৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির পথে ছেড়ে যাওয়া চারটি বোটের তিনটি গন্তব্যে পৌছালেও একটির সন্ধান এখনো পাওয়া যায় নি। নিখোঁজ ওই বোটে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩৮ জন স্বপ্নবাজ তরুণ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা সবাই হাসান আশরাফ ওরুফে শামায়ূন নামের একজন আদম বেপারির মারফতে ইতালির উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে লিবিয়ায় পাড়ি জমান।
নিখোঁজদের মধ্যে চারজন হলেন—হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা তলাবপাড়া মহল্লার আলফাজ মিয়া রনি (২১), মোজাক্কির আহমেদ (২১), সিয়াম জমাদার (২১) ও মিজান আহমেদ (২০)। অন্য ৩৪ জন হবিগঞ্জ সদরের উমেদনগর, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ ও জলসুখা এবং বানিয়াচং উপজেলার তারাসই গ্রামের বাসিন্দা।
নিখোঁজ আলফাজ মিয়া রনির বড় ভাই মনির মিয়া বলেছেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চারটি নৌকা রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি নৌকায় হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৭০ জন ছিলেন। সেই নৌকাটিই নিখোঁজ হয়েছে। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছেছে।
সূত্র জানায়, কয়েক মাসের ব্যবধানে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে তরুণদের ইতালি পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন শামায়ুন ওরুফে হাসান আশরাফ (২৮)। সাধারণ মানুষের চোখে হয়ে ওঠেন তিনি একজন দক্ষ আদম বেপারি। হবিগঞ্জ সদর,বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় হাজারের কাছাকাছি লোক ইতালি পাঠিয়ে অল্প দিনেই কোটি টাকার মালিক হন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে লিবিয়া প্রবাসী এই শামায়ুন। বিদেশ দালালির অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের চোখে এতোটাই ধূলো দিয়েছে যে, মানুষ মনে করে শামায়ূন মানেই ইতালি! কোনো দিক না তাকিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তব করতে অন্ধ বিশ্বাসে তার নিজস্ব লোক রোমান, সোহাগদের হাতে ১৭/১৮ লাখ টাকা করে এডভান্স গুনে দিয়ে ইতালির স্বপ্ন বাস্তব করতে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তরুণরা। দালালির দৌরাত্বে এবার খোলা কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাজ।
বোট নিখোঁজের ঘটনায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন দালাল শামায়ূন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় বানিয়াচং বড় বাজারের বাসিন্দা তরুণ ব্যাবসায়ী শাহ রবিন (২৪) একই সাথে নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের লোকজনদের ধারণা রবিন নিখোঁজ হওয়া ওই বোটে থাকতে পারেন। এ ছাড়াও ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন পরিবারের অসংখ্য তরুণ।
