12

Thursday, 23 February, 2017 | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |
সংবাদ শিরোনাম
সুস্থ খাদিজা এখন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়  » «   বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার আদালত  » «   ডিজিটালের ছোয়া লাগেনি সিলেট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে  » «   নিরাপত্তা হেফাজতে সিলেটের আবিদা  » «   বাংলাদেশ উন্নতির মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে:অর্থমন্ত্রী  » «   নিবন্ধন নিয়ে সিলেটে বনপার জরুরী সভা  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন নবীগঞ্জের সেই ‘গৃহকর্মী’  » «   বিআরটিএ অফিসে দুদক আতঙ্ক!  » «   যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দেওয়া হলো না বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে  » «   সিলেটে দশদিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শুরু হচ্ছে আজ  » «   চুরি হতে পারে আপনার আঙুলের ছাপ!  » «   এ কেমন শ্রদ্ধা?  » «   আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সিসিক কাউন্সিলরদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  » «   বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল  » «  





কানাইঘাটে আধিপত্য বিস্তারে ব্যাস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

w1কানাইঘাট প্রতিনিধি: কানাইঘাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষরা আধিপত্য বিস্তারে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে তাদের গ্রুপিং যেন ছাত্র রাজনীতির মত। কানাইঘাট উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষরা অধিপত্য বিস্তারের জন্য একের পর এক তিনটি সমিতি গড়ে তুলেছেন। প্রথমে কানাইঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি নামে একটি সমিতি ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকায় পরবর্তী সময়ে কানাইঘাট সহকারী শিক্ষক সমিতি নামে আরেকটি সমিতি আত্মপ্রকাশ করে। গত কয়েক মাস পুর্বে নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে কানাইঘাট সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নামে আরেকটি সমিতি গঠন করা হয়। নিজ নিজ  সমিতি গুলো শক্তিশালী করতে তাদের মধ্যে দেখা দেয় আধিপত্যের লড়াই। এতে করে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠ দান ব্যাহত হচ্ছে। যার কারনে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারী  উপজেলা সহকারী ভার-প্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবকে তার কার্যালয়ে ডেকে এনে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে যেন কোন শিক্ষককে অফিস পাড়ায় না দেখা যায় এ বিষয়ে চিটি ইস্যু করে শিক্ষকদের সাবধান করতে উপজেলা ভার-প্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারকে তিনি নির্দেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে শিক্ষক বদলী, নানা প্রশিক্ষণ, প্রশ্ন পত্র তৈরী সহ আর্থিক সুবিদা ভোগে নেতৃত্বে আসার জন্য এসব সমিতি গড়ে তুলছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব কানাইঘাটে অবস্থান করায় তিনি বেশির ভাগ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানেও তিনি এ পদে রয়েছেন। এই সুযোগ নিয়ে উজান বীরদল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস শুক্কুর বিদ্যালয় ফাকিঁ দিয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অত্যান্ত দাপটের সহিত কাজ করতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান তাদের বেতন ভাতা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে ছাড় করণে আব্দুস শুক্কুরকে মোটা অংকের উৎকোচ দিতে হয়। অপর দিকে পর্বতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রশিদ আহমদ বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সব সময় শিক্ষা অফিসে কাজ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণাবালা দাসের মুল কর্মস্থল কানাইঘাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক মুল কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন বলে শিক্ষক ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য উপজেলার ১২৩টি বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার করে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। উক্ত টাকা গুলো যে খ্যাতে ব্যায় করা হয় তার একটি তালিকা শিক্ষা অফিসসহ প্রতিটি বিদ্যালয়ে টানানো কথা থাকলেও ইহা কোথাও দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী ভার-প্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি অচিরেই তালিকা তৈরী করে লাগিয়ে দেব এবং শিক্ষকদের বলে দেব। এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে আন্তঃ বিদ্যালয় ক্রিড়া প্রতিযোগীতার কথা থাকলে তা করা হয়নি। শুধু মাত্র প্রতিযোগীতাটি বিল ভাউচারে সীমাদ্ধ থাকে। এমনকি উত্তর ভাউর ভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামীয় কোন সাইন বোর্ড পর্যন্ত নেই, ইহা দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই যে,এটি কোন বিদ্যালয়। উপজেলা সহকারী ভার-প্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুবের স্ত্রী লুৎফা বেগম রায়গড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকরী করলেও তিনি প্রায় অনুপস্থিত থাকেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিলাল আহমদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Developed by: