12

Sunday, 26 February, 2017 | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
মহাজনপট্টি থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০  » «   ফুলকলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য, ২০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   ‘আমার ফাঁসি হোক, ‘সুখী হও খাদিজা,  » «   সিলেটবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন বেঙ্গলের লিটু  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ১ মার্চ  » «   বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেছেন খাদিজা  » «   লিবিয়ায় নির্যাতন ইমোতে দেখিয়ে পণ দাবি  » «   লেবানন গিয়ে নবীগঞ্জের এক যুবতি নিখোঁজ: গ্রেফতার ২  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী  » «   বেঙ্গল চেয়ারম্যান লিটুকে সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান  » «   ড.মোমেনকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের অভিনন্দন  » «   প্রয়াত সুরঞ্জিতের আসনে জাসদের প্রার্থী আমিনুল  » «   চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ড. অাব্দুল মোমেন  » «   খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদীদের ইন্ধনদাতা : সিলেটে তথ্যমন্ত্রী  » «  





বিদায়ী ভাষণে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য বন্ধের আহ্বান ওবামার

w1এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : যেখান থেকে শুরু, সেখানে দাঁড়িয়েই বিদায়ী ভাষণ দিলেন ইতিহাস সৃষ্টিকারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা। ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে শিকাগোতে ২০ সহ¯্রাধিক আমেরিকানের সরব উপস্থিতিতে বারাক ওবামা তাঁর ৮ বছরের শাসনামলের স্মৃতিচারণ এবং আমেরিকার আরো উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। হাঁড় কাপানো শীত উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া মানুষদের অনেকেই হাজার ডলারের বিনিময়ে কালো বাজার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। অথচ টিকিট ছিল বিনামূল্যের।
ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট যো বাইডেনকে পাশে নিয়ে ওবামা আরো বলেন, ‘যাকিছু ছিল ভালো ও কল্যাণের তার কৃতিত্ব সকলের। সকলের আন্তরিক সহায়তার জন্যেই ভালো কাজ করা সম্ভব হয়েছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন কিছুই আটকে থাকে না।মুসলমানদের প্রতি যে কোনও প্রকার বৈষম্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
১৭৯৬ সালে জর্জ ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ ভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা আজো বহমান। ক্ষমতা হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কখনো ব্যত্যয় ঘটেনি এই আমেরিকায়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট ওবামাও ২০ জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পপুলার ভোটে হিলারি ক্লিন্টন এগিয়ে থাকলেও ইলেক্টরাল ভোটে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সত্যকে গ্রহণ করে পরাজিত হিলারি ক্লিন্টনও ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে হাজির হবেন।
ওবামা তার রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রসঙ্গ উপস্থাপন করে হোয়াইট হাউজের ৮ বছরের গল্প বলেন। আমেরিকাকে আরো সমৃদ্ধ করতে, আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি আরো উর্দ্ধে নিতে কীভাবে একদল মানুষকে নিয়ে কাজ করেছেন-সে কথাও বিবৃত করেন অবলিলায়। গভীর কৃতজ্ঞতা জানান স্ত্রী মিশেলের প্রতি।
২০১২ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হবার পর শিকাগোর লেকসাইড কনভেনশন সেন্টার সংলগ্ন ম্যাককর্মিক প্লেসে বক্তব্য রেখেছিলেন। সে স্থানেই দিলেন তার বিদায়ী ভাষণ। যৌবনে পদার্পণের সময় শিকাগোতে বসতি শুরু ওবামার। এরপর, এই সিটির মানুষের সাথে মিশে গিয়ে তাদের অধিকার-মর্যাদা নিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করেন ওবামা। সিটির প্রতিনিধিত্ব করার পথ ধরে তিনি ইলিনয় থেকে ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হন। সিনেট নির্বাচনের প্রাক্কালে ২০০৪ সালে বস্টনে অনুষ্ঠিত ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ওবামাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়। সে বক্তব্যেই তার রাজনৈতিক জীবনের পরিচিতি ঘটে জাতীয় পর্যায়ে। সেই যে শুরু, ওবামাকে আর থামতে হয়নি। সিনেটর নির্বাচিত হবার পরই ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম আফ্রিকান প্রেসিডেন্ট হবার গৌরব অর্জন করেন। শিকাগো তাকে সবকিছু দিয়েছে বলে বিদায়ী ভাষণের স্থান হোয়াইট হাউজের পরিবর্তে শিকাগোকে বেছে নিয়েছেন।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু বক্তব্যে ওবামা বলেন, আমেরিকার উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সকলকে কাজ করতে হবে। দূরে ঠেলে দিতে হবে যাবতীয় হতাশা। ‘হ্যাঁ-আমরা পারি’ স্লোগানে শুরু ৮ বছরের ব্যবধানে আজ বলতে দ্বিধা নেই যে, আমরা পেরেছি। আমরা পারবো। তবে, সুদিনের পথে এগিয়ে যেতে হয়েছে দু’পা এগুনোর পর এক পা পিছিয়ে। তবুও আমরা থেমে থাকিনি। সকলের সহায়তায় আমরা সকল কাজে সফল হতে পেরেছি। সহায়তার এই দিগন্ত আরো প্রসারিত করতে নতুন প্রজন্মকে তৈরী করতে হবে।
ওবামা বলেন, আমরা সকল কাজেই সফল হতে পারবো, যদি আমাদের গণতন্ত্র সচল থাকে, যদি আমাদের মনোবল ভেঙ্গে না যায়। জাতীয় স্বার্থে আমরা যদি দলমতের উর্দ্ধে থাকতে পারি।
ওবামা উল্লেখ করেন, আমাদের এই দেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্বসূরিরা শিখিয়েছেন, গণতন্ত্রের অভিযাত্রার স্বার্থে সমঝোতা করতে। সেটি জাতীয় স্বার্থে আমরা সব সময় করেছি।
ওবামা বলেন, গণতন্ত্র সঠিকভাবে এগিয়ে চলতে পারে সকলের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ দিতে পারলে। বিশেষ করে, সকলকে কর্মসংস্থানের পথে টানতে পারলে। ৮ বছর আগে আমি যখন দায়িত্ব নেই, সে সময় অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। টালমাটাল অবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে তুলতে সকলের সহায়তা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তবে, আমরা যেখানে পৌঁছার কথা সেখানে এখনও যেতে পারিনি। আমাদের সে পথে ধাবিত হতে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে দলীয় বিভাজনের উর্দ্ধে উঠে।
ওবামা বলেন. আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আইনকে সমুন্নত রাখতে হবে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে চাকরিতে নিয়োগ, গৃহায়ন, শিক্ষা এবং ফৌজদারি আদালত পরিচালনায় কোন ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ প্রশ্রয় দেয়া চলবে না। এবং আমাদের সংবিধানও তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নেও সবসময় একই আওয়াজ ধ্বনিত হয়। ওবামা বলেন, তবে শুধুমাত্র আইন করে লাভ হয় না। সকল জনগোষ্ঠিকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। ওবামা বলেন, রিফ্যুজি, ইমিগ্রেশন, প্রত্যন্ত এলাকার গরিব বাসিন্দা, সমকামী এবং মধ্য বয়েসী শ্বেতাঙ্গরা মনে করতে পারেন যে, তারা সবঅধিকার পাচ্ছেন, বাস্তবে অনেক সময়েই তা ঘটে না। ওবামা বলেন, আমাদের চারপাশে কোন না কোন ধরনের বৈষম্য চলছে। তা হতে পারে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা কর্মস্থল। সবকিছুকেই পরাস্ত করতে হবে মানবতার আলোকে।
রাষ্ট্র পরিচালনাকালে উদ্যমী তরুণ সমাজের অকুন্ঠ সমর্থন এবং রনাঙ্গনে আমেরিকান সেনাদের দেশাত্মবোধের যে ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করেছি তা আমাকে অভিভূত করেছে-বলেন ওবামা। তিনি বলেন, এটি আমার পরম সৌভাগ্য যে আপনাদের জন্যে কিছু করার সুযোগ পেয়েছি। তবে আমি থামবো না। সত্যি বলতে কি, আমি সব সময় আপনাদের পাশেই থাকবো। সিটিজেন হিসেবে, এ জাতির জন্যে করণীয় সবকিছু করে যাবো। এখন আপনারা যারা যৌবনে কিংবা বয়সে প্রবীন হলেও হৃদয়ে উদ্যম লালন করেন, আমি আপনাদের প্রতি আহবান রাখতে চাই, ৮ বছর আগে আপনারা যেভাবে আমার কাছে রেখেছিলেন। আমি আপনাদের আত্মবিশ্বাসী হতে বলছি, পরিবর্তনের যে ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে, তার প্রতি আস্থা রেখে নিজে এবং এ জাতিকে পরিবর্তনে সোচ্চার থাকুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: