
কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় জাল ভোট দিতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রিজাইডিং অফিসার কঠোর অবস্থানে থাকায় সুষ্ঠ ভোট হয়েছে সিলেট ৪ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় নারী ভোট কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে ২৭৯৪ ভোটার থাকলেও ভোট দিতে এসেছেন মাত্র ২৬২ জন ভোটার।
এ কেন্দ্রে মাত্র ৯ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে। এর আগে ভোটের দিন বেলা ১২টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় নারী ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম সহকারি রিটার্নিং অফিসার এবং সাংবাদিকদের জানান জাল ভোট দিতে না দেওয়ায় চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার দায়িত্বে থাকা এই ভোট কেন্দ্রে মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭ শত ৯৪ জন। বেলা ১২টা পর্যন্ত ২শত ভোট কাস্ট হয়েছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রে কোনো ভোটার নেই। এজন্য কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা তেরা মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অখিল চন্দ্র বিশ্বাস, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাজী আলাউদ্দিন সহ অনেক নেতা আমাকে চাপ দিচ্ছেন তাদেরকে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি সুযোগ দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনজিত কুমার চন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম আমাকে বিষয়টি অবগত করার সাথে সাথেই বিজিবি পাঠিয়েছি এবং সুষ্ঠ ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছি।
এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে সুশীল সমাজের সচেতন মানুষেরা বলছেন এই কেন্দ্রে যে ভোট পড়েছে সুষ্ঠ ভোট হলে এটাই হতো সারাদেশের চিত্র।
কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিজম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল জলিল বলেন, কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেছেন বলে আওয়ামীলীগ নেতারা বারবার হুমকি দিয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতাসীনদের ভয়ভীতিতে আতঙ্কিত ও বিচলিত না হয়ে মানুষের পবিত্র আমানত ভোটাধিকার রক্ষা করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় নারী ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, আমি কারো ভয়ভীতিতে বিচলিত না হয়ে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ২৭৯৪ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৬২ জন প্রকৃত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণের কাজে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন কোম্পানীগঞ্জের সহকারী রিটারিং কর্মকর্তা সুনজিত কুমার চন্দ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।