12

Sunday, 26 February, 2017 | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
মহাজনপট্টি থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০  » «   ফুলকলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য, ২০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   ‘আমার ফাঁসি হোক, ‘সুখী হও খাদিজা,  » «   সিলেটবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন বেঙ্গলের লিটু  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ১ মার্চ  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেছেন খাদিজা  » «   লিবিয়ায় নির্যাতন ইমোতে দেখিয়ে পণ দাবি  » «   লেবানন গিয়ে নবীগঞ্জের এক যুবতি নিখোঁজ: গ্রেফতার ২  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুকে সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান  » «   ড.মোমেনকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের অভিনন্দন  » «   প্রয়াত সুরঞ্জিতের আসনে জাসদের প্রার্থী আমিনুল  » «   চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ড. অাব্দুল মোমেন  » «   খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদীদের ইন্ধনদাতা : সিলেটে তথ্যমন্ত্রী  » «  





হোয়াইট হাউসে কাঁদলেন মিশেল ওবামা

w1দৈনিকসিলেটডেস্ক: হোয়াইট হাউসে ফার্স্টলেডি হিসেবে নিজের শেষ বক্তব্যে আবেগ ঝরে পড়লো মিশেল ওবামার কণ্ঠে। মিশেল নিজে কাঁদলেন। অন্যদেরও কাঁদালেন। ২০ মিনিটের মতো সময় দেয়া ওই বক্তব্যে বেশ কয়েকবারই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণার বার্তা দেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও মতের সহাবস্থানের ঐহিত্যকে স্মরণ করিয়ে দেন। মিশেল বলেন, ‘তরুণদের আমি জানাতে চাই যে, তারা গুরুত্বপূর্ণ। তারাও দেশের অংশ। কাজেই তোমরা ভয় পেয়ো না। মনোযোগী হও। দৃঢ়চিত্ত হও। আপন শক্তিতে বলীয়ান হও। ভালো শিক্ষা নিয়ে নিজেকে আলোকিত করে তোলো। এরপর কর্মজীবনে নেমে তোমাদের অপার সম্ভাবনার যোগ্য এক দেশ গড়ে তুলতে ওই শিক্ষাকে ব্যবহার করো। আশার দৃষ্টান্ত দিয়ে নেতৃত্ব দাও; কখনই ভয় দিয়ে নয়।’
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ‘বছরের সেরা স্কুল কাউন্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিদায়ী ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। ২০১৫ সালে বার্ষিক এই অনুষ্ঠানটি চালু করেছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষা প্রচারণায় ‘রিচ হাইয়ার’- শীর্ষক মিশেলের একটি কার্যক্রমের অংশ এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান।
বক্তব্যের শেষ দিকে মার্কিনিদের ধন্যবাদ জানিয়ে মিশেল বলেন, ‘আপনাদের ফার্স্টলেডি হওয়াটা আমার জীবনের সব থেকে বড় সম্মান। আশা করি আপনাদের গর্বিত করতে পেরেছি।’ এ কথা বলতে গিয়েও ভার হয়ে ওঠে মিশেলের কণ্ঠ। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাইকে সমস্বরে জানিয়ে দেন যে, হ্যাঁ ফার্স্টলেডি মিশেলকে নিয়ে তারা গর্বিত।
মিশেল ওবামা আরও বলেন, ‘আমাদের চমৎকার বৈচিত্রগুলো- ধর্ম, বর্ণ ও জাতের বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়ের জন্য হুমকি নয় বরং এটাই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।’ তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘তুমি বা তোমাদের পিতা-মাতা যদি এখানে অভিবাসী হয়ে থাকো, তাহলে জেনে রাখো যে তোমরা আমেরিকার গর্বের এক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নতুন নতুন সব সংস্কৃতি, প্রতিভা আর ধ্যান-ধারণার সংমিশ্রণ বিশ্বের বুকে আমাদের দেশকে মহান করেছে। যদি তোমাদের পিতা-মাতার কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকে- আমি চাই তোমরা মনে রেখো যে, এই দেশের অনেক মানুষ অত্যন্ত অল্প দিয়ে শুরু করেছে; এর মধ্যে আমি ও আমার স্বামীও রয়েছি। কিন্তু অনেক পরিশ্রম আর ভালো শিক্ষা দিয়ে যে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়াও সম্ভব। আর এটাই হলো অ্যামেরিকান ড্রিমের অর্থ।’ মিশেল আরো বলেন, ‘আপনি যদি ধর্মবিশ্বাস করেন, তাহলে জেনে রাখুন যে ধর্মীয় বৈচিত্র্য আমেরিকার আরেকটি মহান ঐতিহ্য। আপনি মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, শিখ- যাই হোন না কেন; এই ধর্মগুলো আমাদের তরুণদের ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা আর সততা শেখায়।’
উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তরুণদের উদ্দেশ্যে মিশেল বলেন, ‘জেনে রাখো আমি তোমাদের সাথে থাকবো, তোমাদের ওপর আস্থা রেখে যাবো আর বাকি জীবন তোমাদের সহায়তা দিতে কাজ করবো।’
ফার্স্টলেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে দেয়া শেষ এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে আরো একবার মার্কির্নিদের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেন মিশেল ওবামা। এর আগে ডেমোক্রেটিক দলের ন্যাশনাল কনভেনশনে অসাধারণ এক বক্তব্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে তার লড়ার সম্ভাবনাও দেখছিলেন অনেকে। তবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অক্টোবর মাসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেন যে, মিশেলের এমন কোনো ইচ্ছাই নেই।
প্রসঙ্গত, শুক্রবারের ওই বক্তব্যই জনসমক্ষে ফার্স্টলেডি মিশেলের শেষ হাজির হওয়া নয়। আগামী বুধবার ফার্স্টলেডি হিসেবে শেষবারের মতো লেট নাইট শো ‘দ্যা টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: