একাদশ জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনকারী সিলেট বিভাগের চার মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর কারোই স্থান হয়নি নতুন মন্ত্রিসভায়। অর্থনৈতিক কূটনীতির এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রবক্তা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি’র মন্ত্রিসভায় স্থান না হবার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙ্গে সিলেট সদর থেকে কোন মন্ত্রী নিয়োগ না করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সিলেট অঞ্চলের জনমনে।
গত পাঁচটি বছর সরকারের স্থিতিশীলতা এবং ভাবমূর্তি উজ্বল করতে ড. এ কে আব্দুল মোমেন সততার সাথে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সংগ্রাম করেছেন। তিনি কখনও দেশের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ করেননি। দেশের এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রতিবেশিসহ অনেক শক্তিশালী দেশের বিরাগভাজন হয়েছেন। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিরোধী বিভিন্ন অপশক্তি যখন দেশকে খাদের কিনারে নিয়ে যেতে সচেষ্ট তখন ড. মোমেন তাঁর মেধা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তাদেরকে আটকে দিয়েছেন বহুবার।
সরকার বিরোধী ঝড় ঝাপ্টা তিনি সামাল দেন দক্ষতার সাথে।
এছাড়া সিলেটের উন্নয়নেও তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা মিথ বা প্রবাদ প্রচলিত আছে- ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার’। স্বাধীনতার পর এই পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দলই সরকার গঠন করেছে। ফলে সিলেট-১ আসন পরিচিতি পেয়েছে মর্যাদাকর একটি আসন হিসেবে। অখচ এই আসনে একজন মন্ত্রী নেই এটা সিলেটবাসী মেনে নিতে পারছে না।
বিএনপির ৯১ সরকারেরও টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম সাইফুর রহমান দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। ১৪ জুলাই ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিজয়ী হুমায়ূন রশীদকে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করে।
২০০১ সালে বিএনপি থেকে এই আসনে এমপি হয়ে সংসদে আসেন সাইফুর রহমান। বিএনপি ও জোট সরকারের মন্ত্রীসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই অর্থমন্ত্রী।
২০০৮ ও ১৪ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আবুল মাল স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে তার ভাই আব্দুল মোমেনকে প্রার্থী করেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী মোমেনকে শেখ হাসিনা সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন।
বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ধারণা করে ছিলো ড. একে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী না থাকলে অন্তত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন। কারণ তিনি একজন অর্থনীতিবিদও। তিনি সৌদি সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অত্যন্ত আস্থাশীল সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপির এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গর্বিত যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা এবং আন্তরিকতার সাথে সাধ্যমত পালন করেছে। অনেক প্রতিকূলতা এবং চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, আমি আমার পারফরম্যান্সের জন্য গর্বিত, এবং আমি সন্তুষ্ট কারণ দেশ ও বিদেশের বাংলাদেশিরা আমার পারফরম্যান্স এবং অবস্থান পছন্দ করেছে এবং আমি অনেক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমি আশা করি আমার অর্থনৈতিক কূটনীতি, আমার পাবলিক কূটনীতি এবং আমার প্রবর্তিত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্যাকেজগুলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।