চা বাগানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করার জন্য দুই লাখ টাকা অনুদান পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপালী পাল।
ইয়ুথ ইনোভেশন ফান্ড-২০২৫ প্রকল্পের অধীনে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিসিএডি (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) এ অনুদান প্রদান করে বলেন জানান তিনি।
এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সংস্থাটি বাংলাদেশের ৩০ জনকে ইয়ুথ ক্লাইমেট ফেলো হিসেবে মনোনীত করেন। এরপর মার্চ মাসে এ প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি মনোনীত ফেলোদের থেকে জলবায়ু সম্পর্কিত প্রজেক্ট প্রস্তাবের আহ্বান করে। রুপালী পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আইসিসিসিএডি হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। যেটি বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অভিযোজন, নীতিনির্ধারণ ও যুব নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করে। এ সংস্থাটি ইয়ুথ ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট উত্তরণে কাজ করতে তরুণদের উদ্ভাবনী ও সমাজভিত্তিক জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে বলে জানান শিক্ষার্থী রুপালী।
রুপালী বলেন, “আমরা ৩০ জন মনোনীত ফেলো ২৪টি প্রজেক্ট জমা দেই। এর মধ্যে ৬টি প্রজেক্ট নির্বাচিত হয় এবং প্রতিটি প্রজেক্টে ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেয় সংস্থাটি।
দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা, প্রেক্ষাপট বোঝা, অন্তর্ভুক্তি ও নতুনত্ব, পদ্ধতির স্পষ্টতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব এ ছয়টি ইন্ডিকেটরের উপর ভিত্তি করে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রুপালী পাল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমার আগ্রহ ও মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তারা আমাকে এ প্রকল্পের ইনকিবেট ক্লাইমেট রিসিলেন্ট আইডিয়াস ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত করেন সংস্থাটি। এ প্রকল্পের আওতায় “এ ড্রামা এন্ড ডকুমেন্টেশন অন দ্যা ক্লাইমেট চেঞ্জ ইফেক্ট অন টি কমিউনিটি পিপল” শিরোনামে আমি একটি নাটক ও ডকুমেন্টারি বাস্তবায়নে কাজ করছি।”
নাটকটি হল পীপড়তলির আখ্যান নামে একটি পথনাট্য। যে নাটকটি রুপালীর নিজের লেখা ও পরিচালনায় নির্মিত। যেখানে উঠে এসেছে চা বাগান এলাকার মানুষের জীবন। নাটকে দেখা যায়- গ্রামবাসী তীব্র গরম, অকাল বন্যা, স্বাস্থ্য সংকট আর কুসংস্কারে বিপর্যস্ত। এক পর্যায়ে, ‘শুকুর মরণ’ নামে একটি কুসংস্কারের বলি হয় এক শ্রমিক, যে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়। সেই মৃত্যুই গ্রামে সচেতনতার সুর তোলে, তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠে জলবায়ু সহনশীলতা।
এ নাটকের প্রথম দুটি প্রদর্শনী ৬ জুলাই মৌলভীবাজারের পাত্রখোলা ও কুরমা চা বাগানে মঞ্চস্থ হয়েছে। এরপর ডিসেম্বরের মধ্যে শমশেরনগর, হাজারীবাগ, গোবিন্দপুর ও মদনমোহনপুর এ চারটি চা বাগানে বাকি প্রদর্শনীগুলো মঞ্চস্থ হবে জানান নাটকের নির্মাতা রুপালী।
এ ছাড়া এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুটি ডকুমেন্টারি( ভিডিও) চাম্পারাই ও তারাপাশা চা বাগানকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে। সেগুলোতে উঠে আসবে জলবায়ুর অভিঘাত, অভিযোজন প্রক্রিয়া এবং তরুণদের ভূমিকা।
ডকুমেন্টারিগুলো স্থানীয় স্কুল, ক্লাব, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের মনোযোগও আকর্ষণ করা যায় বলে জানান রুপালী।
রুপালী বলেন, “আমি নিজেই মৌলভীবাজারের একটি চা বাগানে বেড়ে ওঠা মেয়ে। সেই জায়গা থেকেই পথনাটকের মাধ্যমে চা বাগানের মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই আইডিয়াটা আমার মধ্যে এসেছে।”
