সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ইউএনও’র বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারবিহীন নিজের বাসার কেয়ারটেকার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজসহ বিভিন্ন অভিযোগ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি জামালগঞ্জ রিভারভিউ পার্ক উন্নয়ন, ভূমি অফিসের সামনে সৌন্দর্য বর্ধন ও পাবলিক লাইব্রেরীতে সৌন্দর্য বর্ধনসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজের বাসার কেয়ারটেকার দিয়ে কাজ করানোর মত সুনির্দিষ্ট উদাহরণসহ গুরতর অভিযোগে এনে মঙ্গলবার রাতে জুলাই বিপ্লব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সৈয়দ দ্বীন ইসলাম স্বপন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টকে লিখেন, স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো.. “প্রিয় জামালগঞ্জ উপজেলাবাসী আমাদের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মুশফীকিন নূরের মাধ্যমে ঠিকাদারবিহীন উনার ব্যক্তিগত কিছু লোক দিয়ে জামালগঞ্জের রিভারভিউ পার্ক, পাবলিক লাইব্রেরীসহ ভূমি অফিসের সামনের জায়গায় নিম্ন-মানের কাজ করা হচ্ছে। কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াই উনার ব্যক্তিগত কেয়ারটেকারদের দিয়ে এসব নিম্ন-মানের কাজ চলতে থাকলে জামালগঞ্জ উপজেলার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কালো মেঘ বয়ে আনবে। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই”। এই স্ট্যাটাসের পরপরই শেয়ার হয় বিভিন্ন আইডি থেকে। অসংখ্য মানুষ এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে কমেন্ট করেন। Md Al Imran নামে একজন কমেন্টে লিখেন, উনি জামালগঞ্জের সকল বাজেট একাই হাতিয়ে নিচ্ছে। সামান্য কাজের নাম করে মোটা বিল উত্তোলন করে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করা প্রয়োজন। এবং এই কর্মকর্তা জামালগঞ্জ থেকে বদলি হোক।
Hafej Ariful islam sorker নামে একজন লিখেন, যেখানে দুর্নীতি সেখানেই প্রতিবাদ। ধন্যবাদ তুমাকে দুর্নীতি তুলে ধরার জন্য।
Shuvo khan নামে একজন লিখেন, জামালগঞ্জের সহজ সরল মানুষ গুলারে এভাবেই ঠকিয়ে যাচ্চে দিনের পর দিন। কেউ যেন তা দেখার নাই।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহ্ জাহান বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। “একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ উঠে, তাহলে তদন্ত হওয়াটা জরুরি, নইলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে।” তাছাড়া জামালগঞ্জ উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের আমলে জামালগঞ্জে এসেছে। সারা দেশে সকল ইউএনওদের বদলি করা হলেও আমাদের জামালগঞ্জে এখনো তাকে বদলী করা হচ্ছে না। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে তিনি এখনো বিভিন্ন ভাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি একাই ঠিকাদারবিহীন জামালগঞ্জের সকল উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে গত কয়েক মাস আগে ইউএনওর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তাকে বদলি করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফীকুন নূর বলেন, ‘নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। একলাখ টাকার নিচের প্রকল্পে কিভাবে ঠিকাদার নিয়োগ দেবো। কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
