12

Thursday, 23 February, 2017 | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
সুস্থ খাদিজা এখন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়  » «   বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার আদালত  » «   ডিজিটালের ছোয়া লাগেনি সিলেট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে  » «   নিরাপত্তা হেফাজতে সিলেটের আবিদা  » «   বাংলাদেশ উন্নতির মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে:অর্থমন্ত্রী  » «   নিবন্ধন নিয়ে সিলেটে বনপার জরুরী সভা  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন নবীগঞ্জের সেই ‘গৃহকর্মী’  » «   বিআরটিএ অফিসে দুদক আতঙ্ক!  » «   যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দেওয়া হলো না বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে  » «   সিলেটে দশদিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শুরু হচ্ছে আজ  » «   চুরি হতে পারে আপনার আঙুলের ছাপ!  » «   এ কেমন শ্রদ্ধা?  » «   আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সিসিক কাউন্সিলরদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  » «   বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল  » «  





গবেষণাপত্র জালিয়াতির করে শাবি শিক্ষকের পদোন্নতির চেষ্টা

w1দৈনিকসিলেটডটকম:গবেষণাপত্র জালিয়াতি করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিন অধ্যাপক পদে পদোন্নতির চেষ্ঠা করছেন। জার্মানির দুই গবেষকের গবেষণা পত্র নকল করে নিজের নামে ‘বাংলাদেশ ই জার্নাল অব সোসিওলজি’ নামক জার্নালে ছাপিয়েছেন ওই শিক্ষক। জালিয়াতি করা গবেষণা দিয়ে ওই শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আবার একই গবেষণা পত্র দিয়ে গত ডিসেম্বর মাসে অধ্যাপক পদে পদোন্নাতির জন্য আবেদন করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ফারুক উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ^বিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর গত ১৮ জানয়ারি একটি চিঠি দিয়েছেন শাবির সেন্টার অব এক্সিলেন্সের পরিচালক প্রফেসর ড. আখতারুল ইসলাম। গবেষণা পত্রে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় শাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদের এক্সপার্ট ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়র ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি জানতে চেয়ে ফারুক উদ্দিনকেও একটি চিঠি দিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিনের লেখা ‘বাংলাদেশ ই জার্নাল অব সোসিওলজি’ নামক জার্নালে ২০১২ সালের ৯ নং ভলিউমের ৭-৮ পৃষ্ঠায় Application of Fuzzy Logic in Sociological Research : an Instance of Potential Payoff’ নামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। জার্মানির Lars winter I Thomas ও Kron নামের দুই জন লেখক ২০০৯ সালে’  ‘Fuzzy Thinking of Society’ নামে একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। যা জার্মানির Spring Berlin I Heidelber থেকে প্রকাশিত হয়। এই দুই লেখকের প্রকাশিত ‘Views of Fuzzy Sets and Systems’ গ্রন্থের ৩০১ থেকে ৩২০ পৃষ্ঠায় ‘ Fuzzy Thinking of Society’ নামে যে আপর্টিকেল লিখেছিলেন, সেই আর্টিকেলের অধিকাংশ লেখার সাথে ফারুক উদ্দিনের লেখার হুবহু মিল রয়েছে।
প্রকাশিত জার্নালে দেখা যায়, ফারুক উদ্দিনের Introduction পয়েন্টের ২য় অনুচ্ছেদের প্রথম ৯ লাইন Lars winter ও Thomas Kron নামক এই দুই লেখকের ১১ লাইনের হুবহু মিল রয়েছে। Lars winter ও Thomas Kron নামক এই দুই লেখকের ‘Fuzzy Fundamental for Social Scientist’ অনুচ্ছেদের প্রথম ৫৫ লাইন থেকে ফারুক উদ্দিন ‘Fuzzy Principles for Social Scientist’ নামক লেখাতে ১ থেকে ৪১ লাইন পর্যন্ত হুবহু নকল বা চুরি করেন। অন্যের গবেষণা পত্র নকল করে হুবহু লিখলে সেটা প্লেজিয়ারিজম বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্লেজিয়ারিজম প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন একজন সিন্ডিকেট সদস্য। নাম প্রকাশ করার না শর্তে বিশ^বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি তোলা হবে। প্লেজিয়ারিজম প্রমাণিত হলে কোন শিক্ষকের চাকরি থাকার কথা না। পদের অবনতি দেয়ারও বিধান রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক উদ্দিনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদের এক্সপার্ট ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়র ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত আছি। আমি বাছাই বোর্ডের এক্সপার্ট হওয়ায় এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারছি না। এই ব্যাপারে তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
শাবির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিনকে একটা চিঠি দেয়া হয়েছিল। চিঠির জবাবে ফারুক উদ্দিন একটি ব্যাখা দিয়েছেন। বিষয়টির পর্যালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: