আজ সেই পুণ্যতিথি, যেদিন জন্মগ্রহণ করেন এক প্রজ্ঞাবান, বিনীত ও ভক্তিভাবসম্পন্ন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব—সর্বেশ্বর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু।
২০০০ সালে ইসকন হবিগঞ্জ মন্দিরে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে।প্রথম দেখাতেই তাঁর সরলতা, গভীর ভক্তিভাব ও শুদ্ধ জীবনযাপন হৃদয় স্পর্শ করেছিল।তিনি ছিলেন এক জীবন্ত আদর্শ, যিনি বহু ভক্তকে কৃষ্ণভাবনামৃত জীবনের পথে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তিনি একজন মহৎ আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক যিনি ইসকনের অন্যতম প্রধান দীক্ষাগুরু শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের অন্যতম বিশ্বস্ত শিষ্য। গুরুমহারাজের প্রতি তাঁর গভীর ভক্তি ও সম্পূর্ণ সমর্পণ নজরকাড়া।এই গুরু-শিষ্য সম্পর্ক শুধু শিক্ষার নয়, প্রেমময় ও গুরুভক্তির এক অনন্য নিদর্শন।অনেক লীলা ও আধ্যাত্মিক কাহিনি জড়িয়ে আছে তাঁদের মধ্যকার গভীর সংযোগে, যা ভক্তসমাজে একটি প্রাণবন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল এলাকায় অবস্থিত শচিঅঙ্গণ মন্দিরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচারে হরিনাম সংকীর্তন হয়।এখানে আগত ভক্তবৃন্দ পায় আত্মিক প্রশান্তি, গভীর ধর্মীয় শিক্ষা এবং সেবা ও ভক্তিসাধনার অনুপ্রেরণা।
সর্বেশ্বর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী প্রভুর জীবন এক নীরব বিপ্লবের প্রতীক—যেখানে আত্মপ্রচার নয়, আত্মউৎসর্গই মুখ্য। তাঁর কীর্তন,হরিনাম জপ ও জীবনযাপন বহু ভক্ত ও অনুসারীর হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাঁর সরলতা ও আন্তরিকতা অসংখ্য মানুষের জীবনে আলো জ্বালিয়েছে, যাদের জীবন আজ পূর্ণ হয় ভক্তি ও প্রেমে।তিনি প্রমাণ করেছেন যে কৃষ্ণভক্তি ও নিয়োজিত সেবা জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। আজ তাঁর আবির্ভাব তিথিতে আমরা স্মরণ করছি এক মহান চরিত্রকে,যাঁর সান্নিধ্য আমাদের ভক্তি ও সেবার পথকে আলোকিত করেছে। তাঁর আশ্রয়ে এসে জীবনের প্রকৃত অর্থ ও গন্তব্য উপলব্ধি করতে পেরেছি—এটাই আমাদের জীবনের এক মহামূল্যবান প্রাপ্তি। শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই এই মহান আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শককে, যাঁর জীবন ও শিক্ষা আমাদের ভক্তিসাধনাকে করেছে অর্থবহ ও আলোকিত।
