরো এক হাজার ভলান্টিয়ার নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন ভীতির মধ্যে থাকা অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে। নিউ স্যাঙচুয়্যারি মুভমেন্ট অব ফিলাডেলফিয়ার নির্বাহী পরিচালক পিটার পেডিমন্টি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্যাস্টর এলিসন হেরিংটন বলেছেন, বর্তমানে আমরা ভিন্ন এক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত হয়েছি। এ কারণেই আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ঠেলে দিচ্ছে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে সিটিতে গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক সমাবেশ থেকে অসহায় অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে আলোকে এখন তারা প্রতিটি চার্চকে অবৈধ অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে পরিণত করবেন। ইতিমধ্যেই একটি পরিবারকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন। বার্কলে ইউনিভার্সিটি লুথারেন চার্চের সিনিয়র প্যাস্টর রবিন হিনীকা বলেন, আমরা মনে করছি এটি হচ্ছে আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে-এমন কোন পদক্ষেপকে সমর্থন দেয়া উচিত নয় কারোরই।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই-এমন ৩০ লাখ অভিবাসীকে দ্রুত বহিষ্কারের হুংকার দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এমন মনোভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে এহেন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়াসহ অভিবাসী অধ্যুষিত সিটিসমূহের মেয়ররা ঐক্যজোট গঠন করে ট্রাম্পের ঐ নির্দেশ পালন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে যারা কঠোর শ্রম দিচ্ছেন, তেমন সহজ-সরল অভিবাসীদের ঢালাওভাবে বহিষ্কারের ঘটনায় আমেরিকার মূল্যবোধ ধুলিসাত হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন এসব সিটি মেয়ররা।
সিটি মেয়রদের ঐ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যারা ফেডারেল প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করবে, সে সব সিটির ফেডারেল অনুদানও বাতিল করা হবে।’

Developed by: