হবিগঞ্জ-সিলেটের বাহুবল-নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ-১) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। মাঠে এখন মূলত সরব জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি মোঃ শাহজাহান আলী , কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও জেলা বিএনপি’র সদস্য মুখলিছুর রহমান ,প্রবাসী বিএনপি নেতা শাহ মোজাম্মেল হক নান্টু,নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র সাবির আহমদ চৌধুরী এবং সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। তবে তৃণমূলের নানা মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শাহজাহান আলী।
ফ্যাসিস্টদের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে ৭বারে জেল খেটেছেন প্রায় ২বছর, অর্ধশতাধিক মামলার আসামী,সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনেও জেলে বন্দী ছিলেন। জামায়তের শাহজাহান আলী মাঠে সক্রিয়। গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক,সালিশ বিচার ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন তিনি। তিনি স্থানীয় সভা-মিটিংয়ে বলেন, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষ আজ ন্যায্য অধিকারের জন্য পরিবর্তন চায়। আমি জয়লাভ করলে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দেব। দলীয় সূত্র বলছে, মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি ২০টি ইউনিয়নে টানা গণসংযোগ করেছেন, গোষ্ঠীগত বিরোধ নিরসনে কাজ করেছেন এবং জনগণের দাবিদাওয়া সরকারি দপ্তরে তুলে ধরেছেন। এতে তৃণমূলে তার প্রতি আস্থা বাড়ছে। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতিও। বাহুবলের চক্রামপুর গ্রামের প্রবীণ ভোটার আব্দুল হামিদ বলেন, শাহজাহান সাহেব মানুষের সঙ্গে মিশছেন,সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কথামতো কাজ করলে আমাদের গ্রামীণ জনপদে সত্যিই পরিবর্তন আসবে। রাউদাগাওয়ের কলেজছাত্রী মহিমা আক্তার বলেন, আমাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো দরকার। নতুন প্রার্থী হিসেবে শাহজাহান আলীর মধ্যে তরুণদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আমরা দেখতে পাচ্ছি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ছিদ্দিক আলী যোগ করেন, আমরা চাই পরিচ্ছন্ন রাজনীতি। জনগণের পাশে থাকা নেতা দরকার। শাহজাহান আলীর প্রতি তাই আস্থা বাড়ছে। খুব কম সময় ৭/৮ মাসের মধ্যে তিনি নবীগঞ্জ-বাহুবলের জনগণের মাঝে পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন; এছাড়া জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই তিনি বিশাল জনসভা করবেন, যা আসনজুড়ে তার শক্ত অবস্থান তুলে ধরবে।
বিএনপির অবস্থান: অন্যদিকে বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দশজনেরও বেশি। তাদের মধ্যে বাহুবলের মিরপুরের দিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা মুখলিছুর রহমান ইতিমধ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে তিনি চষে বেড়াছেন নবীগঞ্জ-বাহুবলের অলিগলি। করছেন পথসভা, উঠান বৈঠক। চালাচ্ছেন গণসংযোগ। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। মিশছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সাড়াও পাচ্ছেন বেশ। বিরোধ মিটিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি করেছেন ঐক্য,বাহুবল উপজেলার জনসাধারণের মধ্যে তার প্রতি ব্যাপক সাড়া লক্ষ করা যাচ্ছে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মুখলিছুর রহমান। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রদল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দলের সোহেল-বাবু কমিটির সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তখন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়ে যান। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও জেলা বিএনপি’র সদস্য মুখলিছুর রহমান। ইতিমধ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে তিনি চষে বেড়াছেন নবীগঞ্জ-বাহুবলের অলিগলি। করছেন পথসভা, উঠান বৈঠক। চালাচ্ছেন গণসংযোগ। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। মিশছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সাড়াও পাচ্ছেন বেশ। বিরোধ মিটিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি করেছেন ঐক্য। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মুখলিছুর রহমান। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রদল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দলের সোহেল-বাবু কমিটির সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তখন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়ে যান। ইলিয়াস আলী গুমের পর তার সহযোদ্ধা সৈয়দ শাহাদাতকে গুম করে হাসিনা সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটের শিকার হওয়ায় জীবন বাঁচাতে গোপনে দেশ ছেড়ে লন্ডন পাড়ি দেন। হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় বাবু-জুয়েল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর -স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির এক নম্বর সদস্য করা হয় তাকে। ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরেন ইলিয়াস আলীর এই ঘনিষ্ঠ সহচর। নিজ এলাকা বাহুবলে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মুখলিছুর রহমান বলেন, ওয়ান-ইলেভেনে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কাজ করেছি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী সবগুলো আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজধারী আছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। যাদের সঙ্গে এলাকার জনগণের সম্পর্ক আছেন তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে ধানের শীষের প্রতীক। আমি সেই লক্ষ্যে নবীগঞ্জ-বাহুবলের প্রতিটি এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি। দলের সুনাম যেভাবে বজায় থাকে সেভাবে আমি কাজ করছি। আশা করছি দলের হাইকমান্ড আমার কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।
এর মধ্যে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া রয়েছেন বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে বাহুবলে এগিয়ে মুখলিছুর রহমান ।
শেখ সুজাত মিয়া বলেন, আমি ২০১১ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছি। দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছি, আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তবে নবীগঞ্জ বাহুবলে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে বিভক্তি তৃণমূলে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফলে ভোটের মাঠে মখলিছুর রহমান ও সুজাত মিয়া সক্রিয় থাকলেও জনপ্রিয়তার পাল্লায় শাহজাহান আলী এখন এগিয়ে আছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। এ আসনে জামায়াত ও বিএনপির পাশাপাশি ইসলামি ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও সরব। আলোচনায় আছেন- অপরদিকে আলোচনায় রয়েছেন বাহুবলের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জাকী, তিনিও সভা মিটিং গণসংযোগ করছেন। রয়েছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী জেলা সেক্রেটারি মুফতি সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মুফতি তাজুল ইসলাম। এছাড়া নতুন দল এনসিপির পক্ষে আলোচনায় আছেন যুগ্ম সমন্বয়কারী পলাশ মাহমুদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি, আরিফ তালুকদার ও তুষার পাঠান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৬, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান বলেন, বিএনপির তৃণমূলের অনিশ্চয়তা, জামায়াতের সংগঠিত প্রস্তুতি ও এনসিপির আন্দোলনের চেতনা- এই তিনটি ফ্যাক্টরেই দাঁড়িয়ে আছে নির্বাচনী সমীকরণ। কে জিতবেন তা নির্ভর করবে দলীয় কৌশল ও মাঠের লড়াইয়ের ওপর।
বর্তমানে বাহুবলে তৃণমূলের সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী জামায়াতের শাহজাহান আলী। তবে বিএনপির মুখলিছুর রহমানও ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে সাড়া পাচ্ছেন। ফলে মাঠের লড়াই এখন দুই পক্ষেই জমে উঠছে। কে জিতবেন তা নির্ভর করবে দলীয় কৌশল, প্রার্থী চূড়ান্তকরণ ও জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে তৃণমূলে যে সাড়া মিলছে, তাতে শাহজাহান আলীই এখন আলোচনার কেন্দ্রে এবং তার জনপ্রিয়তা প্রতিদিনই বাড়ছে।
