চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দাঁড়ান: স্কপ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা ও করিডোর দেওয়ার অপতৎপরতা বন্ধ,আইএলও কনভেনশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন কর,স্হায়ী কাজে অস্হায়ী ও আউটসোর্সিং নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল,জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার ঘোষণা, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ স্কপের ৯ দফা দাবিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ, সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ‌।

বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকাল ৫টায় কোর্ট পয়েন্টে সিলেট জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল জেলা আহ্বায়ক হাজী সুরমান আলীর সভাপতিত্বে ও স্কপ সদস্য সচিব, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর জেলা সভাপতি আবু জাফর এর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক প্রণব জ্যোতি পাল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক চান মিয়া,ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছাদেক মিয়া, প্রমূখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আব্দুল লতিফ খান, সোহেল মিয়া,জামাল আহমদ, রাসেল আহমেদ,রাকু আহমদ, সাইদুর, বদরুল ইসলাম, শিপন আহমদ,অপু চৌধুরী, আক্তার হোসেন, শাহজাহান, বাবুল আহমদ, জাবেদ আহমদ, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমদ প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বছওে ১১ লাখ কন্টেইনার ওঠা-নামা করানোর। সেই টার্মিনালে গত অর্থবছরের ১৩ লাখ কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে, চলতি বছর শেষে এটি বেড়ে ১ দশমিক ৭০ মিলিয়নে (১৭ লাখ) চলে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্য দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে আর এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বন্দর আমাদের অর্থনীতির হ্রৎপিন্ডয় শুধু নয় একটি কৌশলগত স্থাপনা। আর অভিজ্ঞতা বলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বৈদেশিক বিনিয়োগের নামে কৌশলগত খাতগুলোতে বেসরকারীকরণে উৎসাহ দিচ্ছে, যা অনেক সময় জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির চাহিদা পুরণে বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশপ্রেম নয় বরং কাস্টমস প্রক্রিয়া, অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য পরিবহন ও গুদামজাতকরণসহ সমগ্র লজিস্টিকস শৃঙ্খলকে আধুনিক ও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশে বিদ্যমান উচ্চ অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে গতবছরের জুলাইয়ে শ্রমজীবী মানুষ বিদ্রোহ করেছে সর্বোচ্চ সংখ্যায় জীবন দিয়েছে। সেই রক্তের বিনিময়ে বৈষম্য বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সরকার গত একবছরে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে স্কপ উত্থাপিত ৯ দফা বাস্তবায়ন তথা আয় বৈষম্য কমানোর, শ্রমিকদের
জীবনযাপনের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তাপূরণের মতো আয় নিশ্চিত করার, চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং মালিক গোষ্টির তিব্র শ্রম শোষণ নির্বিঘ্ন করার বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আউটসোর্সিং-ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগের মত অমানবিক নীতি বিলুপ্ত না করে আরো প্রসারিত করছে। অথচ, এই প্রক্রিয়ায় সাথে আমলাতন্ত্রের দুর্ণীতির সিন্ডিকেট যুক্ত থাকার কথা বহুল প্রচলিত। সরকার শ্রম আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু, সেই সংশোধনিতে আই.এল.ও কনভেনশনসমূহের যথাযথ প্রতিফলন হবে কিনা, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহের প্রতিফলন হবে কিনা সে সম্পর্কে জাতীয় শ্রমিক প্রতিনিধিরা অন্ধকারে। বিগত সরকারের সময় প্রস্তুতকৃত সংশোধনী প্রস্তাব কে ভিত্তি ধরে শ্রম আইন সংশোধন করলে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের দাবি প্রতিফলিত হবেনা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন