12

Thursday, 23 February, 2017 | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
সুস্থ খাদিজা এখন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়  » «   বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার আদালত  » «   ডিজিটালের ছোয়া লাগেনি সিলেট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে  » «   নিরাপত্তা হেফাজতে সিলেটের আবিদা  » «   বাংলাদেশ উন্নতির মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে:অর্থমন্ত্রী  » «   নিবন্ধন নিয়ে সিলেটে বনপার জরুরী সভা  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন নবীগঞ্জের সেই ‘গৃহকর্মী’  » «   বিআরটিএ অফিসে দুদক আতঙ্ক!  » «   যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দেওয়া হলো না বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে  » «   সিলেটে দশদিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শুরু হচ্ছে আজ  » «   চুরি হতে পারে আপনার আঙুলের ছাপ!  » «   এ কেমন শ্রদ্ধা?  » «   আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সিসিক কাউন্সিলরদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  » «   বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল  » «  





আজ বাহুবলের চাঞ্চল্যকর ৪ শিশু হত্যাকান্ডের ট্রাজেডি

w1জাকারিয়া চৌধুরী:বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ৪ শিশু হত্যাকান্ডের আজ এক বছর পূর্ণ হলো। হত্যাকান্ডের পর দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ৩ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার আশ্বাস দেয়া হলেও এক বছরে শেষ হয়নি বিচারকার্য। বিচারের অপেক্ষা করছে নিহত শিশুদের স্বজনরা। তাদের দাবি আসামীদের আত্মীয়-স্বজনরা এখনো তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আর আইনজীবীরা জানিয়েছেন বিচারক সংকট ও তিন আসামী পলাতক থাকার কারণে বিচারকার্য বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য্য শেষ হবে। ২০১৬ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি বিকালে খেলাধুলা করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার পুত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজ এর পুত্র তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার পুত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদির এর পুত্র ইসমাঈল হোসেন (১০)। নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুদেরকে না পাওয়ায় পর দিন নিখোঁজ মনিরের পিতা বাহুবল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। নিখোঁজের ৫ দিন পর আজকের এই দিনে গ্রামের পাশ্ববর্তী ইচাবিল নামক স্থানে মাটিচাপা অবস্থায় তাদের লাশের সন্ধান পায় এলাকার কিছু শ্রমিক। লাশের খবর পেয়ে একে একে চারটি লাশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে। তবে গ্রাম্য পঞ্চায়েত এর জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছিল। ওই গ্রামের কাজল মিয়ার সাথে আব্দুল আলী বাগালের বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। নিহত শিশুদের পিতা ও পরিবার কাজল মিয়ার পক্ষ নেয়। এর জের ধরেই ৪ শিশুকে নির্মম ভাবে হত্যা করে পাষন্ডরা। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন বিকেলে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগালকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আব্দুল আলীর দুই ছেলেসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে বশির মিয়া ও সালেহ আহমেদকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রধান অভিযুক্ত বাচ্চু র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়। কারাগারে আটক ৫ জন হলেন, আব্দুল আলী বাগাল, তার ছেলে রুবেল মিয়া, জুয়েল মিয়া, ভাতিজা হাবিবুর রহমান আরজু এবং ছায়েদ মিয়া। অপর আসামী বিলাল মিয়া, উস্তার ও বাবুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। এরমধ্যে আব্দুল আলীর দুই ছেলেসহ ৪ জন নিজেকে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে একই বছরের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন মামলার তদন্ত করে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারক না থাকায় মামলাটি স্থানান্তর করা হয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। তারপর থেকে সেখানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বর্তমানে মামলায় ৫৭ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৩২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এদিকে, দীর্ঘ এক বছরেও পলাতক তিন আসামী বিলাল মিয়া, উস্তার মিয়া ও বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার না করায় হতাশা বিরাজ করছে নিহতের পরিবারের মধ্যে। এমনকি তাদেরকে আধ্য গ্রেফতার করতে পারবে কি-না এ নিয়েও শংসয় বিরাজ করছে তাদের মনে। নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন আসামীপক্ষের লোকজনের অব্যাহত হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন।

মামলার বাদী নিহত শিশু মনিরের পিতা আব্দাল মিয়া জানান, প্রথম দিকে ৯০ দিনের মধ্যে বিচারের আশ্বাস দিলেও এক বছরের বিচার শেষ হয়নি। তিনি বলে আমরা যখন আদালতে যায় আসামী পক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে আমাদের হত্যাসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

নিহত তাজেলের পিতা আব্দুল আজিজ জানান, ৩ মাসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার আশ্বাস দিলেও এক বছরে শেষ হয়নি। তিনি বলেন আমাদের দাবী একটাই এখন দ্রুত বিচারকার্য শেষ করা। বিচারে ঘাতকদের ফাঁসি দেয়া হলে আমাদের শিশুদের আত্মাশান্তি পাবে। এছাড়া পলাতক আসামীদের হুমকিতে আমরা রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারছি না।

মামলা বাদীপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন জানান, ‘বিচারক সংকট ও আসামীদের আইনজীবি দেশে না থাকায় ও তিনজন আসামী পলাতক থাকায় মামলা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাঁকি স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারকার্য সমাপ্ত হবে। আসামীদের সর্Ÿোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র সাংবাদিকদের জানান, পলাতক আসামীদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। আশা করছি উন্নত টেকনলজি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে শীঘ্রই গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: