Thursday, 19 January, 2017 | ৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
কলেজছাত্রী ঝুমাকে ছুরিকাঘাতকারী জকিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার  » «   মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   ‘বাংলাদেশে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে’  » «   বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্ট সেমিনার  » «   দিরাইয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, নিহতদের দাফন সম্পন্ন  » «   পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধ নির্মূল করা সহজ হবে: পুলিশ কমিশনার  » «   সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন আরিফ  » «   ‘অনলাইন প্রেসক্লাবই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব উদাহরণ’  » «   বাহুবলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ,আহত অর্ধশতাধিক  » «   ‘সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে লুৎফুর নিরলস ভাবে কাজ করবেন’  » «   প্রমাণ করুন মানুষ মানুষের জন্য…  » «   দিরাইয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩  » «   মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার  » «   জালালাবাদে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক  » «   ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু বুধবার  » «  





বাংলাদেশীসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার ২ লাখ ৪০ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট

w1এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত গত অর্থ বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার ২৫৫ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরমধ্যে সহস্রাধিক বাংলাদেশীও রয়েছেন। সরকারী সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে এ সংখ্যা ২% বেশী। তবে ২০১২ অর্থ বছরের চেয়ে তা প্রায় অর্ধেক। ২০১২ অর্থ বছরে বহিষ্কার করা হয় ৪ লাখ ১০ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থ বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৫৯ জন বেআইনীভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময়েই ধরা পড়ে এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। অবশিষ্টরা বহিষ্কার হয়েছেন ইমিগ্রেশন কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট আরো জানায়, ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌণে ৮ বছরে (প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে ) মোট ২৭ লাখ ৫০ হাজার জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে এদেরকে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর এ সংখ্যা হচ্ছে আগের যে কোন প্রেসিডেন্টের আমলের চেয়ে অনেক বেশী।
ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরতরা ওবামাকে ‘ডিপোর্টার ইন চীফ’ হিসেবে অভিহিত করলেও রিপাবলিকানরা ওবামার সমালোচনা করে বলেন, ওবামা সীমান্তকে নিরাপদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ওবামা বরাবরই অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের পক্ষে রয়েছেন।
ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যারিয়েলিনা হিনক্যাপি এনআরবি নিউজকে বলেছেন, ‘ওবামা প্রশাসনের চেয়ে ইমিগ্রেশন বিরোধী আর কোন প্রশাসন আমরা দেখিনি। একদিকে তিনি অবৈধদের কঠিন শর্তে বৈধতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, অপরদিকে অবৈধদের বহিষ্কারে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ছিলেন।’
২০১৪ সাল থেকেই অপরাধে লিপ্ত ইমিগ্র্যান্টদের বহিষ্কারে কঠোর পন্থা অবলম্বন করে ওবামা প্রশাসন। গত অর্থ বছর পর্যন্ত বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৮৪% ছিল গুরুতর অপরাধী। অর্থাৎ তারা আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল অথবা জনজীবনের নিরাপত্তার হুমকি ছিল কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ধরা পড়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া একটি বিধির পরিপ্রেক্ষিতে ওবামা এমন কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন।
এদিকে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ২০ থেকে ৩০ লাখ অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে তিনি বহিষ্কার করবেন, যারা অপরাধী। যদিও ২০১৫ সালে মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউটের হিসাব অনুযায়ী এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের মধ্যে মাত্র ৮ লাখ ২০ হাজার জন হলেন অপরাধী বা ক্রিমিনাল। অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের মধ্যে লাখ খানেক বাংলাদেশী থাকলেও, অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে সে সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোণা।
১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কমিশনারের দায়িত্ব পালনের পর ম্ইাগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউটে সিনিয়র এনালিস্টের দায়িত্ব পালনরত ডোরিম মেইসনার ট্রাম্পের বহিষ্কার নীতি প্রসঙ্গে বলেন, ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের যে জনবল রয়েছে, তা দিয়ে কোনভাবেই ২০ থেকে ৩০ লাখ ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেফতারের পর বহিষ্কার করা সম্ভব হবে না। এজন্যে প্রয়োজন বিস্তর সময় এবং জনবল বৃদ্ধি করার। শুধু তাই নয়, বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্তদের সন্ধান করে গ্রেফতারের জন্যে যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন পড়বে। দরকার হবে ডিটেনশন সেন্টারের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির। এছাড়াও অঙ্গরাজ্য, সিটি তথা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। যদিও ইতিমধ্যেই শতাধিক সিটির পক্ষ্য থেকে ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপে কোন সহায়তা না প্রদানের আওয়াজ উঠেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক ধরা পড়ার পরই নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতি বছরগুলোতে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া-আরিজোনা অঞ্চল হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ পথ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের। সেই এলাকায় গত অর্থ বছরে ধরা পড়ে মাত্র ৪ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ জন। এ সংখ্যা হচ্ছে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনীভাবে ঢুকতে আগ্রহীদের চেয়ে অনেক বেশী সংখ্যক মেক্সিকান সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছে। ২০০৯ সাল থেকেই বার্ষিক গড়ে এক লাখ মেক্সিকানের বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকার আগ্রহ কমেছে। ২০০০ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ মেক্সিকান বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে। তবে, সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে জানা গেছে। ২০১৪ অর্থ বছরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে বেআইনীভাবে অতিক্রমের সময় গ্রেফতার হওয়া বিদেশীর মধ্যে অধিকাংশই ছিল সেন্ট্রাল আমেরিকান।- ফাইল ছবি

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: