- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

চীনের এই পুলিশ কুকুর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকা

চীনের শানডং প্রদেশের ওয়েইফাং শহরের জননিরাপত্তা ব্যুরোতে যুক্ত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সদস্য, করগি প্রজাতির কুকুর ‘ফু জাই’। ছোটখাটো শরীর আর দুষ্টু স্বভাবের জন্য করগিদের সাধারণত পুলিশি কাজে নেওয়া হয় না। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে ফু জাইয়ের ক্ষেত্রে। এখন সে পুরোপুরি প্রশিক্ষিত এক পুলিশ কুকুর।

পোষা কুকুর থেকে পুলিশের কুকুর
পার্কে খেলছিল ফু জাই, তখনই তার দিকে নজর পড়ে পুলিশ কুকুর প্রশিক্ষক ঝাও কিংশুয়াইয়ের। খেলা আর খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি কুকুরটির মধ্যে সম্ভাবনা খুঁজে পান। এরপর শুরু হয় প্রশিক্ষণ। খাবারের লোভেই শুরু, আবার সেটাই মাঝে মাঝে তার বিপদও ডেকে আনে।

সসেজের লোভে বোনাস গেল
টহলের সময় এক শিশুর হাত থেকে সসেজ ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে লুনার নিউ ইয়ার বা চন্দ্র বর্ষ উপলক্ষে পাওয়া খেলনা আর খাবারও বাজেয়াপ্ত করা হয়, কারণ কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিল এবং নিজের খাবারের পাত্রে প্রস্রাব করেছিল। যদিও এসব নিয়ে অনেকে মজা করলেও, ফু জাইয়ের প্রশিক্ষণ আরও কঠোর করা হয়েছে।

ছোট পা, বড় কাজ
করগিরা সাধারণত গরুদের হাটাতে ব্যবহৃত হতো। তবে প্রশিক্ষক ঝাও বলেন, “ফু জাইয়ের ছোট পা বরং কাজে এসেছে। সে এমন সব জায়গায় ঢুকতে পারে যেখানে বড় কুকুর পারে না। গাড়ির নিচে বা বাসের সিটের তলায় খোঁজাখুঁজি করতে ও পারদর্শী।”

পুলিশ বাহিনীর প্রচারণার মুখ
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে অফিসিয়ালি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয় ফু জাই। এরপর থেকেই সে জনপ্রিয়তা পায় ওয়েইফাং পুলিশের ‘ডউইন’ (চীনের টিকটক) অ্যাকাউন্টে। পুলিশের আলাদা একটি অ্যাকাউন্ট ‘ফু জাই অ্যান্ড হিজ কমরেডস’-এ তার অনুসারী এখন ৪ লাখের বেশি। ভিডিওতে দেখা যায়, সে ট্রেনিং করছে, উৎসবে টহল দিচ্ছে, এমনকি চশমা পরে মোটরসাইকেলেও ঘুরছে!

স্বাধীনচেতা হলেও দায়বদ্ধ
সিঙ্গাপুরের প্রশিক্ষক ভিভিয়ান চিন বলেন, “একজন ভালো পুলিশ কুকুরের স্বাধীনভাবে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হয়। খাবারের প্রতি লোভ থাকলেও তার প্রাকৃতিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস আর মনোযোগ তাকে বিশেষ করে তুলেছে।”

ফু জাইয়ের সাবেক মালিকও মাঝে মাঝে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে, এমনটাই দেখা যায় ভিডিওগুলোতে।

সামাজিক তারকা, বাহিনীর গর্ব
কাজে কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও, চীনের পুলিশ বাহিনী এখন ফু জাইকে একটি ‘বন্ধুবান্ধবী মুখ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উপস্থিতি পুলিশি কাজের মধ্যেই একরকম প্রচারণা তৈরি করেছে—যা সাধারণ মানুষকে আরও কাছে টেনে আনছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন