12

Thursday, 23 February, 2017 | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
সুস্থ খাদিজা এখন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়  » «   বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার আদালত  » «   ডিজিটালের ছোয়া লাগেনি সিলেট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে  » «   নিরাপত্তা হেফাজতে সিলেটের আবিদা  » «   বাংলাদেশ উন্নতির মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে:অর্থমন্ত্রী  » «   নিবন্ধন নিয়ে সিলেটে বনপার জরুরী সভা  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন নবীগঞ্জের সেই ‘গৃহকর্মী’  » «   বিআরটিএ অফিসে দুদক আতঙ্ক!  » «   যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দেওয়া হলো না বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে  » «   সিলেটে দশদিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শুরু হচ্ছে আজ  » «   চুরি হতে পারে আপনার আঙুলের ছাপ!  » «   এ কেমন শ্রদ্ধা?  » «   আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সিসিক কাউন্সিলরদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  » «   বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল  » «  





একজন জেসমিন চৌধুরী ও তার-নিষিদ্ধ দিনলিপি

মিলু কাশেম: জেসমিন চৌধুরী আমার ফেইসবুক বন্ধু। ফেইস বুকে তার চমৎকার সাহসী উচ্চারণের জীবন ঘনিষ্ঠ লেখাগুলো পড়তে পড়তে আমি তাকে চিনেছি জেনেছি।আমি তার লেখার মুগ্ধ পাঠক।
জেসমিনের নিজের জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের জীবনবোধ সম্পন্ন অনুভূতির গল্প পাঠককে সহজেই
আকৃষ্ট করে। সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই “নিষিদ্ধ দিনলিপি”র অনেকগুলো লেখা আমি মুগ্ধ হয়ে পড়েছি।
w1যেমন তার বিষয়বস্তু তেমনি প্রাঞ্জল ভাষায় সহজ সরলতার বর্ণনা। পড়া শুরু করলে শেষ না করে পারা যায় না।পাঠক কে ধরে রাখার মতো ঘটনা প্রবাহের চমৎকার ধারাবাহিকতা আছে প্রতিটি লেখায়।।
বিভিন্ন বিষয়ের উপর সম্ভবত ৪০টি ভিন্নধর্মী লেখা আছে তার বইটিতে।লেখাগুলো ঠিক প্রবন্ধ বা গল্প নয়।সবগুলো তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার স্মৃতি-গদ্য, কল্পনার কোন ছোঁয়া নেই।জেসমিন তার লেখায় বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি ও সমস্যা, নারীর লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা এবং নির্যাতনের কথা নিজের
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সাহসের সাথে কোন ভনিতা ছাড়াই তুলে ধরেছেন। বাস্তবতা থেকে উঠে আসা লেখাগুলোতে নারী,শিশু ও সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের কথার পাশাপাশি শিশু ও নারীর প্রতি যৌন লাঞ্ছনা ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রফুটে উঠেছে নিপুন হাতে।

সহজ সরল ভাষায় নিজের যাপিত জীবন ও কর্মক্ষেএে লব্ধ অভিজ্ঞতার ফসল তার নিষিদ্ধ দিনলিপি। তার লেখা পড়ে যেমন জেনেছি তার ব্যাক্তিজীবন ও পারিবারিক জীবনের অনেক না-জানা কথা, তেমনি দেখেছি তার প্রতিবাদী নারী-রূপ,  দৃঢ় মনোবল, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর অপার মাতৃস্নেহ। ‘নোরা একটি লাইট হাউসের নাম’ লেখাটি পড়ে জেনেছি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জেসমিনের জীবনে সাহসের বীজ ও মুক্ত চিন্তার চারা বপনকরে দেয়া অনন্য ভিনদেশি নারী “নোরা”র কথা।জেনেছি তার সমকামী বন্ধু মেলিনার জীবন সংগ্রামের কথা ‘আমার সমকামী বন্ধুরা’ লেখাটিতে। ‘একটি মৃত্যু এবং আমার স্বীকারোক্তি’ গল্পটিতে  তার বাসার কাজের ছেলে রাসেলের কথা পড়তে গিয়ে আমি নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। এই গল্পে জেসমিনকে দেখা গেছে অসাধারণ আবেগ প্রবণ এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন নারী রূপে।সর্বোপরি বইটির দু’টি লেখা ‘আমার লড়াকু বাবা’ এবং ‘কেমন বাবা কেমন মানুষ?’ লেখাটি পড়ে আমরা জেনেছি তার বাবা বীর মুক্তিযুদ্ধা প্রয়াত কর্নেলএ আর চৌধুরী ও তার পরিবারকে।

নিষিদ্ধ দিনলিপিতে বর্ণিত গল্প বা ঘটনা প্রবাহ জেসমিনের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া অবিশ্বাশ্য সব বাস্তব কাহিনী যা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।এরকম অভিজ্ঞতা বা ঘটনা আমাদের সমাজে অনেকের জীবনেইঅহরহ ঘটে কিন্তু জেসমিনের মত প্রতিবাদী বা সাহসী হয়ে উঠতে পারে না অনেকেই। এতোটা মানবিক মূল্যবোধ বা প্রতিবাদী মনোভাব চাইলেই অর্জন করাও যায় না।এখানেই জেসমিনের সার্থকতা।

তার বইটি প্রচলিত প্রবন্ধ বা গল্পের বই থেকে আলাদা।যদিও অধিকাংশ লেখায় নারীর প্রতি অবিচার,  অবহেলা, ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে তবুও সেই অর্থে তিনি কট্রর নারীবাদী লেখক নন। তিনি সামাজিক ব্যবস্থার অসঙ্গতি গুলো তুলে ধরেছেন নিজের মতো করে, পুরুষের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন না করেই। তার প্রতিবাদ মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। জীবন সংগ্রামে লিপ্ত মানুষ বিশেষ করে নারীদের সাহসও প্রেরণা জোগাবে তার লেখাগুলো।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান অসঙ্গতি ওঅনাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে জেসমিন তার লেখার মাধ্যমে নারী জাগরনে অগ্রনী ভূমিকা রাখবেন বলে আমি আশাবাদী।আমি জেসমিন চৌধুরীর ‘নিষিদ্ধ দিনলিপি ‘র বহুল প্রচার কামনা করছি।পাশাপাশি জীবন সংগ্রমে লিপ্ত নারীদের বইটি পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।লেখালেখিতে জেসমিনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।
—————
রিভিউ লেখকঃ  (কবি ও লেখক)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: