আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ভিন্ন কৌশলে শিশুদের দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মাদক বিক্রি করাচ্ছে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকার মাদককারীরা। তারা তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা, শিমুল বাগান, লাউড়েরগড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ কারনে পর্যটন স্পষ্টগুলোর পাড়ে রাখা হাউসবোট গুলোতে বেড়েছে ভারতীয় মাদক কারবারিদের দৌড়ঝাঁপ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে ভারতীয় মদ নিয়ে একটি হাউসবোটে বিক্রি করতে এলে ছবি ও ভিডিও করায় পালিয়ে যায় এমন একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। ভিডিওতে দেখা গেছে একটি ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু মাদক বিক্রি করার সময় ভিডিও করায় শিশুটি পালিয়ে যায়। এছাড়াও একেই দিন বিকেলে উপজেলার ট্যাকেরঘাট এলাকা শহীদ সিরাজ লেক থেকে ট্যাকেরঘাট ফাঁড়ির পুলিশ দুই বোতল ভারতীয় মদসহ এক পর্যটন ট্যাকেরঘাট বাজার থেকে আটক করে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার রাজ বর্মন (২২)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শিশুসহ নানান বয়সী মানুষ সুনামগঞ্জ জেলা শহর, তাহিরপুর, মধ্যনগর উপজেলা থেকে হাউজবোড নিয়ে টাংগুয়ার হাওর সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পষ্টে। সকালে এসেই টাংগুয়ার হাওর যায়, পরে ট্যাকেরঘাট শহীদ সিরাজ লেক, লাকমাছড়া ও এর আশপাশে ঘুরে অবস্থান করে। আবার অমেকেই যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেকটিলা ঘুরে লাউড়েরগড় বাজার ঘাটে অবস্থান করে। মাদক ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের মাথা নষ্ট করে দেয়। আর আগত পর্যটকদের মধ্যে মাদকের চাহিদা থাকায় এসময় ট্যাকেরঘাট ও লাউড়েরগড় এলাকা সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মাদক কারবারিরা ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মাদক চোরাই পথে বাংলাদেশে আনে বিক্রি করছে। মাদক কারবারিরা নিজের নিরাপদ রাখতে লাউড়েরগড়ে শিশুদের দিয়ে ও টাংগুয়ার হাওরে, ট্যাকেরঘাটে ছোট ছোট নৌকায় মাদক বিক্রি করছে।
হাউজবোট চালকরা জানান, টাংগুয়ার হাওর ও ট্যাকেরঘাট এলাকা আসলেই ছোট ছোট নৌকায় করে পর্যটকদের বেড়ানোর কথা বলে আর ভারতীয় মাদক লাগবে কি না জানতে চায়। এরপর আগ্রহী পর্যটকরা পরে তাদের কাছ থেকে মাদক কিনে নেয়।
তাহিরপুর নৌ-পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রব্বানী বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, বারেকটিলা, শিমুল বাগানে রাতে ও দিনে হাউসবোট যাওয়ার পরে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের আড়াল করে ছোট ছোট শিশুদের ব্যবহার করছে। আমরা আছি বিপদের মধ্যে।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আটক পর্যটকের বিরুদ্ধে আইন গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পর্যটন স্পষ্ট গুলোর পরিবেশ ও সুনাম যারা নষ্ট করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে সেই সব মাদক কারবারি দের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
